
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের আগে আলোচনায় রয়েছে বিরোধী দলের ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের ঘোষণা। তবে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন হলে সেটাকে বিএনপি স্বাগত জানাবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) গুলশান কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
শপথ গ্রহণের আগেরদিন সোমবারও (১৬ ফেব্রুয়ারি) নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বসিত উপস্থিতি ছিল বিএনপির গুলশান কার্যালয়ের সামনে। দুপুর ১টার কিছু আগে কার্যালয়ে আসেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য, মন্ত্রিপরিষদের শপথের পাশাপাশি এবার সংবিধান সংস্কার পরিষদ, বিরোধী জোটের ছায়া মন্ত্রিসভাসহ বিভিন্ন বিষয়ে থাকছে নতুনত্ব।
গুলশান কার্যালয়ের সামনে গণমাধ্যমের প্রশ্নে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্যদের শপথের ইস্যুতে তুলে ধরেন সাংবিধানিক ব্যাখ্যা। জানান, বিরোধী দলের ছায়া মন্ত্রিসভা হলে স্বাগত জানাবে তার দল।
তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছায়া মন্ত্রিসভা আছে; দেশেও এমন কিছু হলে ইতিবাচকভাবে দেখবে বিএনপি। এদিকে দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রত্যাশা দেশের স্বার্থে সংসদে গণতান্ত্রিক আচরণ করবে বিরোধী দল।
এর আগে রোববার ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের ঘোষণা দেন জামায়াত নেতা শিশির মনির ও এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ ঘোষণা দেয়ার পর রাজনীতির আলোচনার পালে নতুন হাওয়া লেগেছে।
বিশ্ব রাজনীতিতে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ ওয়েস্টমিনস্টার ধারার সংসদীয় ব্যবস্থা পরিচিত ধারণা। বিভিন্ন দেশে বিরোধী দলগুলো নিজেদের ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ ঘোষণা করে। এটি মূলত সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, সমালোচনা এবং বিকল্প নীতি প্রস্তাব দেয়ার জন্য গড়ে তোলা একটি কাঠামো।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ছায়া মন্ত্রিসভার ধারণা থেকে দেখা যায়, সাধারণত সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য বিরোধীদল থেকে একজন ‘ছায়া মন্ত্রী’ মনোনয়ন করা হয়। এই ছায়া মন্ত্রীদের কাজ হলো সরকারের নীতি ও বাজেট বিশ্লেষণ, সমালোচনা করা এবং প্রয়োজনে বিকল্প নীতি বা পরিকল্পনা উপস্থাপন করা। ছায়া মন্ত্রিসভা শুধু সরকারের সমালোচনা করার জন্য নয়। এটি বিরোধী দলের জন্য রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ এবং নির্বাচনের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।
আমার বার্তা/এমই

