ই-পেপার শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩

ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল ভান্ডারের নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আমার বার্তা অনলাইন:
২৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৩

ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে বড় তেল ভান্ডারের একটি বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ নিতে যুক্তরাষ্ট্র নজিরবিহীন উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে ৬ হাজার ৫০০ কোটির বেশি ব্যারেল প্রমাণিত তেল মজুতের ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর রয়টার্সের।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পিট হেগসেথের নেতৃত্বে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেসের সঙ্গে আলোচনার পর এ চুক্তি হয়েছে। এতে মার্কিন করদাতাদের কোনো অর্থ ব্যয় হবে না বলেও দাবি করেন তিনি।

চুক্তির বিস্তারিত কাঠামো অবশ্য প্রকাশ করেননি ট্রাম্প। কোন কোন তেলক্ষেত্র বা কোম্পানি এর আওতায় পড়ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে এসব তেল ভান্ডারের ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করবে, সে বিষয়েও কোনো স্পষ্টতা দেননি তিনি।

ভেনেজুয়েলার পক্ষ থেকে এ চুক্তিকে স্বাগত জানানো হয়েছে। দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেস বলেছেন, চুক্তির আওতায় ১৭টি কৌশলগত তেল ক্ষেত্রের উন্নয়নের মাধ্যমে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব হবে। এর ফলে সরকারের কর রাজস্ব প্রায় ২০ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে বলেও তিনি দাবি করেন।

রদ্রিগেস বলেন, এসব বিনিয়োগ শুধু দেশটির তেলশিল্পের পুনরুদ্ধার ও আধুনিকায়নেই সহায়তা করবে না, বরং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায়ও ভূমিকা রাখবে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চুক্তিটিকে দুই দেশের জন্যই লাভজনক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার দাবি, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র স্থিতিশীল ও কম দামের তেল পাবে, যা দেশটির জ্বালানি তেলের দাম কমাতে সহায়তা করতে পারে।

ভেনেজুয়েলার জন্য চুক্তিটি প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আনবে এবং হাজার হাজার উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে বলেও জানান রুবিও। তার মতে, এর মাধ্যমে দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনের পথও তৈরি হবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি নিরাপত্তা ও তেলের দাম কমানোর পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য রয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি প্রমাণিত তেলভান্ডার থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিনের কম বিনিয়োগ, অব্যবস্থাপনা ও নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির উৎপাদন সম্ভাবনার তুলনায় অনেক কম।

বর্তমানে ভেনেজুয়েলা প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন করে। দেশটির তেলশিল্প পুনরুজ্জীবিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগারগুলোর জন্য অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে ওয়াশিংটন।

তবে চুক্তিটির আইনি ও আর্থিক ভিত্তি নিয়ে এখনো বড় ধরনের প্রশ্ন রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিনিয়োগ আকর্ষণে চুক্তির প্রকৃত কাঠামো ও আইনি ভিত্তি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ডেভিড গোল্ডউইন প্রশ্ন তুলেছেন, ভেনেজুয়েলার সংবিধান ও নতুন হাইড্রোকার্বন আইনের আওতায় মার্কিন সরকারের তেলক্ষেত্র ইজারা নেওয়ার কোনো আইনি ভিত্তি আছে কি না। তার মতে, কোনো তেলক্ষেত্র পরিচালনার জন্য মার্কিন সরকারের ইজারা নেওয়ার এমন নজিরও নেই।

ভেনেজুয়েলায় দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, দুর্বল বিদ্যুৎ অবকাঠামো, সীমিত রপ্তানি সক্ষমতা এবং তেলশিল্পে সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ বিনিয়োগের পথে বড় বাধা হয়ে আছে। এসব সমস্যা সমাধান না হলে নতুন চুক্তি বাস্তবে কতটা বিনিয়োগ আনতে পারবে, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।

এদিকে ভেনেজুয়েলার ভারী অপরিশোধিত তেল উত্তোলন, পরিবহন ও পরিশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। ফলে চুক্তির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমেয়াদে জ্বালানি তেলের দাম কমবে কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।

১৯৭০-এর দশকে ভেনেজুয়েলা তার তেলশিল্প রাষ্ট্রীয়করণ করে। পরে প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজের আমলে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত যৌথ উদ্যোগে যেতে বাধ্য করা হয় এবং একপর্যায়ে এক্সনমোবিল ও কনোকোফিলিপসসহ কয়েকটি বিদেশি কোম্পানির সম্পদ অধিগ্রহণ করা হয়।

নিকোলাস মাদুরোর শাসনামলে দেশটির তেল উৎপাদন আরও দ্রুত কমে যায়। এখন ট্রাম্প প্রশাসন সেই শিল্প পুনরুজ্জীবিত করে ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর মার্কিন প্রভাব বাড়ানোর পাশাপাশি নিজেদের জ্বালানি বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। - সূত্র : রয়টার্স

ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে

বিশ্বের সবচেয়ে বড় জ্বালানি তেলের মজুত সমৃদ্ধ দেশ ভেনেজুয়েলার অন্তত ৬৫ বিলিয়ন (৬,৫০০ কোটি) ব্যারেল

নেপালে-তিব্বতে নিহত বেড়ে ৬৩৩, নিখোঁজ বেড়ে প্রায় ৩ হাজার

নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী জেলা রসুয়া এবং সীমান্তের অপর পাশে চীনের তিব্বত প্রদেশের গিরং জেলায় ভয়াবহ

মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়ে নজর রাখছে ভারত

মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ ঘিরে জোর রাজনৈতিক আলোচনার মধ্যে পুরো বিষয়ে চোখ রাখছে নয়াদিল্লি।

ইউক্রেনে প্রতি মাসে ৬ হাজার সেনা হারাচ্ছে রাশিয়া

ইউক্রেন যুদ্ধে প্রতি মাসে গড়ে ১০ হাজার করে সেনা হারাচ্ছে রাশিয়া। পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ ইউনিট, খোঁজ দিলে পুরস্কার ২ লাখ টাকা 

গজারিয়ার বাউশিয়ায় মাদকবিরোধী কর্মসূচির পর উদ্ধার হলো ৬টি গাঁজা গাছ

সন্ত্রাস দমনে সারাদেশে বিশেষ অভিযানের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

একমাস ধরে ডিমের দাম চড়া, বেড়েছে আরও কিছু পণ্যের দাম

নেপালের বন্যার পানি কি বাংলাদেশে আসবে, বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে

সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে খোঁজ রাখুন: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

নেপালে-তিব্বতে নিহত বেড়ে ৬৩৩, নিখোঁজ বেড়ে প্রায় ৩ হাজার

হাজার গোলের আরও কাছে রোনালদো, চার ম্যাচে চার জয় আল নাসরের

ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল ভান্ডারের নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, ৪ সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

মসজিদের কক্ষে মুয়াজ্জিনের মরদেহ, মৃত্যু ঘিরে রহস্য!

অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরে ম্যাকাই টেস্ট নিয়ে হতাশা প্রকাশ তালহার

দেশের বাজারে সপ্তাহের শুরুতেই কমলো সোনার দাম, কত টাকা ভরি

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৫০ কিলোমিটার যানজট, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

সংশোধিত তামাক আইন বাস্তবায়নে দ্রুত বিধিমালার দাবি

মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়ে নজর রাখছে ভারত

ইউক্রেনে প্রতি মাসে ৬ হাজার সেনা হারাচ্ছে রাশিয়া

নেপালে নিহত বেড়ে প্রায় ৬০০, নিখোঁজ প্রায় ২ হাজার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনে আগুন, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ