
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) আজ রোববার (৭ জুন) অনুষ্ঠিত হচ্ছে পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন। মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। ভোট গণনা শেষে সন্ধ্যায় পরিচালক পদে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে এবং একই দিনে সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
আট মাসের ব্যবধানে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে নেতৃত্বের পরিবর্তন ঘটলেও পরিস্থিতির বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন হয়নি। এবার নির্বাচনের কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে আছেন বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল। গত নির্বাচনে দায়িত্বে ছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
জাতীয় দলের দুই সাবেক অধিনায়কের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত দুটি নির্বাচনের মধ্যে পার্থক্য কেবল ভেন্যুতে—একটি হয়েছিল রাজধানীর পাঁচ তারকা হোটেলে, আর এবার হচ্ছে মিরপুরের বিসিবি কার্যালয়ে।
নির্বাচন ঘিরে স্টেডিয়াম এলাকায় আলোকসজ্জা, ব্যানার ও ফেস্টুন থাকলেও মাঠের পরিবেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতার তেমন কোনো উত্তেজনা নেই। ভোটগ্রহণ ও ফল ঘোষণাকে অনেকেই পূর্বনির্ধারিত চিত্রনাট্য বলেই মনে করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, এবারের নির্বাচনে প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমিত রাখা হয়েছে এবং ফলাফল আগেই অনেকাংশে নির্ধারিত হয়ে গেছে।
বিসিবির মোট ২৫টি পরিচালকের মধ্যে ইতোমধ্যে ৮ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন এবং আরও ২ জন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মনোনয়নে যুক্ত হবেন। ফলে আজকের ভোটে নির্ধারিত হবে মাত্র ১৫টি পরিচালক পদ। এই অবস্থায় নির্বাচনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে ক্যাটাগরি–২ বা ক্লাব পর্যায়ে, যেখানে ১২টি পদের বিপরীতে ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যেও কয়েকজনের জয় প্রায় নিশ্চিত বলে আলোচনা রয়েছে।
ক্যাটাগরি–১ অর্থাৎ জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা পর্যায়েও অধিকাংশ পদ আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পূরণ হয়ে গেছে। শুধু খুলনা ও বরিশাল বিভাগে সীমিত পরিসরে ভোট হচ্ছে। একইভাবে ক্যাটাগরি–৩ থেকেও একজন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাচন ঘিরে প্রার্থীদের একটি বড় অংশের সঙ্গে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রভাবশালী পরিবারের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন বিভাগের কয়েকজন প্রার্থীর সঙ্গে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক পরিবারের সম্পর্ক রয়েছে বলে জানা গেছে।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৮৪ জন। এর মধ্যে জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার ৬৬ জন, ক্লাব ক্যাটাগরির ৭৬ জন এবং অন্যান্য ক্যাটাগরির ৪২ জন ভোটার রয়েছেন।
বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ২৫ জন পরিচালকের ভোটের মাধ্যমে সভাপতি ও দুই সহ-সভাপতি নির্বাচন করা হয়। ফলে আজকের নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন বোর্ডের নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে।
নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে রয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম। কমিশনের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, পুরো প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে। সব মিলিয়ে দীর্ঘ সময়ের এই নির্বাচনে মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তাপ না থাকায় এটি কার্যত একটি আনুষ্ঠানিকতার নির্বাচন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
আমার বার্তা /জেএইচ

