ই-পেপার বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩

হ্যাপি আর্থ ডে: আমাদের গ্রহ, আমাদের দায়িত্ব

রানা এস এম সোহেল:
২২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:১৯

প্রতি বছর ২২ এপ্রিল বিশ্বজুড়ে পালিত হয় Earth Day—একটি দিন, যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে পৃথিবী কেবল বসবাসের স্থান নয়, বরং আমাদের অস্তিত্বের ভিত্তি। পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়নের বার্তা ছড়িয়ে দিতে এই দিবসটির গুরুত্ব অপরিসীম।

এবছরের প্রতিপাদ্য হলোঃ “আমাদের শক্তি, আমাদের গ্রহ”। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে।

ইতিহাস ও প্রেক্ষাপটঃ

১৯৭০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো Gaylord Nelson-এর উদ্যোগে আর্থ ডে পালিত হয়। সে সময় শিল্পায়নের ফলে পরিবেশ দূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করছিল। এরপর ধীরে ধীরে এটি বিশ্বব্যাপী আন্দোলনে পরিণত হয়। বর্তমানে ১৯০টিরও বেশি দেশে এই দিনটি পালিত হয়, যেখানে কোটি কোটি মানুষ পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার করে।

কেন আর্থ ডে গুরুত্বপূর্ণঃ

আজ পৃথিবী নানা সংকটে জর্জরিত—বিশেষ করে Climate Change আমাদের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি। গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি, হিমবাহ গলন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং চরম আবহাওয়া আমাদের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করছে। পাশাপাশি Biodiversity Loss এবং Deforestation পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটঃ

বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও নদীভাঙন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুন্দরবনের মতো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী বনভূমি ঝুঁকির মুখে। Intergovernmental Panel on Climate Change-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

করণীয় কী?

আর্থ ডে কেবল একটি প্রতীকী দিন নয়; এটি কর্মের আহ্বান।

* বৃক্ষরোপণ ও বন সংরক্ষণ

* প্লাস্টিক ব্যবহার কমানো

* নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি

* পানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়

* পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন

সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষ—সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। পরিবেশবান্ধব নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।

তরুণদের ভূমিকাঃ

তরুণ প্রজন্মই ভবিষ্যতের নেতৃত্ব দেবে। তাদের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিবেশ শিক্ষা জোরদার করা জরুরি।

ধরিত্রী দিবসকে একটু ভিন্নভাবে দেখার উপায়ঃ

ধরিত্রী দিবসকে একদিনের ব্যাপার হিসেবে দেখা খুব সহজ। কিছু একটা পোস্ট করা, হয়তো একটা গাছ লাগানো, আর তারপর এগিয়ে যাওয়া।

কিন্তু আসল বিষয় হলো এর পরে কী হয়।

এটিকে বরং একটি আত্ম-পর্যালোচনা হিসেবে ভাবুন। একটু থেমে নিজেকে জিজ্ঞাসা করার মুহূর্ত: আমি কি যথেষ্ট করছি? আমি কি আরেকটু ভালো করতে পারি?

আপনাকে রাতারাতি আপনার পুরো জীবনধারা পাল্টে ফেলতে হবে না। শুধু কোনো এক জায়গা থেকে শুরু করুন। হয়তো একটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য ব্যাগ সাথে রাখুন। হয়তো একটু কম খাবার নষ্ট করুন। হয়তো শক্তি ব্যবহারের বিষয়ে আরও সচেতন হন।

ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো এমনিতেও বেশি স্থায়ী হয়।

এছাড়াও, প্রকৃতির সাথে পুনরায় সংযোগ স্থাপন করা সহায়ক হয়। আর না, এর জন্য কোনো বড় ভ্রমণের প্রয়োজন নেই। এমনকি একটি ছোট হাঁটা, গাছপালা, তাজা বাতাস বা শুধু আকাশের দিকে তাকানোও আপনাকে মনে করিয়ে দেয় যে আপনি কী রক্ষা করার চেষ্টা করছেন।

২০২৬ সালের ধরিত্রী দিবস শুধু কথা বলার জন্য নয় - এটি কাজ করার জন্য। এই গ্রহের একদিনের মনোযোগ প্রয়োজন নেই; এর সারা বছর ধরে যত্ন প্রয়োজন।

কিন্তু যদি একটি দিন লক্ষ লক্ষ মানুষকে, এমনকি সামান্য ভিন্নভাবেও, ভাবাতে পারে, তবে সেটাই একটা বেশ ভালো শুরু।

তাই আপনি কোনো বার্তা ভাগ করে নিন, জীবনযাত্রায় ছোট কোনো পরিবর্তন আনুন, বা আপনার চারপাশের পৃথিবীকে উপলব্ধি করার জন্য শুধু একটি মুহূর্ত নিন — সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ।

আপনাকে নিখুঁত হতে হবে না। শুধু গতকালের চেয়ে একটু ভালো হন। ধরিত্রী দিবসের মূল উদ্দেশ্য এটাই।

শেষ কথাঃ পৃথিবী আমাদের একমাত্র বাসস্থান। একে রক্ষা করা আমাদের নৈতিক ও অস্তিত্বগত দায়িত্ব। Earth Day আমাদের মনে করিয়ে দেয়—“আজ নয়, এখনই সময়”। ছোট ছোট উদ্যোগই বড় পরিবর্তনের পথ তৈরি করে। আসুন, আমরা সবাই মিলে একটি সবুজ, নিরাপদ ও টেকসই পৃথিবী গড়ে তুলি।

লেখকঃ উপ-সম্পাদক, দৈনিক আমার বার্তা এবং আবহাওয়া, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক লেখক

আমার বার্তা/রানা এস এম সোহেল/এমই

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ক্ষতিকর

বর্তমান যুগকে বলা হয় তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। এই যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ

ডিজিটাল যুগে লেখালেখির ভবিষ্যৎ: ক্যারিয়ার, উপার্জন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব

মানব সভ্যতার ইতিহাসে লেখালেখি একটি মৌলিক ও শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। প্রাচীন যুগে পাথরের ফলক,

শুধু অর্থ নয়- শারীরিক, মানসিক ও পারিবারিক সক্ষমতার সমন্বয় কেন অপরিহার্য

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম হলো হজ। এটি এমন একটি ইবাদত, যা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ-

স্মার্ট সিটি ধারণা: ঢাকার বাইরে নগর অর্থনীতি গড়া কি সম্ভব?

বাংলাদেশের অর্থনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মসংস্থানের প্রায় সব কেন্দ্রবিন্দু আজও ঢাকা। ফলে রাজধানী একদিকে
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পুলিশের ঊর্ধ্বতন ১৩ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাল সরকার

হ্যাপি আর্থ ডে: আমাদের গ্রহ, আমাদের দায়িত্ব

একজন অতিরিক্ত আইজিপিসহ ২৩ কর্মকর্তার রদবদল

চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নেই: নৌমন্ত্রী

১৪ বছরে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

বাবা-ছেলে মিলে শ্যালকের পরিবারের চারজনকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩ জন

সংসদ চাইলে পুরাতন ডিলার বাদ দিয়ে নতুন নিয়োগ দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

তনু হত্যা: ১০ বছর পর প্রথম গ্রেপ্তার ওয়ারেন্ট অফিসার ৩ দিনের রিমান্ডে

মোবাইল ইউনিটে গ্রামেই হবে হৃদরোগের জটিল চিকিৎসা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

জ্বালানি তেলের ঘাটতি নেই, দু-তিন দিনেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে: শ্রমমন্ত্রী

অব্যবহৃত ২০০ সরকারি ভবন হবে হাসপাতাল ও মাতৃসদন: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

হাসপাতালের সরঞ্জাম লুটে জড়িতরা যত বড়ই হোক গ্রেপ্তার করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশে আসছে পেপ্যাল, ২ লাখ ফ্রিল্যান্সার পাবেন পরিচয়পত্র: প্রধানমন্ত্রী

ট্যাক্স ফ্রি নয়, সরকারি মালিকানাধীন গাড়ি চেয়েছি: হাসনাত আবদুল্লাহ

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকা আমদানি করা হয়নি: প্রধানমন্ত্রী

হরমুজে তিনটি জাহাজে হামলা, দুটি জব্দ করার দাবি আইআরজিসির

ডোপ টেস্টে পজেটিভ, তদন্তের মুখে পাকিস্তানি ক্রিকেটার

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী হলেন জিয়াউদ্দিন হায়দার

ইবির আবাসিক হলে অপটিক্যাল ফাইবার স্থাপন শুরু, উদ্বোধন করলেন উপাচার্য

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়লেও সংলাপ ইস্যুতে এখনও সিদ্ধান্তহীন ইরান