
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও অর্জনকে কেন্দ্র করে যেন কেউ ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মতো জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকেও কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সংকীর্ণ স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর তথ্য ভবন মিলনায়তনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও অর্জনকে কেন্দ্র করে যেন কেউ কোনো ধরনের ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে যেমন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর লাভজনক প্রকল্পে পরিণত করা উচিত নয়, তেমনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকেও কোনো সংকীর্ণ রাজনৈতিক বা ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করা যাবে না।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সমাজে যখনই অন্যায় ও শোষণ বেড়েছে, তখনই জনগণ স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান সেই ধারাবাহিকতারই সর্বশেষ প্রকাশ।
তথ্যমন্ত্রী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে নানা ধরনের নির্যাতন ও অপমানের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে জনগণের ভালোবাসা নিয়ে তাঁর বিদায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
পরিবর্তনে আত্মত্যাগের ইতিহাস তুলে ধরলেন মির্জা ফখরুল
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে জনগণ যখনই পরিবর্তনের দাবি তুলেছে, তখনই তাদের প্রাণ দিতে হয়েছে। ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে জুলাই গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি পরিবর্তনের পেছনেই রয়েছে মানুষের আত্মত্যাগ।
মির্জা ফখরুল বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে দেশের তরুণরাই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শক্তি। শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনা, প্রশাসনিক সংস্কৃতি ও মানুষের চিন্তায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. শাহ আলম। এছাড়া বক্তব্য দেন প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি একেএম আব্দুল হাকিম, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর সম্পাদক মারুফ কামাল খান এবং জুলাইয়ের শহীদ মুগ্ধর ভাই মীর স্নিগ্ধ।
আমার বার্তা/এমই

