
বাংলাদেশ রেলওয়ের আয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেড়েছে এবং ভবিষ্যতে এটিকে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ রেলওয়ের মোট আয় হয়েছে ২ হাজার ৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আয় ছিল ১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রেলের আয় বেড়েছে ২২১ কোটি টাকার বেশি।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে রেলের ব্যয় এখনো আয়ের চেয়ে বেশি হওয়ায় সরকারকে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। তবে আয় বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ রেলওয়েকে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব হবে বলে সরকার আশাবাদী।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যগত কারণে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদ অধিবেশন প্রয়োজন এবং সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, সম্প্রতি তিনটি প্রতিষ্ঠানের তিনটি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সরকারি খাদ্যগুদামে ২৩ লাখ ৯৬ হাজার ৭৫৩ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য চলমান খোলা বাজারে বিক্রয় (ওএমএস) কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন ১ হাজার ১৯৫ মেট্রিক টন চাল এবং ১ হাজার ৪৪৩ মেট্রিক টন আটা ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতির আরও উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তুলে ধরে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার এবং খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা ও বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। নতুন হার অনুযায়ী বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্তরা মাসিক ৩০ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা পাবেন। এছাড়া চিকিৎসা ভাতা, বিজয় দিবস ও বাংলা নববর্ষ ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধাও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্তদের মাসিক সম্মানী ভাতা ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের মাসিক সম্মানী ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা ও বাংলা নববর্ষ ভাতাও বাড়ানো হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। এর ফলে শিল্প, আবাসিক গ্রাহক এবং সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
তিনি জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট মোকাবিলায় স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়াতে চতুর্থ ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। মালয়েশিয়া থেকে আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আমদানির সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। এছাড়া ভোলার গ্যাস স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি মূল ভূখণ্ডে সরবরাহের জন্য পাইপলাইনসহ বিভিন্ন পরিবহন ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, কৃষক কার্ড কর্মসূচির প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে এবং এ বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
আমার বার্তা/এমই

