
২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগে জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকে ইরান তার পরমাণু প্রকল্পজনিত কারণে উদ্ভূত সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান করার প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে উপস্থাপন করেছিল, কিন্তু সেই প্রস্তাব প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের কর্মকর্তারা ‘একদমই বুঝতে পারেননি’।
ট্রাম্পের পূর্বসূরি প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান এ মন্তব্য করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন সাংবাদিক জন স্টুয়ার্টের টক শো অনুষ্ঠান দ্য ডেইলি শো উইথ জন স্টুয়ার্টে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জ্যাক সুলিভান। ইরানের সাম্প্রতিক যুদ্ধ সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমরা ইরানে বোমা হামলা শুরু করার মাত্র কয়েক দিন আগে, জেনেভার বৈঠকে ইরানি কর্মকর্তারা একটি প্রস্তাব পেশ করে করেছিলেন। আমরা যদি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করতাম, তাহলে খুব সহজে এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে পরমাণু সমস্যার সমাধান করা যেতো।”
“এবং আমি যদ্দূর জানি, আমাদের আলোচকরা আসলে বুঝতেই পারেননি যে ইরান কী বলতে চাইছে। ফলে, তারা তা উপেক্ষা করেন এবং ইরানে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন।”
প্রসঙ্গত, ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘ দু’দশক ধরে দ্বন্দ্ব চলছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তখন থেকে এ দ্বন্দ্বের শুরু। সে সময় এ ইস্যুতে ওবামা প্রশাসনের প্রতিনিধি হিসেবে ইরানের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচির সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন সুলিভান।
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।
তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইতোমধ্যে নিহত হয়েছেন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি, সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ইরানের বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ধ্বংস কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ইতেমধ্যে ইরানে নিহত হয়েছেন ২ হাজারের বেশি মানুষ।
এদিকে সমানতালে হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্তর আরব আমিরাত, ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা শুরু করে ইরান, যা এখনও চলছে। - সূত্র : আলজাজিরা
আমার বার্তা/এমই

