ই-পেপার রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩

বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা: জাতীয় ও বৈশ্বিক চাহিদা পূরণে কতটা সক্ষম?

শামসুল আলম
১০ মে ২০২৬, ১০:১৭
আপডেট  : ১০ মে ২০২৬, ১০:৫৪

একটি জাতির উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার মূল ভিত্তি হলো তার শিক্ষা ব্যবস্থা। শিক্ষা শুধু ব্যক্তিগত উন্নতির পথ নয়; এটি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা, সামাজিক ন্যায়বিচার, উদ্ভাবনী সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রধান চালিকাশক্তি। আজকের বিশ্বে যে দেশ মানবসম্পদ উন্নয়নে এগিয়ে, সেই দেশই প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও কূটনীতিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে।

বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে শিক্ষাক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। স্বাধীনতার পর যেখানে সাক্ষরতার হার ছিল প্রায় ২০ শতাংশের নিচে, বর্তমানে তা ৭৫ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় নারী শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ বেড়েছে, ডিজিটাল শিক্ষা বিস্তৃত হয়েছে এবং উচ্চশিক্ষায় প্রবেশাধিকারের সুযোগ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই পরিমাণগত অগ্রগতির বিপরীতে গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে। বিশেষ করে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কি সত্যিই জাতীয় ও বৈশ্বিক চাহিদা পূরণ করতে পারছে—এ প্রশ্ন এখন নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ, অভিভাবক এবং তরুণ সমাজের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়।

প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্থান: প্রয়োজন না বাণিজ্যিক বিস্তার?

বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার চাহিদা দ্রুত বাড়তে থাকলেও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আসনের সংখ্যা সীমিত ছিল। এই বাস্তবতায় ১৯৯২ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন প্রণীত হয় এবং দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে দেশে ১১০টিরও বেশি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যেখানে প্রায় ৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট উচ্চশিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ এখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়নির্ভর।

এই খাত নিঃসন্দেহে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও শহুরে পরিবারের শিক্ষার্থীরা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ না পেলেও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে।

তবে প্রশ্ন উঠেছে—এই বিস্তার কতটা মানসম্পন্ন?

পত্র-পত্রিকায় প্রায়ই অভিযোগ উঠে যে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় “শিক্ষা প্রতিষ্ঠান” থেকে বেশি “ডিগ্রি ব্যবসা” প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। পর্যাপ্ত স্থায়ী ক্যাম্পাস, গবেষণাগার, মানসম্পন্ন শিক্ষক, গ্রন্থাগার ও গবেষণা সুবিধা ছাড়াই অনেক প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষাবিদদের একাংশ মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও “গুণগত মান নিশ্চিতকরণ” সেই অনুপাতে শক্তিশালী হয়নি।

ইতিবাচক অগ্রগতি: কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক অবস্থান

সব প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়কে একই মানদণ্ডে বিচার করলে বাস্তবতা পুরোপুরি ধরা পড়ে না। কিছু প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক মানে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ

এশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাংকিংয়ে স্থান পেয়েছে।এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক গ্র্যাজুয়েট বর্তমানে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি কোম্পানি, বহুজাতিক ব্যাংক, উন্নয়ন সংস্থা, এবং বিদেশি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন।

বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং খাতেও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।

কিন্তু সামগ্রিক বাস্তবতা কেন উদ্বেগজনক?

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা নিয়ে সবচেয়ে বড় সমালোচনা হলো—শিক্ষা ও চাকরির বাজারের মধ্যে বিশাল বৈষম্য।

দক্ষতার ঘাটতি: ডিগ্রি আছে, দক্ষতা নেই

বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েটদের একটি বড় অংশ শ্রমবাজারের উপযোগী নয়।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে:

* নিয়োগদাতাদের প্রায় ৪৭% মনে করেন গ্র্যাজুয়েটদের যোগাযোগ দক্ষতা দুর্বল।

* প্রায় ৬০% নিয়োগদাতা সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা নিয়ে অসন্তুষ্ট।

* তথ্যপ্রযুক্তি দক্ষতা ও বিশ্লেষণী চিন্তাশক্তিতেও বড় ঘাটতি রয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার সাধারণ বেকারত্বের তুলনায় বেশি। অর্থাৎ ডিগ্রিধারী তরুণ বাড়ছে, কিন্তু কর্মসংস্থানের উপযোগী দক্ষতা তৈরি হচ্ছে না।

মুখস্থনির্ভর শিক্ষা ও জিপিএ সংস্কৃতি

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হিসেবে মুখস্থনির্ভর শিক্ষাকে চিহ্নিত করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় অংশে এখনও:

* বক্তৃতানির্ভর পাঠদান,

* নোট মুখস্থ,

* পরীক্ষাকেন্দ্রিক মূল্যায়ন,

* এবং জিপিএ-কেন্দ্রিক প্রতিযোগিতা চালু রয়েছে।

ফলে শিক্ষার্থীরা:

* সমালোচনামূলক চিন্তা,

* সৃজনশীলতা,

* উদ্ভাবনী ক্ষমতা,

* নেতৃত্বগুণ,

* আলোচনা ও সমঝোতা দক্ষতা,

* এবং আবেগীয় বুদ্ধিমত্তায় পিছিয়ে পড়ছে।

সামাজিক মাধ্যমে তরুণদের একটি বড় অংশ প্রায়ই অভিযোগ করে—

“আমরা পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেতে শিখছি, কিন্তু বাস্তব জীবন মোকাবিলা করতে শিখছি না।”

গবেষণার দুর্বলতা: বৈশ্বিক র‍্যাংকিংয়ে পিছিয়ে পড়া

বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মূল শক্তি হলো গবেষণা ও উদ্ভাবন। অথচ বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা এখনও অত্যন্ত দুর্বল।

গবেষণা প্রকাশনার হার কিছুটা বাড়লেও:

* গবেষণার আন্তর্জাতিক প্রভাব,

* পেটেন্ট সৃষ্টি,

* উদ্ভাবনের বাণিজ্যিক ব্যবহার,

* এবং শিল্পখাতভিত্তিক গবেষণা এখনও সীমিত।

গবেষণার দুর্বলতার কারণ:

* কম গবেষণা বাজেট,

* আধুনিক গবেষণাগারের অভাব,

* দক্ষ গবেষকের সংকট,

* আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সীমাবদ্ধতা,

* এবং শক্তিশালী গবেষণা সংস্কৃতির অভাব।

ফলে আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও বাংলাদেশের প্রস্তুতি

বর্তমান বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল অর্থনীতির দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের “ভবিষ্যতের চাকরি” প্রতিবেদন অনুযায়ী আগামী দশকে বহু প্রচলিত চাকরি বিলুপ্ত হবে এবং নতুন দক্ষতাভিত্তিক চাকরি সৃষ্টি হবে।

যেসব দক্ষতার চাহিদা বাড়বে:

* কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক জ্ঞান,

* তথ্য বিশ্লেষণ,

* সাইবার নিরাপত্তা,

* ক্লাউড কম্পিউটিং,

* সবুজ প্রযুক্তি,

* ডিজিটাল বিপণন,

* সৃজনশীল সমস্যা সমাধান,

* এবং উদ্যোক্তা সক্ষমতা।

কিন্তু বাংলাদেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম এখনও পুরোনো ধ্যানধারণায় আটকে আছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে পুরোনো পাঠ্যসূচি বছরের পর বছর অপরিবর্তিত থাকে।

বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের দুর্বল সংযোগ

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার আরেকটি বড় সমস্যা হলো বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের দুর্বল সংযোগ। উন্নত দেশগুলোতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ, শিক্ষানবিশ কর্মসূচি, স্টার্টআপ সহায়তা কেন্দ্র, এবং করপোরেট সহযোগিতা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাংলাদেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টার্নশিপ কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ। ফলে শিক্ষার্থীরা বাস্তব কাজের পরিবেশ সম্পর্কে পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে না।

শিক্ষক সংকট ও মানগত চ্যালেঞ্জ

শিক্ষকদের মান ও প্রণোদনা শিক্ষার গুণগত মান নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কিন্তু অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে কম বেতন, খণ্ডকালীন শিক্ষকনির্ভরতা, গবেষণা সুবিধার অভাব, এবং অতিরিক্ত কাজের চাপ বড় সমস্যা।

অনেক তরুণ শিক্ষক উচ্চতর গবেষণা বা আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ছাড়াই শিক্ষকতায় যুক্ত হচ্ছেন। এর ফলে শিক্ষাদানের আধুনিক পদ্ধতি, গবেষণা সংস্কৃতি ও উদ্ভাবনী শিক্ষার পরিবেশ দুর্বল থাকে।

সামাজিক মাধ্যম কী বলছে?

সামাজিক মাধ্যম বর্তমানে তরুণ সমাজের অভিজ্ঞতা ও ক্ষোভের বড় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। ফেসবুক, রেডিট, লিংকডইন ও ইউটিউবে শিক্ষা নিয়ে আলোচনায় কয়েকটি বিষয় নিয়মিত উঠে আসে:

১. ডিগ্রির অবমূল্যায়ন

ডিগ্রির সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু চাকরির বাজারে মূল্য কমছে।

২. কোচিং-নির্ভরতা

মূল শিক্ষাব্যবস্থার উপর আস্থাহীনতার কারণে কোচিং-নির্ভরতা বেড়ে যাচ্ছে।

৩. ইংরেজি দক্ষতার ঘাটতি

অনেক গ্র্যাজুয়েট আন্তর্জাতিক মানের ইংরেজি যোগাযোগ দক্ষতায় পিছিয়ে।

৪. মানসিক চাপ বৃদ্ধি

চাকরির অনিশ্চয়তা, জিপিএ চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা তরুণদের মানসিক চাপে ফেলছে।

করণীয়: কোন পথে এগোতে হবে?

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যকর, আধুনিক ও বৈশ্বিক মানসম্পন্ন করতে হলে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সংস্কার জরুরি।

১. পাঠ্যক্রম আধুনিকায়ন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স, তথ্যবিজ্ঞান, জলবায়ু প্রযুক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং উদ্যোক্তা শিক্ষা বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

২. গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা

শুধু পাঠদানভিত্তিক নয়; গবেষণাকেন্দ্রিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে হবে।

৩. শিল্পখাতের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ

প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে:

* ইন্টার্নশিপ,

* শিল্পভিত্তিক প্রকল্প,

* স্টার্টআপ সহায়তা কেন্দ্র,

* ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং,

* এবং চাকরি সহায়তা সেল কার্যকর করতে হবে।

৪. শিক্ষক উন্নয়ন

* আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ,

* গবেষণা অনুদান,

* ফেলোশিপ,

* এবং কর্মদক্ষতাভিত্তিক পদোন্নতি চালু করতে হবে।

৫. কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা

সবাইকে অনার্স ডিগ্রির দিকে না ঠেলে:

* পলিটেকনিক শিক্ষা,

* ফলিত বিজ্ঞান,

* দক্ষতা সনদ,

* ফ্রিল্যান্সিং,

* এবং কারিগরি প্রশিক্ষণকে মর্যাদা দিতে হবে।

৬. মান নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতা

ইউজিসি ও অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। মানহীন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন।

৭. সফট স্কিল উন্নয়ন

শুধু জিপিএ নয়—

* যোগাযোগ দক্ষতা,

* দলগত কাজ,

* নেতৃত্ব,

* নৈতিকতা,

* আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা,

* আলোচনা দক্ষতা,

* এবং নাগরিক দায়িত্ববোধ শিক্ষার অংশ হতে হবে।

উপসংহার

বাংলাদেশের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় খাত একদিকে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বিস্তৃত করেছে, অন্যদিকে মানগত বৈষম্যও তৈরি করেছে। কিছু প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মানে এগোলেও অধিকাংশ এখনও জাতীয় ও বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে পুরোপুরি সক্ষম নয়।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার যুগে শুধু ডিগ্রি নয়—দক্ষতা, গবেষণা, উদ্ভাবন, নৈতিকতা ও মানবিক নেতৃত্বই হবে ভবিষ্যতের মূল শক্তি।

বাংলাদেশ যদি সত্যিকার অর্থে “জনসংখ্যাকে জনসম্পদে” রূপান্তর করতে চায়, তবে শিক্ষা ব্যবস্থাকে পরীক্ষাকেন্দ্রিকতা থেকে বের করে জ্ঞান, দক্ষতা, গবেষণা ও উদ্ভাবনকেন্দ্রিক রূপান্তরের পথে এগিয়ে যেতে হবে। কারণ আগামী পৃথিবীতে টিকে থাকবে সেই জাতি, যারা কেবল শিক্ষিত নয়—দক্ষ, সৃজনশীল, প্রযুক্তিবান্ধব এবং বৈশ্বিকভাবে প্রতিযোগিতাসক্ষম মানবসম্পদ গড়ে তুলতে পারবে।

লেখক : বিশ্লেষক ও লেখক, সিনিয়র সচিব।

মিয়ানমারের চিন ও রাখাইন রাজ্যের সশস্ত্র দলগুলোর সমঝোতা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা

বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমারের রাখাইন ও চিন রাজ্যের সীমান্ত রয়েছে। বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তের ২৭১ কিলোমিটারের মধ্যে

অর্থ পাচারসহ আর্থিক অপরাধ দমনে সিঙ্গাপুর কার্যকর ও সফলঃ এফএটিএফ

১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন বিষয়ক বৈশ্বিক নজরদারি সংস্থা "ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক

আধুনিক কৃষি ও স্মার্ট প্রযুক্তির সমন্বয়েই টেকসই সমৃদ্ধির সম্ভাবনা

বাংলাদেশের কৃষি আজ এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি। একদিকে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষিজমি কমে যাওয়া

বাংলাদেশে রেলক্রসিং, লঞ্চ ও ফেরি দুর্ঘটনা: এক চলমান জাতীয় ট্র্যাজেডি, কিছু সুপারিশ

বাংলাদেশ গত দুই দশকে অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমি মুখ্যমন্ত্রী, আমি এখন সকলের: শুভেন্দু অধিকারী

আলিফ হত্যা: ইসকন নেতা চিন্ময় দাসকে জামিন দেননি হাইকোর্ট

রেস্তোরাঁ খাত বাঁচাতে ১০ দফা দাবি, লাইনের গ্যাস চালুর আহ্বান

দুই মামলায় সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের হাইকোর্টে জামিন

মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের শপথ অনুষ্ঠানে হাজির তৃষা, প্রেমের গুঞ্জন বাড়লো

ভুয়া সন্দেহে ভ্যাট ইন্সপেক্টরকে মারধর করে বেঁধে রাখার অভিযোগ

সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৫০ হাজার ৪৯২ বাংলাদেশি হজযাত্রী

উচ্চ রক্তচাপের এই লক্ষণগুলো আপনার নেই তো?

রাজধানীতে গ্যাস লিকেজ থেকে আগুন, তিন শিশুসহ স্বামী-স্ত্রী দগ্ধ

রাজধানী ঢাকায় বায়ু দূষণের মাত্রা ফের বেড়েছে

অভিষিক্ত সেঞ্চুরিয়ান আজানকে ফিরিয়ে তাসকিনের ব্রেকথ্রু

লা লিগার ৯৭ বছরের ইতিহাসে এমন উপলক্ষ কখনো আসেনি

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে ইতিহাস গড়লেন বিজয়

শিবির গুপ্ত রাজনীতি করে ছাত্ররাজনীতিকে দুর্গন্ধময় করে ফেলেছে: নাছির

রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলায় কিশোরগঞ্জের যুবক নিহত

ইরানের সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় নেওয়ার প্রস্তাব পুতিনের

গাজীপুরে গরুচোর সন্দেহে তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা, ট্রাকে আগুন

সবকিছুই যেন শেষ, দাদা-দাদির কবরের পাশে বৃষ্টির শেষ ঠিকানা

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে মাইলফলক স্পর্শ করলেন লিটন

শিক্ষা-গবেষণা সহযোগিতায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও আনহুই নরমাল ইউনিভার্সিটির চুক্তি