
গভীর রাতে চাপাতি, সামুরাই আর দেশীয় ধারালো অস্ত্র হাতে অপরাধ সংগঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ছিনতাইকারী কুত্তা ফারুকসহ তার চক্র। টার্গেট ছিল ডাকাতি আর পুলিশের সোর্সের ওপর হামলা। তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসী ‘কুত্তা ফারুক’সহ ছিনতাই চক্রটির ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৮ জুলাই) রাতে রাজধানীর আদাবরের শেখেরটেক ৭ নম্বর ব্রিজের শেষ মাথায় জনৈক মজিবর মিয়ার বাড়ির পাশের সি পাগলের ভেতর হতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তারা হলেন— মো. সাইদ (২৪), আকাশ (২৩), মো. ফারুক ওরফে কুত্তা ফারুক (২৬), কর্নেল (১৯), মো. মাইন উদ্দিন(২১), মো. সিফাত ওরফে হিটার (২২) ও মো. নাহিদুল (২৫)।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শেখেরটেক ৭ নম্বর রোড ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের ‘ভাইস্তা বিল্লাল’ গ্রুপের সাত সদস্যকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য কুত্তা ফারুকও রয়েছেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় ধারালো বেশ কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
ছিনতাই চক্রের সদস্যদের আটকের খবরে ঘটনাস্থলে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা। এ সময় নিজেদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বর্ণনা দেন তারা। তবে আটক হলেও আসামিরা কিছুদিন পরই জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।
আটক অবস্থায় কুত্তা ফারুক জানান, তিনি আদাবর মোহাম্মদপুরে বিভিন্ন এলাকায় কাইল্ল্যা জহিরের নেতৃত্বে ছিনতাই চক্রে জড়িত রয়েছেন। তিনি মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান নবীনগর চন্দ্রিমা হাউজিংসহ বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই করে আসছিলেন। তিনি জানান, আদাবর মোহাম্মদপুর এলাকায় তাকে কুত্তা ফারুক নামে সবাই চেনেন।
তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. জুয়েল রানা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একদল দুষ্কৃতিকারীর অবস্থান করার তথ্য জানা যায়। তারই ধারাবাহিকতায় আদাবর থানা ওসির নেতৃত্বে সেখেরটেক ৭ নম্বর ব্রিজের শেষ মাথায় মুজিবুর রহমানের বাসার গলিতে একটি অভিযান চালানো হয়। এ সময় শীর্ষ ছিনতাইকারী ও সন্ত্রাসী কুত্তা ফারুকসহ সাতজনকে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে আদাবর মোহাম্মদপুর এলাকায় ছিনতাই করে আসছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় ছিনতাই ও মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে। অপরাধ সংঘটনের আগেই অভিযান চালিয়ে পুরো চক্রটিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
আমার বার্তা /জেএইচ

