
চিকিৎসা খাত কেবল চিকিৎসককেন্দ্রিক নয়; ডাক্তার, নার্স, টেকনোলজিস্ট ও ফিজিওথেরাপিস্টদের সমন্বিত টিমওয়ার্কের মাধ্যমেই একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস উপলক্ষ্যে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘হৃদ্রোগ এবং স্ট্রোকের প্রতিরোধ, ব্যবস্থাপনা এবং পুনর্বাসনে ফিজিওথেরাপি এবং শারীরিক কার্যকলাপের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও র্যালিতে তিনি এ কথা বলেন।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবায় যুক্ত কেউই কারও প্রতিদ্বন্দ্বী নন। রোগীকে কর্মক্ষম জীবনে ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘমেয়াদি ফিজিওথেরাপি ও সঠিক পুনর্বাসনের কোনো বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, নার্স থেকে শুরু করে ফার্মাসিস্ট, টেকনোলজিস্ট কিংবা ফিজিওথেরাপিস্ট— স্বাস্থ্যসেবার প্রতিটি পর্যায়ে সবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করলে রোগীর পূর্ণাঙ্গ আরোগ্য সম্ভব নয়।
ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে স্বাস্থ্যসেবার প্রতিটি শাখায় উচ্চতর শিক্ষার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞানকে বাস্তব দক্ষতায় রূপান্তর করে রোগীদের মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের প্রতিরোধ, ব্যবস্থাপনা এবং পুনর্বাসনে ফিজিওথেরাপির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, রোগীকে স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম জীবনে ফিরিয়ে আনতে চিকিৎসার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ফিজিওথেরাপি ও শারীরিক কার্যক্রম প্রয়োজন।
ফিজিওথেরাপি ও স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও অর্থবহভাবে পৌঁছে দিতে শক্তিশালী নীতিগত সহায়তা ও প্রশাসনিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী। একই সঙ্গে এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফিজিওথেরাপিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-প্যাবের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি মো. কামরুজ্জামান কল্লোল এবং সঞ্চালনা করেন ফিজিওথেরাপিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-প্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব মো. তানভীরুল আলম।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির পরিবার কল্যাণ বিষয়ক সহ সম্পাদক অধ্যাপক ডা মো. রফিকুল কবির লাবু, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডাক্তার মো. নুরুজ্জামান খান, ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের উপদেষ্টা ও সোসাইটি অব নিউরো লোজিস্ট অব বাংলাদেশের সদস্য সচিব অধ্যাপক ডাক্তার নাজমুল হুদা বিপ্লব এবং ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সহ-সভাপতি ডাক্তার জি এম এম এফ ওসমানীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

