
যৌক্তিকতা যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো প্রকল্প না নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি প্রকল্পে যেন অহেতুক কোনো ব্যয় না হয় সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক করেছেন তিনি।
রোববার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তিনি এই নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এদিন সচিবালয়ে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আজকের বৈঠকে ১৩ হাজার ৪৪৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ১৪টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন আট হাজার ৮৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ পাঁচ হাজার ৩৪০ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। নতুন প্রকল্প ৫টি, সংশোধিত প্রকল্প ৫টি এবং মেয়াদ বৃদ্ধি প্রকল্প ৪টি।
একনেক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকল্প ব্যয়ে সাশ্রয়ী হতে নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রকল্প নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশটা খুব স্পষ্ট। সেটা হচ্ছে আমাদের সাশ্রয়ী হতে হবে, ব্যয়ের দিক থেকে। এ ছাড়া ব্যয়গুলো কোন কোন খাতে হচ্ছে, সেগুলো যৌক্তিকতা যাচাই-বাছাই করা।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যে যে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, সেগুলো আসলে কতটা সামগ্রিকভাবে আমাদের জনগণের জীবনে যে উন্নতি চিন্তা করা হয়েছে, বর্তমান সরকারকে তার যে নির্বাচনি ইশতেহার পরিকল্পনা সবগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য কি না? এই সব দিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী সাকি বলেন, আজকের বৈঠকে ১৭টি প্রকল্প উত্থাপিত হয়েছে, তার মধ্যে ১৫টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অধিকাংশ প্রকল্পই পাস হয়েছে। তবে কয়েকটি প্রকল্পের শর্তসাপেক্ষ বিভিন্ন বিষয় আছে। প্রায় প্রকল্পের ব্যাপারে কমেন্টের বিষয় আছে।
সাকি বলেন, একটা সিদ্ধান্ত এর আগে নেওয়া হয়েছিল যে, যেগুলো চলমান প্রকল্প এবং যেসব প্রকল্প প্রস্তাবিত হয়েছে বিগত সময়ে; সেইসব প্রকল্পকে আমারা রিভিউ করব। অনেক প্রকল্প এমন অবস্থায় চলে এসছে যে, সেগুলোর হয়ত প্রয়োজন নেই।
আজকের একনেক সভায় সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ; সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ কমিটির সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আমার বার্তা/এমই

