
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় করা পল্টন মডেল থানার মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রোববার (১৮ অক্টোবর) শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জসিতা ইসলাম এ আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতে দাখিল করা আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ (৭৮) পল্টন মডেল থানার অন্য একটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা এ মামলায়ও তাকে গ্রেফতার দেখানো প্রয়োজন। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং পরবর্তী সময়ে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের স্বার্থে এ আবেদন করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগের স্পেশাল অপারেশনস টিমের উপ-পরিদর্শক তোফাজ্জল হোসেন। তিনি ২০২৪ সালের ১৩ অক্টোবর ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদনটি দাখিল করেন। আবেদনে সুলতান মনসুরের বিরুদ্ধে ঘটনার নেপথ্যে থেকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার অভিযোগ আনা হয়। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে তার জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও আবেদনে দাবি করা হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর বিকেল আনুমানিক ৩টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আরও কয়েকজন আসামি, সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিএনপির আন্দোলন নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ সদস্য ও অস্ত্রধারী ব্যক্তিরা বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নষ্ট করেন এবং নগদ অর্থ, কম্পিউটার ও মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যান। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ৪৭ লাখ টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে বোমা ও ককটেল উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, ওই সময় নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও গুলি ছোড়া হয়। এতে মকবুল নামে বিএনপির এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।
একই দিন বিএনপির তৎকালীন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান, বিএনপি নেতা আবদুস সালামসহ চার শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
যে মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন
পল্টন মডেল থানায় ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মামলাটি করা হয়। এতে দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৮, ১৪৯, ৩৮২, ৪২৭, ৩৮৪, ৩২৩, ৩২৬, ৩০৭, ৩০২, ১০৯ ও ১১৪ ধারা এবং ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনের ৩ ও ৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পল্টন মডেল থানার ২০২৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর করা অন্য একটি মামলায় (মামলা নম্বর ২৫) গ্রেফতার হয়ে তিনি কারাগারে আছেন বলে আবেদনে বলা হয়েছে। বর্তমানে ডিএমপির গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলছে।

