ই-পেপার রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

মানবতাবিরোধী অপরাধ
আমার বার্তা অনলাইন:
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪১

জুলাই আন্দোলনে কুষ্টিয়ায় ৬ জনকে হত্যাসহ সারা দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র, উসকানির দায়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে দেয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ ৫০০ পৃষ্ঠার এ রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করেন। এদিকে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানান, এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে প্রসিকিউশন। ইতোমধ্যেই আপিলের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ৩০ জুন ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তার বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিটিতে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে তিনটি সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হওয়ায় ইনুকে মোট ১০ বছর কারাগারে থাকতে হবে।

ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, ইনুর বিরুদ্ধে আনা ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত করা, নির্যাতন এবং রাজনৈতিক কারণে নিপীড়নের ঘটনায় তার দায় প্রমাণিত হয়েছে। এ অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এ ছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও দুষ্কর্মে সহযোগিতার অভিযোগেও ইনুর দায় প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। আরেকটি অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র ও চুক্তিতে সম্পৃক্ত থাকার দায়ে তাকে আরও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তবে এসব সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে।

অন্যদিকে, ইনুর বিরুদ্ধে আনা ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এসব অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেন ট্রাইব্যুনাল।

মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই একটি ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইনু জুলাই আন্দোলনকারীদের জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগে উসকানি, প্ররোচনা ও সহায়তা এবং হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোটের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে ‘শুট অ্যাট সাইট’ বা দেখামাত্র গুলির সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ইনু ওই সভায় উপস্থিত থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে নির্দেশ, প্ররোচনা, উসকানি ও সহায়তা করেছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়। তবে এ অভিযোগটি প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ছবি দেখে তাদের একটি তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং তাদের আটক ও নির্যাতনের জন্য কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে নির্দেশ দিয়েছিলেন ইনু। এ অভিযোগটি ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত হয়েছে।

চতুর্থ অভিযোগে আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহারের পাশাপাশি ছত্রীসেনা নামানো এবং হেলিকপ্টার থেকে বোমা হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে ইনুর সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়। পঞ্চম অভিযোগে গণমাধ্যমে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানি এবং সরকার পরিচালিত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতন-নিপীড়নকে কৌশলে সমর্থনের অভিযোগ করা হয়। তবে এই দুই অভিযোগও প্রমাণিত না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তাকে খালাস দেন।

ষষ্ঠ অভিযোগে ১৪ দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইনুর ভূমিকার কথা বলা হয়। এ অভিযোগে তার দায় প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

সপ্তম অভিযোগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়। ট্রাইব্যুনাল এ অভিযোগও প্রমাণিত বলে রায়ে উল্লেখ করেছেন।

অষ্টম অভিযোগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে আন্দোলনকারী ইউসুফ শেখ, উসামা, সুরুজ আলী, আশরাফুল ইসলাম, বাবলু ফরাজী ও আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিনকে হত্যায় নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। একই সঙ্গে সারা দেশে প্রায় এক হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা এবং ২৫ হাজারের বেশি ছাত্র-জনতাকে আহত করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও ছিল। তবে এই অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ইনুকে এ অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়।

এদিকে হাসানুল হক ইনু শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞের মামলায় বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন। জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ২০১৩ সালে তথ্যমন্ত্রী থাকা অবস্থায় শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে কোর কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।

একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা সঠিক ছিল না-তারা তা মেনে নিয়েছে : আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, সংসদীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে একাত্তরে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা ও অবস্থান সঠিক

বারকাতের দুই ফ্ল্যাট ক্রোক, গাড়ি-ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ

জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাতের সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন আদালত। তার নামে

সাবেক সিটিটিসি প্রধানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের

গাজীপুর মহানগরের চত্বর এলাকার ইবনে মাসউদ মাদরাসার অধ্যক্ষ আবুল হোসেন আল আমিনকে গুম ও হত্যার

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ড

২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাজধানীতে শিল্পকলার একাডেমির সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন, ৪২ ঘর পুড়ে ছাই

জ্বালানি নিরাপত্তায় সরকারের নতুন উদ্যোগ, মহাপরিকল্পনা

সমাজের পঁচন ও নৈতিক অবক্ষয় বহু বছর ধরে শুরু হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, অপরাধ স্বীকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারে আইইডিসিআর গবেষণার অনন্য মডেল: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

চিকিৎসাসেবায় বড় ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর, দেশে আসছে বিশ্বসেরা প্রযুক্তি

তথ্যপ্রযুক্তি সেবায় অবদানের স্বীকৃতি পেল টার্গেট আইটি

ভারী বৃষ্টিতে ডুবেছে নিউমার্কেট এলাকার বিভিন্ন সড়ক, ব্যাহত যান চলাচল

মস্কোয় রাতভর ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন, নিহত ২ জন

ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

অপ্রতিম হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন মূল্যস্ফীতি আগস্টে

আফগানিস্তানের অধিনায়কত্ব হারানো নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন রশিদ

আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে ভূরিভোজ, ওসি প্রত্যাহার

মশলায় কাঠের গুঁড়া, খাবারে পচা মাংস : চট্টগ্রামে ১৯ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

আখাউড়া সীমান্তে কাঁটাতারের পাশে বাংলাদেশি কিশোরের লাশ উদ্ধার

ঢাকা ছাড়‌ছেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ও‌য়েন, সম্পর্ক উন্নয়‌নে ভূয়সী প্রশংসা

জাকার্তার সেই স্মৃতি এবারও অনুপ্রেরণা জামালদের

শাহজালালের ওয়াশরুমে মিললো সোয়া ৪ কেজি স্বর্ণসদৃশ পেস্ট