
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সেই সঙ্গে দাবি করেছেন, ইরানের আগ্রহে নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের মরিয়া মনোভাবের কারণে এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।
গতকাল এক লিখিত বিবৃতিতে এই দাবি করেছেন খামেনি। বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, “আপনার সবাই ইতোমধ্যে শুনেছেন যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পর্যায়ে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্টের কারণেই এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। তিনি মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন এবং এই চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য সব ধরনের চাপ ও প্রভাব খাটিয়ে তিনি চুক্তিটি সম্পন্ন করেছেন।”
লিখিত বিবৃতিতে মোজতবা স্বীকার করেছেন যে ব্যক্তিগতভাবে তিনি এই সমঝোতা স্মারক চুক্তির পক্ষে ছিলেন না। বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, “নীতিগত ভাবে (এই চুক্তির ব্যাপারে) আমার ভিন্নমত ছিলো; তবে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ইরানের জনগণ এবং প্রতিরোধ ফ্রন্টের (লেবাননভিত্তিক গোষ্ঠী হিজবুল্লা) অধিকার রক্ষার যে অঙ্গীকার করেছেন, তার ভিত্তিতেই আমি অনুমতি দিয়েছি।”
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্পকে ঘিরে টানাপোড়েনের জেরে টানা ৪০ দিন ধরে সংঘাত এবং তারপর যুদ্ধবিরতির নামে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে স্থবির অবস্থার পর গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে ইসলামাবাদ এমওইউ চুক্তির খসড়া পাঠিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ১৪টি পয়েন্ট সম্বলিত ৮০০ শব্দের এই খসড়া নিয়ে এক মাসেরও বেশি সময় আলোচনা-পর্যালোচনার পর সেটি চুক্তি হিসেবে গ্রহণ করতে সম্মত হয় ইরান।
এর মধ্যে গতকাল বুধবার প্যারিসে শিল্পোন্নত ৭ দেশের জোট জি-৭ সামিটের সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসলামাবাদ এমওইউ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় তার পাশে ছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চুক্তিতে স্বাক্ষর করার কিছুক্ষণ পর তেহরানে নিজের দপ্তরে চুক্তি স্বাক্ষর করেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। ইরান ও মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো এই চুক্তি স্বাক্ষরের ছবি প্রকাশও করেছে।
ইসলমাবাদ এমওইউ স্বাক্ষরের ফলে প্রস্তাবিত স্থায়ী শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা, সেই চুক্তির বক্তব্য ও শর্ত নির্ধারণ, ইরানের পরমাণু প্রকল্প, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রভৃতি ইস্যুতে আলোচনার জন্য ৬০ দিন সময় পাচ্ছে ওয়াশিংটন এবং তেহরান। এই ৬০ দিন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে অবাধে চলাচল করতে দেবে ইরান; তার পরিবর্তে ইরানের বন্দরগুলো থেকে অবরোধ তুলে নেবে মার্কিন বাহিনী।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বাঁধার পর থেকে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় আছে পাকিস্তান। গতকাল সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান চুক্তি স্বাক্ষরের পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, অবিলম্বে চুক্তির শর্তগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হবে।
সূত্র : এএফপি, এনডিটিভি অনলাইন

