
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক সিদ্ধান্তে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ সফর বাতিল করেন তার দুই শীর্ষ প্রতিনিধি। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প সফর বাতিলের পেছনে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর কারণ উল্লেখ করেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, তার প্রতিনিধি জ্যারেড কুশনার এবং স্টিভ উইটকফ ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তিনি নিজেই এই সফর বাতিল করার নির্দেশ দেন।
সফর বাতিলের কারণ হিসেবে ট্রাম্প লিখেন, "আমি ইসলামাবাদে আমার প্রতিনিধিদের সফর বাতিল করেছি। ভ্রমণে অনেক বেশি সময় নষ্ট হয় এবং বর্তমানে কাজের অনেক চাপ রয়েছে!"
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএএন জানায়, ট্রাম্প বলেন, ইরানিদের সঙ্গে আলোচনার জন্য এই দীর্ঘ সফর প্রয়োজনীয় ছিল না; বরং এখন থেকে ফোনে আলোচনা চালানো হবে।
ফ্লোরিডায় এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘এমন একটি নথির (লিখিত প্রস্তাব) জন্য আমরা বারবার উড়োজাহাজে ১৫ ঘণ্টা করে যাওয়া-আসা করতে পারি না; যা যথেষ্ট কার্যকর নয়। তাই আমরা এখন থেকে টেলিফোনে যোগাযোগ করব। তারা (ইরান) চাইলে যেকোনো সময় আমাদের ফোন করতে পারে।’
সফরের পরিবর্তে টেলিফোনে আলাপ করার সিদ্ধান্তটি দুই পক্ষের জন্যই সহজ হবে বলে মনে করেন ট্রাম্প। এর আগে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের জন্য ট্রাম্পের বিশেষ দূত ও তার জামাতা কুশনারের ইসলামাবাদ যাওয়ার কথা ছিল।
সফর বাতিলের কারণ হিসেবে ভ্রমণের ধকলের পাশাপাশি ইরানের নেতৃত্ব নিয়েও নিজের পূর্ববর্তী সংশয়ের কথা আবার উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা কাজ করছে, যা আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলছে।
ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতাকেও এমন সিদ্ধান্তের বড় কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে বলেন, "ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে প্রচণ্ড অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং বিভ্রান্তি চলছে। কে দায়িত্বে আছেন তা তারা নিজেরাও জানেন না। তাছাড়া, সমস্ত তাসের নিয়ন্ত্রণ এখন আমাদের হাতে, তাদের কাছে কোনো সুযোগ নেই।"

