
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করেন। সকাল থেকে টানা সাত ঘণ্টা রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ রয়েছে। এতে বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে একাধিক ট্রেন এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী।
রাজশাহী থেকে সকাল সাড়ে ৭টায় ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া বনলতা এক্সপ্রেস বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ-সংলগ্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের অবরোধের মুখে থেমে যায়। ফলে ট্রেনটি প্রায় সাত ঘণ্টা একই স্থানে দাঁড়িয়ে থাকে। এছাড়া বিভিন্ন রুটের আরও কয়েকটি ট্রেন নির্ধারিত স্টেশন ও সিগন্যালে আটকা পড়ে।
বনলতা এক্সপ্রেসের যাত্রী সাকিব বলেন, ‘জরুরি কাজে ঢাকায় যাচ্ছি। কিন্তু শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে সাত ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ট্রেনে বসে আছি। প্রচণ্ড গরমে খুব কষ্ট হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান চাই।’
একই ট্রেনের আরেক যাত্রী সাবিনা শবনম বলেন, ‘আমার পরিবারের জরুরি কাজে ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সকাল থেকে ট্রেন আটকে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছি। সঙ্গে শিশু ও বয়স্ক যাত্রীও রয়েছেন। দীর্ঘ সময় ট্রেনে আটকে থাকায় খাবার ও পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। আমরা দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চাই।’
এদিকে আন্দোলনরত একদল শিক্ষার্থী রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।
সোমবার দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে রসিদ ছাড়া যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের প্রতিবাদ করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফোরকান উদ্দীনকে কয়েকজন টিকিট পরীক্ষক (টিটি) মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। তিনি আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ-সংলগ্ন রেললাইনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। ফলে সকাল থেকেই রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
ভুক্তভোগী ফোরকান উদ্দীন অভিযোগ করেন, ট্রেনে যাত্রীদের কাছ থেকে রসিদ ছাড়া টাকা আদায় করা হচ্ছিল। তিনি এর প্রতিবাদ করলে ৬-৭ জন টিটি তাকে দুই বগির মাঝখানে নিয়ে গিয়ে মারধর করেন। একপর্যায়ে চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় তার চশমা ভেঙে যায়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো— অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে চাকরি থেকে স্থায়ী বহিষ্কার, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং সব দূরপাল্লার ট্রেনের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম বলেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় একজন শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত রেললাইন অবরোধ চলবে।
এদিকে শিক্ষার্থী হেনস্তার ঘটনায় সংহতি জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)। আন্দোলনস্থলে উপস্থিত ছিলেন রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
আমার বার্তা/এমই

