
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় রেললাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এক বৃদ্ধকে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ার হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে তোফায়েল আহমেদ (২০) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। দ্রুতগামী ‘সুবর্ণ এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ধাক্কায় তার এ মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সন্ধ্যায় কসবা রেলওয়ে স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তোফায়েল আহমেদ উপজেলার কসবা পশ্চিম ইউনিয়নের আকছিনা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিদিন বিকেলের দিকে কসবা রেলস্টেশনে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন ঘুরতে আসেন। তোফায়েলও তার বন্ধুদের সঙ্গে স্টেশনে ঘুরতে এসেছিলেন। সন্ধ্যার দিকে স্টেশনের একপাশে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী ‘চট্টলা এক্সপ্রেস’ এসে দাঁড়ায়। ওই ট্রেন থেকে নেমে এক বৃদ্ধ অসাবধানতাবশত মাঝখানের লাইনের ওপর গিয়ে দাঁড়ান।
ঠিক ওই সময় মাঝখানের লাইন দিয়ে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রাম অভিমুখী বিরতিহীন ‘সুবর্ণ এক্সপ্রেস’ দ্রুতগতিতে ছুটে আসছিল। সুবর্ণ এক্সপ্রেসের অনবরত হর্ন দিলেও ওই বৃদ্ধ তা শুনতে না পেয়ে লাইনেই দাঁড়িয়ে থাকেন। বিষয়টি স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা তোফায়েলের নজরে এলে সে বৃদ্ধকে বাঁচাতে দ্রুত লাইনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং বৃদ্ধকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়।
বৃদ্ধ রক্ষা পেলেও দ্রুতগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেস তোফায়েলকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ট্রেনের ধাক্কায় তোফায়েল ছিটকে অনেক দূরে গিয়ে পড়েন। সহপাঠী ও স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তোফায়েলকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়রা জানান, তোফায়েল অত্যন্ত পরোপকারী ছিলেন এবং ওই দিন সকালেও তিনি স্টেশনে এক যাত্রীকে ট্রেন দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করেছিলেন।
কসবা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. হানিফ মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সন্ধ্যায় দ্রুতগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেস কসবা স্টেশন অতিক্রম করার সময় এক বৃদ্ধকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় তোফায়েল আহমেদ নামের এক যুবক মারা যান। ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।
আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, কসবা রেলস্টেশনে ট্রেনের ধাক্কায় এক যুবকের মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পরে নিহতের পরিবারের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আমার বার্তা/জেএইচ

