ই-পেপার রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩

উষ্ণতম জুন গেল ইউরোপে, সমুদ্রেও রেকর্ড তাপমাত্রা

আমার বার্তা অনলাইন:
১১ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৯

চলতি বছরের মে মাস থেকে একের পর এক তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে ইউরোপের ওপর দিয়ে। জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চরম এই আবহাওয়া এখন আর কেবল সাময়িক কোনো ঘটনা নয়, বরং এটি ইউরোপের গ্রীষ্মকালের একটি দীর্ঘস্থায়ী বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী জুন মাসটি ছিল পশ্চিম ইউরোপের ইতিহাসে এ যাবৎকালের সবচেয়ে উত্তপ্ত জুন। আর বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এটি ছিল ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উষ্ণ জুন মাস। প্রাক-শিল্পায়নের যুগের গড় তাপমাত্রার চেয়ে এবারের তাপমাত্রা ১ দশমিক ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপারনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস এবং ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর মিডিয়াম-রেঞ্জ ওয়েদার ফোরকাস্টস-এর (ইসিএমডব্লিউএফ) বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, ভূপৃষ্ঠের রেকর্ড তাপমাত্রার পাশাপাশি সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রাও জুনে ইতিহাসের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এটি পৃথিবীর জলবায়ু ব্যবস্থায় ক্রমাগত তাপ জমা হওয়ারই বহিঃপ্রকাশ।

ইসিএমডব্লিউএফ-এর জলবায়ু বিষয়ক কৌশলগত প্রধান সামান্থা বার্গেস বলেন, “এই রেকর্ডগুলো প্রমাণ করে যে, তাপপ্রবাহের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে, সমুদ্রের পানি দীর্ঘ সময় ধরে উষ্ণ থাকছে এবং ইউরোপসহ বিশ্বজুড়ে মানুষ, বাস্তুসংস্থান ও অবকাঠামোর জন্য ঝুঁকি ক্রমাগত বাড়ছে।”

গত জুনের শেষের দিকে পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপের ওপর দিয়ে তীব্র একটি তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। এতে জার্মানি ও চেক প্রজাতন্ত্রসহ বেশ কয়েকটি দেশের মাসিক ও সর্বকালের সব তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে যায়। এর আগে মে মাসেও সেখানে নজিরবিহীন তীব্র গরম পড়েছিল। এরপর জুলাইয়ের শুরুতেও নতুন করে আরেকটি তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে, যা মূলত ইউরোপের গ্রীষ্মকালে চরম আবহাওয়ার একটি দীর্ঘস্থায়ী রূপকেই স্পষ্ট করে তুলছে।

একের পর এক এমন বড় ধরনের তাপপ্রবাহের কারণে জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চরম এই গরম এখন আর কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি ইউরোপের গ্রীষ্মের একটি নিয়মিত ও দীর্ঘস্থায়ী রূপ ধারণ করছে।

তীব্র গরমের এই নেতিবাচক প্রভাব কেবল উচ্চ তাপমাত্রার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ইউরোপের বড় একটি অংশ, বিশেষ করে আইবেরিয়ান উপদ্বীপ (স্পেন ও পর্তুগাল), দক্ষিণ ফ্রান্স এবং পূর্ব ইউরোপের কিছু এলাকায় চরম শুষ্ক আবহাওয়া দেখা দিয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন স্থানে দাবানল বেড়ে গেছে, নদীর পানির প্রবাহ কমেছে এবং খরা পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হয়েছে, যা ওই অঞ্চলের খাদ্য উৎপাদনকে বড় ধরণের ঝুঁকিতে ফেলছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা পর্ষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ওটমার এডেনহোফার বলেন, কম খরচে ইইউ-এর ২০৪০ ও ২০৫০ সালের জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে কার্বন নির্গমন উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে হবে।

গত মার্চ মাসে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর ওটমার এডেনহোফার বলেন, কৃষি খাতে কিছু অগ্রগতি হলেও কার্বন নির্গমন হ্রাসের গতি ও পরিধি এখনও পর্যাপ্ত নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের এই ধারা অব্যাহত থাকায় ইউরোপের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, কৃষকদের জীবিকা রক্ষা ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে এবং জলবায়ু সহনশীলতা অর্জনে আগামী বছরগুলোতে এই খাতকে আরও জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে।

এল নিনোর প্রভাব

এদিকে ভূমধ্যসাগরের পশ্চিমাঞ্চল এবং আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূলীয় এলাকায় তীব্র সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ ছড়িয়ে পড়েছে, যা সামগ্রিক সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থানকে হুমকির মুখে ফেলছে। ইইউ-এর তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালের জুন মাসটি ছিল বিশ্বের বরফমুক্ত মহাসাগরগুলোর ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণতম জুন। এর আগে ২০২৪ সালে যে রেকর্ড তৈরি হয়েছিল, এবারের তাপমাত্রা তাকেও সামান্য ব্যবধানে ছাড়িয়ে গেছে।

বিজ্ঞানীদের একাংশ এর জন্য আংশিকভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠা ‘এল নিনো’ পরিস্থিতিকে দায়ী করছেন। এল নিনো হলো এমন একটি জলবায়ু প্রক্রিয়া, যার ফলে ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি উষ্ণ হয়ে ওঠে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জলবায়ু তথ্যে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির পেছনে মানুষের কারণে হওয়া দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু পরিবর্তনই মূল কারণ হিসেবে কাজ করছে।

অবশ্য বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির পেছনে এল নিনো কতটা দায়ী, তা নিয়ে অন্য বিজ্ঞানীদের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, তাপমাত্রার এই নতুন নতুন রেকর্ড প্রমাণ করে যে, জলবায়ু ব্যবস্থায় প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ তাপ জমা হচ্ছে। এর ফলে ঘন ঘন তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা দিচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্য, বাস্তুসংস্থান এবং অবকাঠামোর জন্য দিন দিন বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনছে।

সূত্র : ইউরো নিউজ।

আমার বার্তা /জেএইচ

বন্যার তিনদিন পর জোরদার ত্রাণ, তবুও সংকটে দুর্গত মানুষ

গত এক সপ্তাহের টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামে ভয়াবহ

দেশের ৪ নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপরে, দীর্ঘস্থায়ী বন্যার শঙ্কা নেই

দেশের চারটি নদীর পানি এখনো ছয় জেলার কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে

সব বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা, কোথাও কোথাও অতি ভারী বর্ষণ

উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাব বিরাজ করছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ

ঢাকাসহ ১৬ অঞ্চলে ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস, জলাবদ্ধতা ও ভূমিধসের শঙ্কা

সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ঢাকাসহ দেশের অন্তত ১৬টি অঞ্চলে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ফরিদপুরে দাঁড়িয়ে থাকা পিকআপে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় ৫ জন নিহত

ঢাবিতে ব্যাংকাস্যুরেন্স বিষয়ে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু

বন্যা পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ তুলে ধরলেন মাহ্দী আমিন

কড়াইলে বিদ্যুতের অবৈধ লাইন বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে লাইনম্যানের মৃত্যু

টানা বর্ষণে কুতুবদিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত, জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত জনজীবন

ক্রীড়াঙ্গনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু

চ্যাটজিপিটি যেন রিসার্চ পেপার লেখার ‘কপি মেশিন’ না হয়: শিক্ষামন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বরিশাল সফর ঘিরে উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মীরা

কুতুবদিয়ায় নিখোঁজ জেলের মরদেহ মিলল সমুদ্রতীরে

ভোটের ২৫ দিন আগেই চূড়ান্ত হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সব ভোটকেন্দ্র

রাজশাহী বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হবে: ভূমিমন্ত্রী

চলতি বছর ৩২০ সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬০ শিক্ষার্থী নিহত: যাত্রী কল্যাণ সমিতি

মাদকাসক্তদের নিজ অর্থায়নে চিকিৎসার ঘোষণা রুহুল আমিন খানের

মোবাইল ফোনের দোকানে চুরি, আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেপ্তার

ঢামেককে মানবিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ার আহ্বান ডা. জুবাইদার

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সব জেলার এইচএসসি পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত

বাবার দাফনের পর প্রথমবার মুখ খুললেন মোজতবা

মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেলকে দেখতে গেলেন প্রধানমন্ত্রী

বন্যার তিনদিন পর জোরদার ত্রাণ, তবুও সংকটে দুর্গত মানুষ

সড়ক নিরাপত্তায় সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে: ডিএনসিসি প্রশাসক