
জাতীয় ক্রীড়া ব্যবস্থায় পেশাদারত্ব আনতে বড় উদ্যোগ নিতে যাচ্ছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের দ্রুত বেতনের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। আজ সোমবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধিভুক্ত ৫১ ফেডারেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপকালে এমনটা জানিয়েছেন তিনি।
ক্রিকেট ছাড়া বাকি সকল ফেডারেশনেরই আর্থিক ও অবকাঠামোগত সংকট ব্যাপক। ফুটবল দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা হলেও মাঠ-স্টেডিয়াম সমস্যায় জর্জরিত। বাকি ফেডারেশনগুলোর অবস্থাও করুণ। অনেক ফেডারেশনই আজ নিজেদের স্বল্প বাজেট, অনুশীলন সমস্যা, অফিস কক্ষ নেই- এমন অনেক সমস্যার বিষয় তুলে ধরেছেন।
ঘণ্টা তিনেক ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেন, ‘‘আমরা ফেডারেশনগুলোর কাছে এক সপ্তাহের মধ্যে গত এক বছরের কর্মকাণ্ডের প্রতিবেদন চেয়েছি। এটা আমাদের মূল্যায়ন ও পরিকল্পনায় সহায়ক হবে।’’
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক তার নির্বাচনকালীন সময় থেকে বলে আসছিলেন, ‘খেলা হবে পেশা।’ খেলায় পেশাদারত্ব আনতে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের বেতনের আওতায় আনতে চান তিনি। বিগত কয়েক দিন ধরে এ নিয়ে আলোচনা হলেও আজ ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর খানিকটা রূপরেখা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেন, ‘‘ফেডারেশনগুলোর কাছে আমরা জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের তালিকা চেয়েছি। আমরা তাদের বেতনের আওতায় আনতে চাই। সরকারের পক্ষ থেকে খেলোয়াড়দের বেতনের ব্যবস্থা করা হবে। কোন খেলোয়াড়দের কোন গ্রেড, এগুলো নিয়ে কাজ করতে হবে। রোজার মধ্যে এগুলো করে ঈদের পর বাস্তবায়ন করতে চাই।’’
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নির্বাচন নিয়ে বলেন, ‘‘আমরা সুন্দর ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন আয়োজন করতে চাই। উপজেলা, জেলা-বিভাগ থেকে শুরু হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া। এরপর ফেডারেশনে হবে।’’
তৃণমূল পর্যায়ে নির্বাচন করে ফেডারেশনে আসতে আসতে কয়েক মাস সময় লাগবে। শুটিংসহ আরও কয়েকটি ফেডারেশনের কমিটি নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। ফেডারেশনের নির্বাচন দেরি হলে সেই কমিটিগুলোর কী হবে, সেটা অবশ্য পরিষ্কার করে বলেননি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তবে ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের ধারণা, কিছু ফেডারেশনের কমিটির কিছু পদে রদবদল আসতে পারে।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে অধিভুক্ত ফেডারেশনের সংখ্যা ৫২। সমজাতীয় খেলার একাধিক ফেডারেশন রয়েছে। সেগুলো একই ফেডারেশনের অধীনে আনার পরিকল্পনা নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর, ‘‘৫১ ফেডারেশনের মধ্যে অনেক ফেডারেশন ফাংশন করতে পারছে না। কেন পারছে না, সেগুলো আমরা দেখব। সমজাতীয় খেলাগুলোকে একটা সংস্থার অধীনে আনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।’’
খেলাধূলায় সরঞ্জামাদির ব্যবহার অনেক। এগুলো বিদেশ থেকে দেশে আনতে অনেক টাকা কর দিতে হয়। সেই কর মওকুফ কিংবা কর হ্রাসের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
আমার বার্তা/এমই

