
ঢাকায় অবস্থিত রুশ ফেডারেশনের দূতাবাস বাংলাদেশের গণমাধ্যমের একাংশে প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এসব প্রতিবেদনে রাশিয়া থেকে সরকার-পর্যায়ে গম আমদানিতে কথিত অনিয়ম এবং জ্বালানি খাতের গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
এসব দাবিকে পক্ষপাতদুষ্ট ও ভিত্তিহীন উল্লেখ করে দূতাবাস বলেছে, রুশ ফেডারেশন ও বাংলাদেশের মধ্যকার শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তায় রাশিয়ার দীর্ঘদিনের অবদানকে ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের প্রতিবেদন করা হয়েছে।
দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়, রুশ ফেডারেশন ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে সব গম সংগ্রহ প্রক্রিয়া নির্ধারিত রাষ্ট্রীয় সংস্থার মাধ্যমে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মানদণ্ড অনুসরণ করে পরিচালিত হয়। আন্তঃসরকারি কাঠামো চুক্তির অধীনে অনুমোদনহীন তৃতীয় পক্ষ বা মধ্যস্থতাকারীদের মূল্য কাঠামো প্রভাবিত করার সুযোগ নেই।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাশিয়া থেকে রপ্তানিকৃত সব কৃষিপণ্য আন্তর্জাতিক ফাইটোস্যানিটারি মান এবং বাংলাদেশের নির্ধারিত প্রযুক্তিগত পরামিতি অনুযায়ী কঠোর মান নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়ে যায়। রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় পরিদর্শন সংস্থার মাধ্যমে পণ্যের মান প্রত্যয়নের পর চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছালে খাদ্য অধিদপ্তর ও বন্দর কর্তৃপক্ষের ভৌত ও পরীক্ষাগার পরীক্ষার মাধ্যমে তা যাচাই করা হয়। ফলে নিম্নমানের বা ভেজাল শস্য সরবরাহের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে দূতাবাস।
শস্যের চালানের উৎস নিয়ে ওঠা অভিযোগও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করে দূতাবাস বলেছে, রুশ ফেডারেশন আন্তর্জাতিক আইন মেনে বৈধ দেশীয় কৃষি খাত থেকে সংগৃহীত শস্যই রপ্তানি করে।
জ্বালানি খাতের সহযোগিতা প্রসঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি কর্পোরেশন রোসাটম সহযোগী ঠিকাদারদের নিয়ে বিশ্বমানের প্রযুক্তিগত, আর্থিক ও নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটিতে অননুমোদিত বহিরাগত হস্তক্ষেপ বা আর্থিক অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই বলেও দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া, গ্যাজপ্রম ইপি ইন্টারন্যাশনাল ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশের জ্বালানি স্বনির্ভরতায় ইতিবাচক ভূমিকা রেখে আসছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। উন্নত ড্রিলিং কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ভোলার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রসহ ২০টিরও বেশি গ্যাসকূপ সম্পন্ন করেছে, যা দেশের গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি এবং শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের চাহিদা পূরণে সহায়তা করছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বিবৃতিতে রুশ ফেডারেশন বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ ও বিশ্বস্ত কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে বলে জানানো হয়। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবর্তন ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেও ন্যায্য শর্তে বাংলাদেশে উচ্চমানের কৃষিপণ্য ও জ্বালানি-সংক্রান্ত দক্ষতার নির্ভরযোগ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে রাশিয়া।
সবশেষে, ঢাকায় অবস্থিত রুশ দূতাবাস গণমাধ্যমকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ এবং যাচাইকৃত তথ্যের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছে। দূতাবাসের মতে, এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুরক্ষিত থাকবে।

