
গণভোটে ‘না’ ভোট দেওয়া মানে চব্বিবের গণ-অভ্যুত্থান ও হাদির বিরুদ্ধে যাওয়া’, ‘না’ ভোট দেওয়া মানে স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো এবং নতুন বাংলাদেশ ও সংস্কার চাইলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ।
তিনি বলেন, ‘আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে। কারণ গণভোট কোনো নিরপেক্ষতা বজায় রাখার সুয়োগ নেই। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিয়ে নিজের অবস্থানকে স্পষ্ট করতে হবে।’
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ‘জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটদানে উদ্বুদ্ধ করণের লক্ষ্যে’ মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, ‘খুব স্পষ্ট হিসাব, গণভোট। এটা কোনো নিরপেক্ষতা বজায় রেখে কোনো ভোট নয়। গণভোট নিয়ে কথা বলতে হলে আমি নিরপেক্ষ নই। আমার স্পষ্ট অবস্থান হচ্ছে ‘হ্যাঁ’। কারণ আমি যদি সংস্কার চাই, আমার হাতে গণভোট ছাড়া কোনো উপায় নেই। ২০২৪ যখন ঘটে গেল, একটাই চাওয়া ছিল নতুন বাংলাদেশ, নতুন মূল্যবোধ এবং আরও মানবিক, আরও ন্যায্য একটি সমাজ। আমাদের বিগত ইতিহাস আমাদেরকে যা দেখিয়েছে, সেটা অর্জন করতে হলে আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। এক দেড় বছরের একটি সরকার কিন্তু দেশে আমূল পরিবর্তন আনতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘গণভোটের বিষয়ে সরকারের নিরপেক্ষতার জায়গা নেই। হয় আমি গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে, এই ছেলে মেয়েদের পক্ষে, জুলাই শহিদদের পক্ষে, হয় আমি হাদির পক্ষে, হয় আমি নতুন বাংলাদেশ চাই, অথবা চাই না। আমার দেশে এরকম কিছু মানুষ আছে হয়ত, যারা বিগত ফ্যাসিস্ট রেজিমের উপকারভোগী, তারা হয়ত গণভোটে ‘না’ এর পক্ষে। তারা মূলত পরিবর্তনটা চায় না। তারা নতুন বাংলাদেশ চায় না।’
উপদেষ্টা শারমিন খুরশিদ আরও বলেন, ‘এই গণভোটের মাধ্যমে আপামর সাধারণ জনগণ যদি ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ভোট দেয়, তাহলে সংস্কারের দ্বার খুলে যাবে। আমরা গণঅভ্যুত্থানের সরকার। কাজেই আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। আমরা গণভোটের পক্ষে, ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষেই আমাদের অবস্থান। আমরা চাইছি, মানুষ বুঝুক গণভোট কেন তাদের জন্য দরকার। বুঝে শুনে তারা ‘হ্যাঁ’ এর কাছেই আসুক।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিছু কিছু গোষ্ঠী গণভোটের বিষয়টা বুঝে উঠতে পারে না। সংস্কার যদি চাই, রাতের অন্ধকারের ভোট যদি না চাই, একনায়ক যুগের পর যুগ ক্ষমতায় থেকে স্বৈরাচার হবে, সেটা যদি আমরা বন্ধ করতে চাই, গুম, খুন বন্ধ করতে চাই, তাহলে অবকাঠামো বিপুলভাবে পরিবর্তন করতে হবে। গণভোটের জন্য দরকার জনমানুষের সম্মতি। জনগণের সম্মতি নেওয়ার জন্য গণভোট করছি।’
উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদা বলেন, ‘গণভোট রাষ্ট্রের নয়, গণভোট মানুষের। আপনারা রাষ্ট্রের উপর ভরসা করে থাকবেন না। পুরানো আইন পরিবর্তনে আমরা মানুষের সম্মতি চাই। তাই গণভোটের আয়োজন। এতে না বলার কোনো সুযোগ নেই। বন্ধ দুয়ার খুলতে ও গণতান্ত্রিক কাঠামোয় ফিরে যেতে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে।’
এর আগে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গণভোট ও নির্বাচনে জনমত গঠন শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজালসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারী, গণমাধ্যমকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আমার বার্তা/এমই

