
চব্বিশের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ঢাকার মোহাম্মদপুরে এক ছাত্রদল কর্মী গুলিতে আহত হওয়ার ঘটনায় করা ‘হত্যাচেষ্টা’ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।
তবে অভিযোগে ‘সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায়’ ১২৭ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই ফেরদৌস জামান।
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গুলিতে আহত ছাত্রদল কর্মী শেখ মোহাম্মদ আশিক এ মামলা দায়ের করেছিলেন। শেখ হাসিনাসহ ১২৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো ১০০-১৫০ জনকে সেখানে আসামি করা হয়েছিল।
তদন্ত শেষে গত ২০ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন এসআই ফেরদৌস জামান। তিনি বলেন, "১২৭ জন ঘটনার সময় মোহাম্মদপুর এলাকায় ছিল না। তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।"
অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিদের মধ্যে আরো আছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান, সাবেক কাউন্সিলর আসিফ আহম্মেদ ও তারেকুজ্জামান রাজীব, ছাত্রলীগ নেতা নাঈমুল হাসান রাসেল।
যারা অব্যাহতি পেয়েছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন কামরুল হোসেন, ওয়াহিদ হাসান, আক্কাছ সওদাগর, মোরশেদুল আলম চৌধুরী তাজু, মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, আব্বাস উদ্দিন, তোফাইল আহমেদ, নিখিল চন্দ্র শীল, তোতা মোল্লা।
অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন, "শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও জাহাঙ্গীর কবির নানকদের ষড়যন্ত্র ও পূর্ব নির্দেশনা মোতাবেক অভিযোগপত্রভুক্ত অপর আসামিরা পরস্পর অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করে সারা বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার যৌক্তিক আন্দোলনকে সহিংসভাবে থামানোর লক্ষ্যে সচেষ্ট ছিল।"
মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের ময়ূর ভিলা এলাকায় আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ করছিলেন। বেলা পৌনে ৩টার দিকে আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিপেটা ও গুলিবর্ষণ করা হয়। সেখানে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হন আশিক। তিনি রাস্তায় পড়ে যান। ‘মৃত ভেবে’ হামলাকারীরা তাকে রাস্তায় ফেলে যায়।
ওই ঘটনায় ২৮ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুর থানায় এ মামলা করেন আশিক। অভিযোগপত্রের বিষয়ে তার প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
সেদিন আশিকের সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেন ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুয়েল হাসান রাজ। অভিযোগপত্রে তাকে সাক্ষী করা হয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে রাজ বলেন, "সেদিন ছিল শুক্রবার। মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মোহাম্মদপুর ও আদাবর থানা ছাত্রদল আন্দোলনে অংশ নেয়। সেখানে আমিও ছিলাম। আমারও ডান হাতে গুলি লাগে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়।"
তিনি বলেন,"পুলিশ আন্দোলন দমাতে গুলি ছোড়ে। একজনের গুলি লাগে। গিয়ে দেখি তার লাশ পড়ে আছে। অ্যাম্বুলেন্সে করে গুলি আনা হত। দেখতাম পুলিশ গুলি চালাচ্ছে, আবার দুই ঘণ্টা পর বন্ধ করছে। অ্যাম্বুলেন্স এলে আবার গুলি চালানো শুরু করত। আন্দোলনের সময়টা কেমন যে ছিল বলে বর্ণনা করা যাবে না।"
রাজ বলেন, "গুলিটা আমার হাতে লেগেছে। মাথায় বা বুকে লাগলে আমিও মরে যেতে পারতাম। আসামিদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগে মামলা হয়েছে তার বিচার চাই।"

