
চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা টার্মিনাল আগামী জুলাই মাসের মাঝামাঝি থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হবে। সৌদি আরবভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি) প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ শেষ করায় এ সক্ষমতা অর্জন হতে যাচ্ছে। নতুন চারটি গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত হওয়ায় কনটেইনার পরিবহনের গতি ও সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা টার্মিনাল ২০২৪ সালের জুন থেকে পরিচালনা করছে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান আরএসজিটি। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ২২ বছরের চুক্তির আওতায় টার্মিনালটি পরিচালনা করছে তারা।
আরএসজিটি বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও জনসংযোগ বিভাগের প্রধান সাইয়েদ আরেফ সারওয়ার বলেন, টার্মিনালের অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি স্থাপন এবং জনবল উন্নয়নের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে দুই বছর সময় দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, গত দুই বছর ছিল আমাদের সফট অপারেশন বা প্রস্তুতিকাল। শুক্রবার চারটি গ্যান্ট্রি ক্রেন আসার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপনের শেষ ধাপও সম্পন্ন হয়েছে।
তার ভাষ্য, জুলাইয়ের মাঝামাঝি নতুন ক্রেনগুলো চালু হওয়ার পর থেকেই পতেঙ্গা টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হবে।
চীনের স্যানি (SANY) কোম্পানির তৈরি এই বিশেষ গ্যান্ট্রি ক্রেনগুলো একসঙ্গে দুটি ২০ ফুট কনটেইনার পরিচালনা করতে সক্ষম।
সাইয়েদ আরেফ সারওয়ার বলেন, বাংলাদেশের কোনো বন্দরে এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার এবারই প্রথম। পুরো ব্যবস্থাটি বিদ্যুৎচালিত হবে। ফলে ক্রেন পরিচালনায় জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করতে হবে না।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, নতুন ক্রেনগুলো জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানামার সময় কমাবে এবং পরিচালন দক্ষতা বাড়াবে।
বর্তমানে পতেঙ্গা টার্মিনাল বছরে প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার টিইইউ (TEU) বা ২০ ফুট সমমানের কনটেইনার পরিচালনা করে।
নতুন যন্ত্রপাতি যুক্ত হওয়ার পর চলতি বছর এ সংখ্যা চার লাখ টিইইউতে পৌঁছাবে বলে আশা করছে আরএসজিটি। এটি চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনার পরিচালনার প্রায় ১২ শতাংশ।
প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, আগামী বছর পতেঙ্গা টার্মিনালে কনটেইনার পরিচালনার পরিমাণ পাঁচ লাখ টিইইউ ছাড়িয়ে যাবে। তখন এটি চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ১৭ শতাংশ পরিচালনা করবে।
আরএসজিটি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত পতেঙ্গা টার্মিনাল আধুনিকায়নে প্রায় ১৭ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে।
বর্তমানে টার্মিনালটিতে প্রায় ৫০০ স্থায়ী কর্মী কাজ করছেন। পাশাপাশি চুক্তিভিত্তিক আরও প্রায় ৮০০ জন বিভিন্ন সেবা প্রদান করছেন।
সাইয়েদ আরেফ সারওয়ার বলেন, সব কর্মীই বাংলাদেশি। তাদের দেশে ও বিদেশে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কিছু কর্মীকে সৌদি আরবে পাঠিয়ে বন্দর পরিচালনা বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মানের বন্দর পরিচালনায় দক্ষ জনবলের ঘাটতি বাংলাদেশের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। সেই ঘাটতি পূরণে মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগ করছে আরএসজিটি।
পতেঙ্গা টার্মিনাল পরিচালনার মাধ্যমে সৌদি আরবের আরএসজিটি বাংলাদেশের বন্দরে কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রথম বিদেশি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে। পতেঙ্গা টার্মিনালের সক্ষমতা বাড়লে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জট কমবে এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। - সূত্র: আরব নিউজ
আমার বার্তা/এমই

