
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নতুন দিকনির্দেশনা এবং কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে দেশের রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সম্প্রতি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া ‘রাজস্ব সম্মেলন ২০২৬’-এর পর থেকে রাজস্ব আদায় জোরদারে সর্বাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এই সম্মেলনে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং কর জাল সম্প্রসারণের বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের নেতৃত্বে দেশের সকল রাজস্ব কর্মকর্তাকে এক ছাতার নিচে এনে ২০২৬ সালের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ও কর্মপরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। উক্ত সম্মেলনের কৌশলগত সিদ্ধান্তসমূহ রাজস্ব আহরণে গতি আনার পাশাপাশি সামগ্রিক প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেছে।
রাজস্ব প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে রাজস্ব অনুবিভাগ ও শুল্ক-ভ্যাট দপ্তরগুলোতে প্রশাসনিক কঠোরতা ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে শুল্ক ও ভ্যাট ফাঁকি রোধে ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালু এবং ফিল্ড পর্যায়ে অডিট কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। করদাতাদের সেবা সহজীকরণের পাশাপাশি কর ফাঁকিবাজদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রতি কঠোর নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। একই সাথে কর, শুল্ক ও ভ্যাট—এই তিন বিভাগের কর্মকর্তাদের যৌথ ও সমন্বিত প্রচেষ্টায় রাজস্ব আহরণের গতি উর্ধ্বমুখী রাখা সম্ভব হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের প্রশাসনিক দূরদর্শিতা এবং সকল স্তরের কর্মকর্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণে এনবিআরের সার্বিক রাজস্ব প্রবৃদ্ধির ধারা এখন স্পষ্ট দৃশ্যমান। ২০২৬ সালের সকল নির্ধারিত সূচক ও রাজস্ব সংক্রান্ত কার্যক্রম সফলভাবে সমাপ্ত হওয়ায় জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব এবং কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা বহাল থাকলে আগামী দিনগুলোতে জাতীয় রাজস্ব আহরণের এই ধারাবাহিকতা আরও শক্তিশালী ও বেগবান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

