
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে প্রাইভেট শিক্ষার্থীর মায়ের দায়ের কোপে গুরুতর আহত হয়েছেন সিঁথি সীমিতা নামে এক গৃহশিক্ষিকা। গত সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাহচর এলাকায় এ বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষিকা বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত প্রিয়া বেগমকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয় জনতা। ঘটনায় আহতের শ্বশুর মো. শিশু মিয়া বাদী হয়ে প্রিয়া বেগমকে একমাত্র আসামি করে ভৈরব থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় পুলিশ প্রিয়া বেগমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছেন।
আহত শিক্ষিকা সিঁথি সীমিতা উপজেলার পানাউল্লারচর গ্রামের মো.মুরাদ মিয়ার স্ত্রী। অভিযুক্ত প্রিয়া বেগমও একই গ্রামের পার্শ্ববর্তী বাড়ির বায়োজিদ মিয়ার স্ত্রী।
জানা যায়, সিঁথি সীমিতা স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিক্ষকতার পাশাপাশি বাড়িতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের টিউশনি করান। প্রতিদিনের মতো সোমবার সকালেও তিনি বায়েজিদ মিয়ার বাসায় তার মেয়েকে প্রাইভেট পড়াতে যান। পড়ানো শেষে বাড়ি ফেরার সময় সিঁথি সীমিতা ভুলবশত তার ছাতাটি শিক্ষার্থীর বাসায় ফেলে আসেন। সেটি নিতে তিনি পুনরায় ওই বাসায় প্রবেশ করলে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই শিক্ষার্থীর মা প্রিয়া বেগম হাতের দা দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন। এ সময় শিক্ষিকার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।
আহত শিক্ষিকার পরিবারের দাবি, কয়েকদিন আগে অভিযুক্ত প্রিয়া বেগম শিক্ষিকা সিঁথি সীমিতার কাছে ২০ হাজার টাকা ধার চেয়েছিলেন। কিন্তু শিক্ষিকা টাকা দিতে অস্বীকার করায় প্রিয়া বেগম ক্ষুব্ধ ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।
বুধবার (১৫জুলাই) দুপুরে মামলার বাদী আহত শিক্ষিকার শ্বশুর মো. শিশু মিয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, টাকা ধার না দেওয়ায় প্রিয়া বেগম পরিকল্পিতভাবে আমার পুত্রবধূকে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মাথায় ও হাতে গুরুতর জখম করেছে। সে বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আামি এ ঘটনায় সুষ্ঠ বিচার চাই।
মামলার এজাহারে ধার টাকার বিষয়টি উল্লেখ করেননি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই মামলা দায়ের করি। ওই সময় পুত্রবধূর সঙ্গে কথা বলতে পারিনি। পরে ওর সঙ্গে কথা হলে টাকা ধার চাওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছি।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিমন বোস বলেন, ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
আমার বার্তা/এমই

