
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা করেছে দুই ক্রুসহ আট যাত্রীবাহী একটি বিমান। উড্ডয়নের ১০ মিনিট পর কক্সবাজার বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ারে আসা অজ্ঞাত ফোনকলে দাবি করা হয়, ‘বিমানের ভেতরে একটি বোমা রাখা হয়েছে যা যে কোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে।’
কন্ট্রোল টাওয়ার দ্রুত বিষয়টি বিমানবন্দর পরিচালক ও এভিয়েশন সিকিউরিটি ইনচার্জকে অবহিত করলে হুমকি বিবেচনায় ‘ফুল এমার্জেন্সি’ ঘোষণা করা হয়।
তাৎক্ষণিকভাবে ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার (ইওসি) সক্রিয় করা হয় এবং বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও মেডিকেল ইউনিটসহ-সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার তৎপরতায় শুরু হয় সমন্বিত কার্যক্রম।
না, এটি বাস্তবে নয়, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) কতৃক কক্সবাজার বিমানবন্দরে আয়োজিত ‘এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি এক্সারসাইজ ২০২৬’ শীর্ষক পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা মহড়ায় এমন দৃশ্য প্রদর্শন করা হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে অনুষ্ঠিত মহড়ায় বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, এ ধরনের মহড়া শুধু দুর্বলতা শনাক্তের সুযোগই সৃষ্টি করে না, বরং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বৃদ্ধি করে যাত্রীসেবায় আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।'
তিনি জানান, গত বছরের ১৮ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের সময় সব সংস্থার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল। বর্তমান মহড়াটি আসন্ন আইকাও নিরাপত্তা অডিটের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুটে উন্নীতকরণ এবং নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনাল নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
মহড়ায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর আবু সাঈদ মেহ্বুব খান, সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল, বেবিচকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীগণ।
প্রতি দুই বছর অন্তর হাইজ্যাক, বোমা হামলাসহ নানাবিধ ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা যাচাই এবং অংশীজনদের প্রস্তুতি বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ ধরনের মহড়ার আয়োজন করা হয় বলে জানায় বেবিচক।
আমার বার্তা/এমই

