
বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কর্মী অভিবাসনের ক্ষেত্রে মাত্র কয়েকটি দেশের ওপরই নির্ভরতা রয়ে গেছে। ২০২৫ সালে মোট অভিবাসীর ৬৭ শতাংশই গেছেন সৌদি আরবে—এমন তথ্য তুলে ধরেছে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু)।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ তথ্য উপস্থাপন করেন রামরুর চেয়ারপারসন অধ্যাপক তাসনিম সিদ্দিকী।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন আলোকচিত্রী ও লেখক ড. শহিদুল আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ রাশেদ আলম, রামরুর গবেষক মেরিনা সুলতানা, রোকেয়া নাসরিন, মাহমুদুল হাসানসহ প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
তাসনিম সিদ্দিকী জানান, ব্যুরো অব ম্যানপাওয়ার, অ্যামপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিংয়ের (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী ২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে কর্মীরা ১৪১টি দেশে অভিবাসিত হয়েছেন। তবে বাস্তবে প্রায় ৯০ শতাংশ বাংলাদেশি কর্মী অভিবাসন করেছেন মাত্র পাঁচটি দেশে। বিপরীতে ১৩টি দেশে মাত্র একজন করে কর্মী গেছেন এবং ৩৪টি দেশে দুই থেকে ১০ জন করে কর্মী অভিবাসন করেছেন। মোট অভিবাসীর মাত্র ২ শতাংশ গেছেন ১২৩টি দেশে।
এসময় রামরু জানায়, যেসব দেশে ১০০ জনের কম অভিবাসী কর্মী যান, সেসব দেশকে অভিবাসনের গন্তব্য দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা যৌক্তিক নয়।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়, মোট অভিবাসীর ৬৭ শতাংশ বা ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৩৬৯ জন সৌদি আরবে গেছেন। এরপর কাতারে ১০ শতাংশ (১ লাখ ৭ হাজার ৫৯৬ জন), সিঙ্গাপুরে ৬ শতাংশ (৭০ হাজার ১৭৭ জন), কুয়েতে ৪ শতাংশ (৪২ হাজার ২৪১ জন) এবং মালদ্বীপে ৪ শতাংশ (৪০ হাজার ৮৩২ জন) কর্মী অভিবাসন করেছেন।
২০২৫ সালে সৌদি আরবে সর্বাধিক নারী কর্মী অভিবাসন করেছেন। এসময়ে দেশটিতে গেছেন ৪৮ হাজার ৮৩২ জন নারী কর্মী। জর্ডানে গেছেন ১০ হাজার ৫২৫ জন। এছাড়া কাতার, ব্রুনেই, সংযুক্ত আরব আমিরাত, দক্ষিণ কোরিয়া, কুয়েত, হংকং ও জাপানেও নারী কর্মীদের অভিবাসন হয়েছে। তবে হংকং ও জাপানে নারী অভিবাসীর সংখ্যা ছিল তুলনামূলকভাবে খুবই কম।
রামরুর গবেষণায় দেখা যায়, দেশের কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে অভিবাসন বেশি হচ্ছে। এর মধ্যে কুমিল্লা থেকে ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ, ঢাকা ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ, টাঙ্গাইল ৪ দশমিক ২৯ শতাংশ, কিশোরগঞ্জ ৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ, চাঁদপুর ৩ দশমিক ৮০ শতাংশ, চট্টগ্রাম ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ, নোয়াখালী ৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ, নরসিংদী ৩ দশমিক ০৮ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ থেকে ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ কর্মী অভিবাসন করেছেন।
বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি অভিবাসন হয়েছে ঢাকা বিভাগ থেকে এবং সবচেয়ে কম রংপুর বিভাগ থেকে।
বিএমইটির শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী অভিবাসী কর্মীদের চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়—পেশাজীবী, দক্ষ, আধাদক্ষ ও স্বল্পদক্ষ। ডাক্তার, প্রকৌশলী, আর্কিটেক্ট, শিক্ষক, একাউন্ট্যান্ট, কম্পিউটার অপারেটর, ফার্মাসিস্ট, নার্স, ফোরম্যান, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার, প্যারামেডিক ও বিক্রয়কর্মীরা পেশাজীবী হিসেবে বিবেচিত হন। অভিবাসন ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনা এবং নতুন শ্রমবাজার তৈরির দিকে গুরুত্ব না দিলে ভবিষ্যতে ঝুঁকি আরও বাড়বে বলেও জানায় রামরু।
আমার বার্তা/এল/এমই

