
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর শেরাটন হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মালদ্বীপের টেকসই মৎস্য আহরণ পদ্ধতি, ঐতিহ্যবাহী রন্ধনশৈলী ও পর্যটন শিল্প তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত। এতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, পর্যটন ও মৎস্য খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং গণমাধ্যমকর্মীসহ প্রায় ২৫০ জন অতিথি অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালদ্বীপের হাইকমিশনার মিস শিউনিন রাশিদ মালদ্বীপের অর্থনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতিতে মৎস্য খাতের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি দেশটির ঐতিহ্যবাহী ‘পোল-অ্যান্ড-লাইন’ পদ্ধতিতে টুনা আহরণ এবং টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের বাজারে মালদ্বীপের টুনা ও অন্যান্য মৎস্যজাত পণ্যের প্রসারের সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের ফলে পর্যটন, বাণিজ্য ও ব্যবসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে মৎস্য ও পর্যটন খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। টেকসই মৎস্য আহরণ ও পর্যটন উন্নয়নে দুই দেশের যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে মালদ্বীপের অন্যতম প্রধান মৎস্যপণ্য টুনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। অতিথিদের দেশটির বিভিন্ন মৎস্যজাত পণ্যের সঙ্গে পরিচয় করানোর পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী ‘পোল-অ্যান্ড-লাইন’ পদ্ধতির প্রদর্শন করা হয়। এ পদ্ধতিতে একবারে একটি করে টুনা মাছ ধরা হয়।
এ ছাড়া মালদ্বীপের রন্ধনশৈলীতে টুনার ব্যবহার তুলে ধরতে সরাসরি রান্নার প্রদর্শনী করেন দেশটির শেফ মহা নাসির। তিনি টুনা ও অন্যান্য মৎস্যজাত পণ্য দিয়ে মালদ্বীপের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খাবার তৈরির পদ্ধতি অতিথিদের সামনে তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে মালদ্বীপের পর্যটন শিল্পের বিভিন্ন দিকও তুলে ধরা হয়। দেশটির দ্বীপকেন্দ্রিক জীবনযাপন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, আতিথেয়তা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে অতিথিদের ধারণা দেওয়া হয়।
হাইকমিশন জানিয়েছে, আয়োজনটির মাধ্যমে বাংলাদেশে মালদ্বীপের মৎস্যজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা এবং পর্যটন খাতে দুই দেশের পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ তুলে ধরা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করে এপিটিচিয়া হোল্ডিংস প্রাইভেট লিমিটেড, ভারু বাই অ্যাটমোস্ফিয়ার, মালদ্বীপ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিশারিজ কোম্পানি লিমিটেড (মিফকো), মালদিভিয়ান এয়ারলাইন্স, শেরাটন ঢাকা, দ্য ওয়ে ঢাকা এবং ইনজা কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড।

