ই-পেপার বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩

অনেক দেশই আমাদের মতো একই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আমার বার্তা অনলাইন:
১৩ জুন ২০২৬, ১২:৩১

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আমরা যেসব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছি এবং এক্ষেত্রে আমরা একা নই, অনেক দেশই একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে, তা বিভিন্ন রূপে আমাদের সামনে উপস্থিত।

শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর এক হোটেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত ‌‘বাণিজ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনীতিক কর্মপরিকল্পনা বিষয়ক সম্মেলন’, ‘ঝুঁকি মোকাবেলায় স্থিতিস্থাপকতার সদ্ব্যবহার’ শীর্ষক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ধীর গতির বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্য, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, বাণিজ্য নীতির অনিশ্চয়তা, জলবায়ুজনিত ঝুঁকি, ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য বাধা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে (সাপ্লাই চেইন) কাঠামোগত পরিবর্তনের মতো চ্যালেঞ্জগুলোর বিপরীতে আমাদের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততাকে নতুন করে সাজানোর কাজটি আমাদের জন্য একটি বড় বিষয় ছিল। এছাড়া চলমান জ্বালানি সংকট এই জটিলতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এসব নতুন ঘটনা আমাদের সার্বিক নীতি নির্ধারণ এবং অর্থনৈতিক কূটনীতির ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলছে। ঠিক এই কারণেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আজকের এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বৈশ্বিক বিনিয়োগের জন্য প্রতিযোগিতামূলক, নিরপেক্ষ এবং স্থিতিশীল পরিবেশের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম গন্তব্য হতে চায় বাংলাদেশ।

তিনি আরও বলেন, প্রথমত, আমাদের প্রধান বাজারগুলোর প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা এখনও ইতিবাচক ধারায় থাকলেও, ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করলে তা বেশ মাঝারি পর্যায়ে রয়েছে।

এখন প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা যদি মন্থর থাকে, তবে তা ক্রেতাদের চাহিদাকেও মন্থর করে দিতে পারে, যা সরাসরি এসব বাজারে আমাদের রপ্তানির ওপর প্রভাব ফেলবে। তাই আমাদের রপ্তানির অংশ ধরে রাখতে এবং বাড়াতে আগের চেয়ে অনেক বেশি তীব্র প্রতিযোগিতা করতে হবে।

তিনি বলেন, দ্বিতীয়ত, আর্থিক বাজার এবং প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ এবং বাণিজ্যকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করছে। বাণিজ্যের প্রবাহ সুদের হারের ওঠানামা বা বিনিয়োগকারীদের মনোভাবের পরিবর্তনের কারণে ক্রমশ সংবেদনশীল হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশ এবং অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঋণ নেওয়ার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে এবং বাজারের আকস্মিক পরিবর্তনের ফলে এসব দেশ চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, যেখানে উন্নত অর্থনীতিগুলো তুলনামূলকভাবে কম বাজার সুদে ঋণ নিতে পারে, সেখানে আমাদের মতো দেশগুলোকে বৈদেশিক ঋণের জন্য ৬ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত সুদ দিতে হয়। এর ফলে সাশ্রয়ী ও নিরাপদ অর্থায়নের ক্ষেত্রে আমাদের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত হয়ে পড়েছে। অন্যান্য অনেক উন্নয়নশীল দেশের মতো, বাংলাদেশও মুদ্রার অস্থিতিশীলতা, ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতার পরিবর্তন এবং আর্থিক অস্থিতিশীলতার মতো বিষয়গুলোর প্রতি তীব্র সংবেদনশীল, যেগুলোর ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ খুবই সামান্য।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, চলমান জ্বালানি সংকট ইতোমধ্যে নিট জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর আমদানি ব্যয়ের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। জ্বালানির বর্ধিত মূল্য সরাসরি উৎপাদন ব্যয়কে প্রভাবিত করে, যা শেষ পর্যন্ত আমাদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমিয়ে দেয়। যে গুরুত্বপূর্ণ তহবিলগুলো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যয় হওয়ার কথা ছিল, তা অন্যদিকে চলে যাওয়ায়, আগামী বছরগুলোতে আমরা এর দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রভাব হিসেবে তহবিলের প্রাপ্যতা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেতে দেখব বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা সম্প্রতি বলেছে যে, বর্তমান এই সংকটের ব্যাপ্তি ১৯৭৪ সালের তেল নিষেধাজ্ঞা এবং ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের সময় দেখা দ্বৈত সংকটের চেয়েও অনেক বড় হতে পারে। আমার বয়সী যাদের মনে আছে, তারা জানেন যে এসব সংকটের ফলে সেসময় উন্নয়নের একটি দশক হারিয়ে গিয়েছিল। আমাদের দেশে অতীতের দূরদর্শী পদক্ষেপগুলো মূলত কৃষির আধুনিকায়ন থেকে বাজার উদারীকরণের দিকে মনোযোগ সরাতে এবং তৈরি পোশাক খাতের ভিত্তি স্থাপনে ব্যাপকভাবে সহায়তা করেছিল, যা বর্তমানে আমাদের দেশের সর্ববৃহৎ রপ্তানি খাত এবং সামগ্রিক আয়ের প্রধান উৎস।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিগত বিষয়ে সংক্ষেপে কিছু বলতে চাই, যা হলো বাণিজ্য ও প্রযুক্তির মেলবন্ধন। এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ব্লকচেইন, ফাইভ-জি প্রযুক্তি, ইন্টারনেট অব থিংস ইত্যাদির মতো উদ্ভাবন ব্যবহারের মাধ্যমে আন্তঃসীমান্ত লেনদেনকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যকে দ্রুত নতুন রূপ দিচ্ছে। আমরা কত দ্রুত এবং কার্যকরভাবে এই পরিবর্তনশীল বাণিজ্য-প্রযুক্তির (ট্রেড-টেক) সুবিধা কাজে লাগাতে পারি, তার ওপর ভিত্তি করে এটি আমাদের জন্য একইসঙ্গে একটি চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগ তৈরি করেছে।

তিনি আরও বলেন, এই বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে, এসব চ্যালেঞ্জকে নতুন সম্ভাবনায় পরিণত করতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী তিনটি মূল লক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে একটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট রূপকল্প (ভিশন) উপস্থাপন করেছেন। সেগুলো হলো, স্থিতিশীলতা আনা, সংস্কার এবং উত্তরণ। আমাদের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কূটনীতির কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে এই রূপকল্পকে এখন আমাদের বাস্তব পদক্ষেপে পরিণত করতে হবে।

আমার বার্তা /জেএইচ

মাদক, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাং দমনে সরকার বদ্ধপরিকর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার মাদক, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধে বদ্ধপরিকর। বুধবার

মিয়ানমারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে রোহিঙ্গা প্রত‌্যাবাসন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন একটি অত্যন্ত জটিল, সংবেদনশীল এবং বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক বিষয় উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর

মাদক কারবারি, চাঁদাবাজদের গ্রেফতারের নির্দেশ ডিএমপি কমিশনারের

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সজাগ থাকতে বলেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্

সামান্য বরাদ্দে সরকারের ২০৩০ সালের জ্বালানি রূপান্তর লক্ষ্য অসম্ভব

প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে বরাদ্দের মাত্র ২ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য রাখা হয়েছে। বাকি
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মাদক, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাং দমনে সরকার বদ্ধপরিকর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

হঠাৎ কেন ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের জন্য টাকা নিচ্ছে মেটা

মিয়ানমারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে রোহিঙ্গা প্রত‌্যাবাসন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মাদক কারবারি, চাঁদাবাজদের গ্রেফতারের নির্দেশ ডিএমপি কমিশনারের

সামান্য বরাদ্দে সরকারের ২০৩০ সালের জ্বালানি রূপান্তর লক্ষ্য অসম্ভব

তিস্তায় আরেকটি ব্যারাজ নির্মাণে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে: প্রধানমন্ত্রী

সরকারি কলেজ-মাদ্রাসায় অধ্যাপক পদে শূন্যপদের তথ্য চেয়েছে মাউশি

দেশের ৭৫টি কারাগারে ধারণক্ষমতার ১.৭ গুণ বন্দি আটক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বেগম রোকেয়া পদক দিতে শিক্ষা খাতের যোগ্য নারীদের খুঁজছে সরকার

পররাষ্ট্রনীতির প্রধান লক্ষ্য কূটনৈতিক সম্পর্কের কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা

ব্যাটিং ব্যর্থতায় অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৫ উইকেটে হারল বাংলাদেশ

ইংলিশ চ্যানেলে রাশিয়ার গুলিবর্ষণ, বেপরোয়া বললেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

চালের দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি বর্তমানে যথেষ্ট স্থিতিশীল: বাণিজ্যমন্ত্রী

৫ বছরের মধ্যে কর জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে

স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে: তথ্যমন্ত্রী

সীমান্তে হত্যা মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিএসএফকে জোরালো প্রতিবাদ

টেকনাফে ১ কোটি ৫ লাখ টাকা মূল্যের ২১ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ

বাকলিয়ায় আলোচিত শিশু ধর্ষণ মামলার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

১ বছরের মধ্যে সব নারী চা শ্রমিকের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেবো: প্রধানমন্ত্রী

বিআরটিএর কর আদায়ে চুক্তির ব্যয় বাড়ল ২১ কোটি ৪২ লাখ টাকা