
এক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্য হুমকির শিকার হওয়ার পর এবার ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার মুখে পড়লেন জনপ্রিয় নারী ডিজে নাইরা। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৯ জানুয়ারি ২০২৬, কক্সবাজারে একটি শোতে অংশ নিতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার সময়।
প্রত্যক্ষ তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর সড়কে চলাচলের সময় একটি খালি পিকআপ ভ্যান ডিজে নাইরার ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশাকে লক্ষ্য করে পরপর দুইবার সজোরে ধাক্কা দেয়। আকস্মিক এই সংঘর্ষে সিএনজিটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ভেতরে থাকা ডিজে নাইরা গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনায় তার হাতের একটি আঙুলে ফ্র্যাকচার, হাতে গভীর কাটা জখম হয়ে সেলাই দিতে হয়, পাশাপাশি পায়ের হাড়েও ফ্র্যাকচার ধরা পড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি ঢাকার একটি ফার্মেসি থেকে তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন।
শারীরিক অবস্থার অবনতি সত্ত্বেও পূর্বনির্ধারিত পেশাগত দায়িত্বের কারণে ডিজে নাইরা ঢাকা এয়ারপোর্টে পৌঁছে কক্সবাজারগামী ফ্লাইটে ওঠেন। কক্সবাজার পৌঁছানোর পর তাকে দ্রুত ফুয়াদ আল-খতীব হাসপাতাল, কক্সবাজারে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তার আঘাতের বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করেন।
আগেই ছিল সামাজিক মাধ্যমে হয়রানি ও জিডি দুর্ঘটনার পেছনে আরও উদ্বেগজনক একটি প্রেক্ষাপট সামনে এসেছে। ডিজে নাইরার অভিযোগ, কিছুদিন আগে পুরান ঢাকার কয়েকজন কথিত “ছাপড়ি ডিজে” তাকে লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তিমূলক ও উসকানিমূলক পোস্ট দেয়। একাধিকবার থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পরবর্তীতে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বিষয়টি প্রকাশ্যে আনতে তিনি তার ফেসবুক পেজে জিডির কপি প্রকাশ করেন।
জিডির পর প্রকাশ্য হুমকি ডিজে নাইরার দাবি, জিডির কপি প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট একজন ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওপেন থ্রেট দিয়ে স্ট্যাটাস দেয়। বিষয়টি তখনও বড় কোনো পরিণতির দিকে যাবে-এমনটা কেউ ধারণা করেনি।
তবে সেই হুমকির প্রায় এক মাস পরই ঘটে এই মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনা। ফলে পুরো ঘটনাকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হামলা প্রশ্ন উঠছে পূর্ববর্তী হুমকি, সময়ের ব্যবধান এবং দুর্ঘটনার ধরন—সবকিছু মিলিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এটি কি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে?
বর্তমানে ডিজে নাইরা শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিকভাবেও চরম উদ্বেগে রয়েছেন। তিনি নিজের নিরাপত্তা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।
ডিজে নাইরা বলেন, “আগে অনলাইনে হুমকি, তারপর এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা—সবকিছু মিলিয়ে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি চাই বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হোক।”
ঘটনাটি ইতোমধ্যে বিনোদন অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সবাই।

