৪০ বছর পর এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের ব্যক্তিগত পদক
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:২০ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

জাপানকে হারালেই কাবাডিতে পদক নিশ্চিত হতো বাংলাদেশের। তাই বিকেলে নাগোয়ার টোকাই ডরি ইনডোর স্টেডিয়ামে বাংলাদেশি কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা ভিড় জমিয়েছিলেন। জাপানের কাছে হেরে কাবাডি দলের পদক যখন অনিশ্চয়তায়, তখনই খবর আসে উশুতে পদক পেল বাংলাদেশ। যা ৪০ বছর পর এশিয়ান গেমসে লাল-সবুজের কোনো প্রতিনিধির ব্যক্তিগত পদক।
নারী ৫২ কেজি ওজন শ্রেণিতে বাংলাদেশের উশু খেলোয়াড় জিন্নাত আক্তার সেমিফাইনালে উঠেছেন। টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টন ও কাবাডির মতো উশুতে সেমিফাইনালে পরাজিত অ্যাথলেটও ব্রোঞ্জ পদক পান। এশিয়ান গেমসেও এই নিয়ম প্রযোজ্য বলে জানান বাংলাদেশ উশু এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক দিলদার হাসান দিলু, ‘কোয়ার্টার ফাইনালে জিন্নাতের প্রতিপক্ষ ইন্দোনেশিয়ার প্রতিযোগী ফ্লোরেন্তিনা থারিসা ওভার ওয়েট ছিলেন। এজন্য সে ডিসকোয়ালিফাইড হওয়ায় আমাদের জিন্নাত সেমিফাইনালে উঠার পাশাপাশি ব্রোঞ্জ জিতেছে।’
২০২৫ সালে ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে উশুতে বাংলাদেশ পদক পেয়েছে এমন খবর রটিয়েছিল। পরে জানা যায়, ওই ইভেন্টে প্রতিযোগির সংখ্যা কম থাকায় ব্রোঞ্জের জন্য আলাদা ম্যাচ খেলতে হবে। তাই আজ অন্তত ব্রোঞ্জ জয়ের খবর পাওয়ার পর খানিকটা সংশয় ছিল অনেকের মনে। এবার বাংলাদেশ উশুর সাধারণ সম্পাদক ও দলটির কোচ দিলুর ভাষ্য, ‘ছয় জনের কম হলে ব্রোঞ্জের জন্য আলাদা ম্যাচ হয়। এই ইভেন্টে ১৫ জন প্রতিযোগী, তাই সেমিফাইনালে পরাজিত খেলোয়াড়রাও ব্রোঞ্জ পাবে।’
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের শেফ দ্য মিশন মেজর ইমরোজ আহমেদ বলেন, ‘উশুর সাধারণ সম্পাদক পদকের বিষয়টি আমাদের রিকনফার্ম করেছে। এশিয়ান গেমসে সেমিফাইনালিস্ট পদক পায়। জিন্নাতের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়েছে, সেই হিসেবে পদকও নিশ্চিত বলা যায়। আয়োজক কমিটির সাথে এখনও আলাপ হয়নি, তবে পদক নিশ্চিত।’
৫২ কেজি নারী ইভেন্টে ১৫ জন খেলোয়াড় নকআউট পদ্ধতিতে প্রি কোয়ার্টার খেলে। বাংলাদেশের একমাত্র অ্যাথলেট হিসেবে জিন্নাত এই রাউন্ডে বাই পান। কোয়ার্টারে তার প্রতিপক্ষ হয় ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেন্তিনা। যিনি প্রি কোয়ার্টারে ফিলিপাইনের কিলাপোকে পরাজিত করেন। ২০ সেপ্টেম্বর ফ্লোরেন্তিনা খেলায় অংশগ্রহণ করলেও আজ তিনি অযোগ্য হয়েছেন। ফলে বাংলাদেশের জিন্নাত না খেলেই এশিয়াডের পদক পাচ্ছে।
১৯৭৮ সাল থেকে বাংলাদেশ এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণ করে। ১৯৮৬ সালে সিউল এশিয়ান গেমসে বক্সার মোশাররফ ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। এটি ছিল এখন পর্যন্ত ব্যক্তিগত ইভেন্টে বাংলাদেশের একমাত্র পদক। এরপর বাংলাদেশ কাবাডি ও ক্রিকেটে পদক পেলেও সেটা ছিল দলীয় ডিসিপ্লিন। চার দশক পর এশিয়াডে আরেকটি ব্যক্তিগত পদক পাচ্ছে বাংলাদেশ। যদিও কোনো ম্যাচে লড়াই না করেই!
