আমি শুধু ফ্রান্সকেই চেয়েছিলাম: জাতীয় দলের দায়িত্বে জিদান

প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৬:২৫ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্রান্স জাতীয় দলের প্রধান কোচ হলেন জিনেদিন জিদান। মঙ্গলবার ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন এই নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। অনেক দিন ধরেই তাকে এই পদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রত্যাশারই বাস্তবায়ন হলো দিদিয়ের দেশমের বিদায়ের পর।

চুয়ান্ন বছর বয়সী জিদান দায়িত্ব নিচ্ছেন এমন এক সময়, যখন দেশমের দীর্ঘ এক যুগের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। ২০১২ সালে ফ্রান্সের দায়িত্ব নেওয়া দেশম চলতি মাসে বিশ্বকাপে ফ্রান্সের চতুর্থ স্থান অর্জনের মধ্য দিয়ে নিজের দায়িত্ব শেষ করেন। তার অধীনে ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল ফ্রান্স। এরপর চার বছর পর আবারও দলকে তুলেছিলেন বিশ্বকাপের ফাইনালে।

১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের সতীর্থ ছিলেন জিদান ও দেশম। খেলোয়াড়ি জীবনে একসঙ্গে ইতিহাস গড়া এই দুই কিংবদন্তির মধ্যে এবার দায়িত্বের ব্যাটনও যেন হাতবদল হলো। ২০২১ সালে রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকেই জাতীয় দলের কোচ হওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছিলেন জিদান।

প্যারিসে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিক পরিচয়পর্বে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে জিদান স্পষ্ট করে বলেন, ‘ফ্রান্সের দায়িত্বই ছিল একমাত্র কাজ, যেটি আমি করতে চেয়েছি। গত চার-পাঁচ বছরে বিভিন্ন ক্লাবের কোচ হওয়ার প্রস্তাব পেয়েছি। কিন্তু সবগুলোই ফিরিয়ে দিয়েছি, কারণ আমার লক্ষ্য ছিল শুধু ফ্রান্স জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়া।’

ফ্রান্সের জাতীয় দলের সাবেক সতীর্থ লরাঁ ব্লাঁ ও দেশমের পথ অনুসরণ করে এবার জাতীয় দলের ডাগআউটে দাঁড়াবেন জিদান। খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি ফ্রান্সকে ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ ও ২০০০ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জিতিয়েছিলেন। দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে তার নাম উচ্চারিত হয় আজও।

কোচিং ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত মাত্র একটি ক্লাবের দায়িত্ব পালন করেছেন জিদান, সেটি রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু সেই এক ক্লাবেই তিনি গড়েছেন অনন্য এক ইতিহাস। তার অধীনে ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে টানা তিনবার উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতে রিয়াল মাদ্রিদ। আধুনিক যুগে এই প্রতিযোগিতায় টানা তিনটি শিরোপা জয়ের কীর্তি এখনও অনন্য।

এবার সেই সফলতার ছাপ জাতীয় দলেও রাখতে পারবেন কি না, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা। বিশ্বকাপজয়ী এক কিংবদন্তি খেলোয়াড় এবং ইতিহাস গড়া ক্লাব কোচ হিসেবে জিদানের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, ফ্রান্সকে আবারও বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসনে ফিরিয়ে নেওয়া।


আমার বার্তা/এমই