বিশ্বকাপের হাজারতম ম্যাচে তিউনিসিয়াকে গুঁড়িয়ে নকআউটে জাপান
প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৬, ১২:১৯ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

বিশ্বকাপে গোলবন্যায় ভেসে দিকহারা তিউনিসিয়ার জালে শুরুতেই বল জড়ায় জাপান, গোটা ম্যাচ জুড়ে দাপট দেখিয়ে আরও তিনবার কাঙ্ক্ষিত ঠিকানা খুঁজে নেয় এশিয়ার দল। নেদারল্যান্ডসকে রুখে দেওয়ার পর তিউনিসিয়াকে গুঁড়িয়ে রেকর্ড গড়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে এক পা দিয়ে দিল ব্লু সামুরাইরা।
মেক্সিকোর মন্তেরেই স্টেডিয়ামে 'এফ' গ্রুপের ম্যাচ জাপান জিতেছে ৪-০ গোলে। দাইচি কামাদা ৪ মিনিটে দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর জোড়া গোল পান আয়াসে উয়েদা, বাকি গোল আসে জুনিয়া ইতোর পা থেকে।
ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসের এটি ১০০০তম ম্যাচ। তাতে জিতে ইতিহাসে নাম লেখালো জাপান। এই দাপুটে জয়ের মাধ্যমে 'সামুরাই ব্লু'রা যেমন নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড গড়ল, ঠিক তেমনি প্রথম এশিয়ান দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের কোনো একক ম্যাচে ৪টি গোল করার এক অনন্য কীর্তি স্থাপন করল।
নিজেদের প্রথম ম্যাচে সুইডেনের কাছে গোল হজম করেছিল তিউনিসিয়া, ফলে দুই ম্যাচে ৯ গোল হজম করে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে তারা। প্রথম ম্যাচে বিধ্বস্ত হওয়ার পর কোচ সাব্রি লামুচিকে বরখাস্ত করে আলোচনার জন্ম দেয় তারা। ২০২২ বিশ্বকাপে সৌদি আরবের কোচ হয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আলোচিত জয় পাওয়া হার্ভে রেনার্ডকে দায়িত্ব দেয় তিউনিসিয়া। তবে রেনার্ড কোচ হয়ে মিরাকল কোনো বদল আনতে পারেননি।
ম্যাচের শুরু থেকেই তিউনিসিয়াকে চেপে ধরে জাপান। ম্যাচের বয়স যখন মাত্র ৪ মিনিট, তখনই ডান প্রান্ত থেকে রিতসু দোয়ানের সহায়তার কেইতো নাকামুরা বক্সে নিচু ক্রস বাড়ান। সেখানে অবস্থান করা মিডফিল্ডার দাইচি কামাদা চমৎকার এক ব্যাকহিলে বল জালে জড়ান। এটি বিশ্বকাপে জাপানের ইতিহাসে দ্রুততম গোলের রেকর্ড।
শুরুতেই গোল হজম করে তিউনিসিয়ার ডিফেন্ডাররা খেই হারিয়ে ফেলে। ১০ মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত, তবে তিউনিসিয়া রক্ষণভাগের দুর্দান্ত এক ইন্টারসেপশন এবং গোলরক্ষক ডাহমেনের গোললাইন সেভের কারণে সে যাত্রা বেঁচে যায় তারা। তবে জাপানের একের পর এক আক্রমণ সামাল দেওয়া সম্ভব ছিল না। ৩১ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে ইতাকুরার পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তিউনিসিয়ার ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে নিখুঁত নিচু শটে গোল করেন স্ট্রাইকার আয়াসে উয়েদা। প্রথমার্ধের বাকি সময় বল পজিশন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় জাপান।
বিরতির পর তিউনিসিয়ার কোচ হার্ভে রেনার্ড দুটি পরিবর্তন এনে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করেন। ৪৯ মিনিটে ম্যাচে তিউনিসিয়ার সামনে সেরা সুযোগটি এসেছিল, কিন্তু বক্সের ভেতর ফাঁকায় বল পেয়েও ঠিকঠাক শট নিতে পারেননি হানিবাল।
তিউনিসিয়া যখন ম্যাচে ফেরার সুযোগ খুঁজছিল, তখনই তাদের ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেন জুনিয়া ইতো। ৬৯ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে তানাকার পাস খুঁজে নেয় উয়েদাকে। উয়েদার প্রথম টাচের পাস থেকে বল পেয়ে চমৎকার ফিনিশিংয়ে লক্ষ্যভেদ করেন ইতো।
ম্যাচের শেষদিকে ৮৩ মিনিটে আসে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কাইশু সানো এবং জুনিয়া ইতোর ওয়ান-টু-ওয়ান পাসিং থেকে সানোর চমৎকার ক্রসে হেড করে নিজের দ্বিতীয় ও দলের ঐতিহাসিক চতুর্থ গোলটি করেন আয়াসে উয়েদা। শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত তিউনিসিয়া কোনো প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেনি।
এই জয়ের পর জাপানের পয়েন্ট নেদারল্যান্ডসের সমান হলেও গোল গড়ে পিছিয়ে তারা আছে দুইয়ে।
আমার বার্তা /জেএইচ
