বার্সেলোনার মাঠে বিতর্ক, স্পেন-মিশর খেলার মাঝে মুসলিম-বিদ্বেষী স্লোগান

প্রকাশ : ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪১ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন

বার্সেলোনার আরসিডিই স্টেডিয়ামে বিতর্কিত ঘটনার জন্ম দিলো স্প্যানিশ ফুটবল ভক্তরা। মিশরের বিপক্ষে তারা মাঠের লড়াইয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছে। পাশাপাশি গ্যালারিতে মুসলিম-বিদ্বেষী স্লোগান তুলে গায়ে কলঙ্কের দাগ লাগিয়েছে স্বাগতিক সমর্থকরা। যদিও যেকোনো ধরনের বিদ্বেষী অবস্থানের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানের কথা স্পষ্ট জানিয়েছে স্প্যানিশ ফুটবল কর্তৃপক্ষ ও কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।

গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে মার্চ উইন্ডোর সর্বশেষ প্রীতি ম্যাচে মিশরকে আতিথ্য দেয় স্পেন। পুরো ম্যাচে কেউ গোলের দেখা পায়নি। যদিও ৮৪ মিনিটে মিশরীয় মিডফিল্ডার হামদি ফাতহি লাল কার্ড দেখায় তারা ১০ জনের দলে পরিণত হয়। তবুও সেই সুবিধা কাজে লাগিয়ে ডেডলক ভাঙতে পারেনি লা ফুয়েন্তের দল। এর আগে প্রথমার্ধে মুসলিম বিরোধী শোরগোল তুলতে শোনা যায় স্প্যানিশ সমর্থকদের।

একাধিকবার বিতর্কিত ওই ঘটনার পর খেলার বিরতিতে দর্শকদের সতর্ক করে জায়ান্ট স্ক্রিনে বার্তা দেয় এসপানিওল আরসিডিই স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সেটিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শিস বাজানোর পর দ্বিতীয়ার্ধেও একই বার্তা দেওয়া হয়। যেখানে বলা হয়, যেকোনো বিদ্বেষী আচরণ ও গান গাওয়া থেকে দর্শকদের বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্য র‌য়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ) লিখেছে– ‘ফুটবলে সকল বর্ণবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় আরএফইএফ। একইসঙ্গে স্টেডিয়ামে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খল আচরণের নিন্দা জানাচ্ছে।’

এর আগে মিশরের বিপক্ষে স্পেনের ম্যাচ চলাকালে বেশ কয়েকবার দর্শকদের একাংশ গাইতে থাকে– ‘যদি তুমি লাফ না দাও, তবে তুমি মুসলিম।’ এ ছাড়া বিরতির সময় মিশরীয় ফুটবলাররা হাঁটু গেড়ে বসা ও মাঠে চুমু দেওয়ার সময় তাদের উদ্দেশে শিস বাজায় কেউ কেউ। স্পেনের প্রতিপক্ষ ফুটবলারদের হেয় করাই যে এর উদ্দেশ্য তা বিস্তারিত বলা বাহুল্য। খেলা শেষে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তাদের সমাজচ্যুত করার দাবি তুলেছেন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।

স্পেনের সর্বশেষ ইউরোজয়ী এই কোচ বলছেন, ‘আমি যেকোনো ধরনের বিদ্বেষ বা বর্ণবাদী আচরণের বিরোধিতা করছি...এটি কোনোভাবেই সহনীয় নয়। আমি আসলেই জানি না এখানকার প্রোটোকল কেমন, তবে আমার ধারণা স্কোরবোর্ডে যে ঘোষণাটা দেওয়া হয়েছিল সেটি সঠিক সিদ্ধান্ত। এটা (মুসলিম-বিদ্বেষী স্লোগান) অসম্মানজনক…এবং স্টেডিয়ামের বেশিরভাগই তাদের উদ্দেশে শিস বাজিয়েছে। এর বেশি কিছু বলার নেই। তারা ফুটবলের প্রতিনিধি নয়, বরং ফুটবলের সুবিধাটা নিচ্ছে। যা তারা অন্য এলাকায় গিয়েও করে। সমাজ থেকে এসব মানুষকে দূর করা দরকার…যত দূরে তাদের সরিয়ে নেওয়া হবে ততই মঙ্গল।’

প্রসঙ্গত, মিশর ধর্মীয় মুসলিম অধ্যুষিত দেশ এবং ইসলাম তাদের রাষ্ট্রধর্ম। স্পেনে সংখ্যালঘু হলেও মুসলিমদের উপস্থিতি আছে। এমনকি তাদের প্রধান তারকা ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামালও একজন মুসলিম। মরক্কো বংশোদ্ভুত এই খেলোয়াড় নিজেও ইসলামী বিধান মানেন, যা সর্বশেষ রমজানেও দেখা গেছে। এদিকে, আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন-মিশর উভয়েই। ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ‘এইচ’ গ্রুপে উরুগুয়ে, কেপভার্দে ও সৌদি আরব এবং মোহামেদ সালাহ’র মিশর ‘জি’ গ্রুপে বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড ও ইরানের সঙ্গে খেলবে।