রক্ষকই যখন ভক্ষক: পুলিশ ও পাট-ক্রয় কর্মকর্তার বিপুল অবৈধ সম্পদ, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর জোর তদন্তের দাবি
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৩২ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক :

ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগ বাণিজ্য ও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত কোটি কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মাহফুজুর রহমান মিল্টন বিপি নং- এবং খুলনা ইস্টার্ন জুট মিলের সহকারী পাট-ক্রয় কর্মকর্তা ইমরান মোল্লার বিরুদ্ধে। সাধারণ এক পুলিশ কনস্টেবল থেকে এসআই পদে উন্নীত হওয়া মিল্টন এবং ওই পাট কর্মকর্তা বর্তমানে বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক, যা জনমনে চরম বিস্ময় তৈরি করেছে।
তাদের অবৈধ সম্পদের দীর্ঘ তালিকার মধ্যে রয়েছে নিজ গ্রামে প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল বাড়ি, যশোর পুলিশ লাইনের পাশে নিজস্ব চার তলা বিশিষ্ট ভবন এবং দেড় কোটি টাকা মূল্যের পাঁচ কাঠা জমি। এছাড়া খুলনার টুটপাড়ায় প্রায় দুই কোটি টাকার বাড়িসহ জমি, সোনাডাঙ্গা কেডিএ আবাসিক এলাকায় ফ্ল্যাট, ঢাকার বসুন্ধরায় আধুনিক ফ্ল্যাট, স্ত্রীর ব্যবহারের জন্য ২০ ভরি স্বর্ণ এবং তার নামে ড্রাগ ও ঠিকাদারি লাইসেন্স রয়েছে। অবৈধ আয়ের টাকায় তারা খুলনার রূপসা থানাধীন বামনডাঙ্গা বাজারে ‘সাবিহা এন্টারপ্রাইজ’ নামে রড-সিমেন্ট ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের তিনটি দোকান, একই বাজারে ২০ লাখ টাকার জমি, গাংনী বাজারে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট শাখা ‘মোল্লা এন্টারপ্রাইজ’ এবং বাগেরহাটের মোল্লাহাটে ৩০ লাখ টাকা মূল্যের এক বিঘা জমি কিনেছেন। শুধু নিজেদের নামেই নয়, অবৈধ অর্থ আড়াল করতে একটি প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন ব্যাংকে আত্মীয়-স্বজনের নামে নগদ অর্থ এবং বোনের মেয়ে ও জামাইয়ের নামে একাধিক বাড়ি-জমি করেছেন অভিযুক্তরা।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে ২০১৮ সালের আগস্ট পর্যন্ত যশোর পুলিশ লাইনে কর্মরত থাকাকালীন এসআই মিল্টন নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা অনৈতিক লেনদেনে জড়িয়ে পড়েন এবং ইমরান মোল্লা পাট ক্রয়-সংরক্ষণে ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে এই বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেন। সম্পদ গড়েই তারা ক্ষান্ত হননি, বরং দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে রাজনৈতিক ও সরকারি চাকরির দাপট দেখিয়ে সাধারণ গ্রামবাসীর ওপর নির্যাতন, হয়রানি এবং প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করে রেখেছেন।
অসাধু এই কর্মকর্তাদের কারণে সরকারের দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার মূল উদ্দেশ্য চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে উল্লেখ করে অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। অবৈধভাবে অর্জিত সমস্ত বিত্ত বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া এবং ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ফাহিমুল ইসলামের স্বাক্ষরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান এবং বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
