ডিসিকে ৩ লাখ টাকা দিয়ে পোস্টিং নিয়েছি, আমাকে তো টাকা উঠাতে হবে

প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

  নিত্য গোপাল তুতু:

ডিসিকে ৩ লাখ টাকা দিয়ে পোস্টিং নিয়েছি। আমাকে তো সে টাকা উঠাতে হবে। প্রকাশ্যে হকারদের মাঝে ১ জন পুলিশ এসআই এই কথা বলে বেড়াচ্ছেন। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে পুলিশ  বক্সের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। 
 

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, রাজধানীর মতিঝিল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ এসআই হাসানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম এবং দুর্নীতিসহ দোকানদার ও হকারের কাছ থেকে নিয়মিত হুমকি-ধামকি মার-ধর করে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ বক্সের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একটি চক্রের মাধ্যমে এসআই হাসানের নেতৃত্বে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীরে কাছ থেকে নির্ষ্টি অঙ্কের টাকা আদায় করা হচ্ছে।

এছাড়া মতিঝিল এলাকার কয়েকটি ভাতের দোকান থেকেও নিয়মিত টাকা নেওয়া হয় এবং মাঝে মাঝে বিনা  পয়সায়েও তাদের দোকান থেকে ভাত খাওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সেনা কল্যাণ ভবনের সামনের দোকানসহ দিলকুশা ও মতিঝিলের বিভিন্ন এলাকায়  ব্যবসায়ীদের কাছ েেকও নিয়মিত র্অ আদায় করা হয়। বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন মোট প্রায় ১২ হাজার টাকা আদায়  করে যাচ্ছেন।

অভিযোগকারীরে দাবি, এসআই হাসান নিজে সরাসরি টাকা না নিয়ে একজন কনস্টেবলকে দিয়ে এসব অর্থ আদায়  করে থাকেন। কোনো হকার বাকানি টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয় বলেও  অভিযোগ রয়েছে। লাইনম্যান  প্রতিদিন ১ হাজার টাকা করে দিয়ে থাকেন বলে  অভিযোগ পাওয়া যায়।
 

স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী আরো অভিযোগ করেন, এসআই হাসান প্রায় এক মাস আগে মতিঝিল পুলিশ বক্সে  যোগদান করেছেন। তিনি হকাররে সারাক্ষণ বলে বেড়ান, ডিসিকে তিন লাখ টাকা নিয়ে পোস্টিং নিয়েছি। সেই টাকা  তো আমাকে উঠাতে হবে। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো নথি বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে হাসানের সাথে টেলিফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগের ভিত্তি  নেই। এ কথা বলেই ফোনটি রেখে নে। এেিক ভুক্তভোগীরা আরো জানিয়েছেন, এসআই হাসান, ভাতের  দোকানদার ময়নাল শফিক নজুর কাছ থেকে সপ্তাহে তুলেন ২হাজার টাকা, মাছ দোকানদার ছোট ফারুক বড়  ফারুকের কাছ েেক ৫হাজার, মাছ দোকানদার রফিকের কাছ েেক ২ হাজার টাকা, এছাড়া প্রতিদিন আলী কো ভবন, ফকিরাপুল জীবন বীমা ভবন, মধুমিতা সিনেমা হল এলাকা থেকে পেমেন্ট তুলেন ১২হাজার টাকা। কেউ টাকা  দিতে না চাইলেই তাকে ফাঁড়িতে ডেকে হুমকি-ধমকি সহ চড়-থাপ্পরও দিয়ে টাকা আদায় করে থাকেন বলে  ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, বিগত ৩০ বছরেও এ ধরনের চাঁদাবাজ পুলিশ অফিসার আসেনি এখানে। আমরা  তার অত্যাচারে দিশেহারা হয়ে উঠেছি। তিনি পুলিশ বিভাগের সুনাম ক্ষুণ্ন করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে ভ্যানে করে বাদাম বিক্রেতাও তার শোসন থেকে রেহায়ই পায়ইনি। তাকে বলেছে প্রতিদিন তুমি ৫০০ করে টাকা দিবা  তা দিতে না পারলে এখানে দোকান নিয়ে বসবে না। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার  জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।