বলাকা রিয়েল এস্টেটের নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মাণ

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৬, ২১:০৮ | অনলাইন সংস্করণ

  এ আর মোল্লা:

রাজউকের নকশা নিয়েও মানছে না বলাকা রিয়েল এস্টেট লিমিটেড। অধিক লাভের আশায় নিন্মমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে নিজেদের মতো নকশা প্রনয়ণ করে ভবন নির্মাণ করছে কোম্পানিটি। সাধারণত প্রতি তলায় রাজউকের নকশায় যে পরিমাণ বর্গফুটের অনুমতি আছে অবৈধভাবে তার চেয়ে অনেক বেশি বর্গফুট নকশা বহির্ভূতভাবে নির্মাণ করে রমরমা বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে কোম্পানিটি।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, কোম্পানিটি পশ্চিম রামপুরা ওয়াবদা রোড উলন মৌজায় একটি ভবন নির্মাণ করছে নকশা অনুযায়ী ভবনটির সম্মুখ (পূর্ব) দিকে সেটব্যাক থাকার কথা ১.৫০ মিটার বাস্তবে আছে ১.৮ মিটার/২.৯০ মিটার/২.৫ মিটার/২.১মিটার ও পশ্চাতে (পশ্চিম) দিকে সেটব্যাক থাকার কথা ১.৫০ মিটার বাস্তবে আছে ১.৪৫ মিটার/০.৭৫ মিটার এবং বামে (দক্ষিণ) দিকে সেটব্যাক থাকার কথা ১.০০ মিটার বাস্তবে আছে ০.৯৫ মিটার/০.৭০ মিটার ও ডানে (উত্তর) দিকে সেটব্যাক থাকার কথা ১.০০ মিটার বাস্তবে আছে ০.৬০ মিটার/০.৭০ মিটার। এমনকি ভবনটিতে যেভাবে যে পরিমাণ ভয়েড রাখার কথা ছিল সেটিও মানা হয়নি। এছাড়া নাম প্রকাশ না করার শর্তে, নির্মাণকাজ সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা প্রতিবেদককে জানান, অধিক লাভের আশায় ভবনটিতে নিন্মমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে শুভঙ্করের ফাঁকি দেয়া হয়েছে। ফলে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এছাড়া বলাকা রিয়েল এস্টেটের অন্যান্য প্রকল্পের একই অবস্থা যা সরেজমিনে অনুসন্ধানে এসব ঝুঁকিপূর্ণ প্রকল্পের সন্ধান পাওয়া যায়।

বাংলাদেশ ভূমিকম্পের প্রবল ঝুঁকিতে থাকায় ইতিমধ্যে রাজউক বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে পদক্ষেপ নেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এমন সময় এ ধরনের নাম সর্বস্ব কোম্পানির ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণ পরিকল্পিত নগরায়নের বড় বাঁধা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি এ ধরনের নাম সর্বস্ব কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে নজির স্হাপন করার তাগিদ দিয়েছেন তারা। নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মাণের ব্যাপারে বলাকা রিয়েল এস্টেটের মালিক আশরাফের মোবাইলে ফোন করলে তিনি কোন মন্তব্য না করে অফিসে আসতে বলেন। তবে পশ্চিম রামপুরা এলাকার রাজউকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আব্দুর রহিম প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, ভবনটির ব্যাপারে আমরা অবগত আছি। ইতিমধ্যে ভবনটির বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ব্যবস্থা এগিয়ে নিয়েছি। আশা করছি দ্রুতই মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আমরা ভবনটি উচ্ছেদ করবো।

আমার বার্তা/এমই