মুখবন্ধ করতে 'ঘুষ' সাংবাদিক দমাতে ভেদরগঞ্জের আরএমও ডাঃ নাছিরের 'বিকাশ মিশন' ফাঁস

প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৬, ১০:০২ | অনলাইন সংস্করণ

  বিশেষ প্রতিনিধি

দুর্নীতির খবর প্রকাশ না করার জন্য এবার সরাসরি গণমাধ্যমকর্মী ও অনুসন্ধানী ইউনিটকে আর্থিক প্রলোভন ও 'ঘুষ' প্রদানের নজিরবিহীন অপচেষ্টা চালিয়েছেন শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আলোচিত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (RMO) ডাঃ মোঃ নাছির উদ্দিন। তবে সেই অনৈতিক প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে টাকা ফেরত দিয়ে সততার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে অনুসন্ধানী টিম। গত ১৯ জুন রাতে ওনার দুর্নীতি ও ছদ্মনামের সিন্ডিকেট নিয়ে চারদিকে তোলপাড় শুরু হলে দিশেহারা হয়ে পড়েন ডাঃ মোঃ নাছির উদ্দিন। গণমাধ্যমের মুখ বন্ধ করতে ১৯ জুন রাত ১১টা ১৭ মিনিটে তিনি তার ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বর ০১৯২২২৫৬৯৬৮ থেকে অনুসন্ধানী সাংবাদিক টিমের মোবাইল নম্বরে প্রথম দফায় ১০,১৮৫ টাকা 'রিসিভড মানি' হিসেবে (Trn ID: DFJ5HRKNM1) প্রেরণ করেন।

ডাঃ নাছির উদ্দিনের এই হীন প্রচেষ্টাকে তাৎক্ষণিক নস্যাৎ করে দেয় অনুসন্ধানী সাংবাদিক ইউনিট। ওনার অনৈতিক প্রলোভনের ফাঁদে পা না দিয়ে, টাকা আসার ঠিক ২ মিনিটের মাথায় অর্থাৎ রাত ১১টা ১৯ মিনিটে ডাঃ নাছির উদ্দিনের সেই একই নম্বরে প্রেরিত ১০,১৮৫ টাকা সম্পূর্ণ ফেরত (Send Money) পাঠানো হয় (Trn ID: DFJ9HRKNM1)।

অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, সাধারণ মানুষ লেনদেনের ক্ষেত্রে সাধারণত রাউন্ড ফিগার (যেমন: ১০,০০০ বা ৫,০০০) ব্যবহার করে। কিন্তু ১০,১৮৫ টাকার এই সুনির্দিষ্ট ও হিসাব কষা অংকটি নির্দেশ করে যে, এটি ওনার কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অবৈধ কমিশন বা মডার্ন ক্লিনিকের লভ্যাংশের কোনো পূর্বনির্ধারিত ডিলিংয়ের অংশ হতে পারে। ওনার নিজের নাম রেজিস্ট্রিকৃত ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করায় ওনার অপরাধের অকাট্য 'ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট' তৈরি হয়েছে, যা অস্বীকার করার কোনো আইনি সুযোগ ওনার নেই।

​আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লেনদেন সম্পন্ন হওয়া বা টাকা ফেরত দেওয়াটা বড় বিষয় নয়; দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৬১ ধারা অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মকর্তা কর্তৃক সংবাদ ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে টাকা প্রেরণের সদিচ্ছা ও উদ্যোগটাই সরাসরি শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ (Cognizable Offense)। সরকারি কর্মকর্তা কর্তৃক সংবাদ ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে টাকা প্রেরণের এই অকাট্য ডিজিটাল এভিডেন্স ইতিমধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনি সেলে পাঠানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।


আমার বার্তা /জেএইচ