কেমন হবে রমজান পরবর্তী মাসসমূহ?

প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৩:২৬ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন

রমজান হলো মুমিনদের জন্য একটি আধ্যাত্মিক কর্মশালা। নির্দিষ্ট এক মাস বাইরের দুনিয়া থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন হয়ে আমরা যে আধ্যাত্মিক অনুশীলন করেছি, তার মূল উদ্দেশ্য হলো বাকি ১১ মাস যেন সেই শিক্ষা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কাজে লাগাতে পারি। জীবনের নানা চড়াই-উতরাই আর পরিবর্তনশীল পরিবেশে যেন আমাদের ইমানি শক্তি অটুট থাকে, সেজন্যই আল্লাহ তায়ালা ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে রমজানকে আমাদের মাঝে পাঠিয়েছেন। এর মাধ্যমে রোজাদাররা সব ধরনের প্রতিকূলতায় ধৈর্য ও আত্মসংযমের পাঠ নিতে পারেন।

রমজানের পর প্রত্যেক মুমিনের দায়িত্ব হলো এই শপথ নেওয়া যে, ইবাদত ও নেক আমলের এই ধারা শুধু রমজানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং রমজানে অর্জিত আধ্যাত্মিক সম্পদ এবং হেদায়েতের ওপর আমরা আমৃত্যু অটল থাকব। রমজানে যদি আমরা শয়তানের প্ররোচনা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে সফল হই, তবে রমজান পরবর্তী জীবনে কেন তার সামনে নিজেকে সমর্পণ করব?

এখনই সময় একটু নিভৃতে বসে আত্মসমালোচনা করার। আমাদের ভাবা উচিত, এবারের রমজানে আমরা কি এর হক আদায় করতে পেরেছি? আল্লাহ তায়ালা রোজার যে উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন, তা কি আমরা অর্জন করতে পেরেছি? মৃত্যুর ফেরেশতা দরজায় কড়া নাড়ার আগেই আমাদের ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো চিহ্নিত করে তা সংশোধনের চেষ্টা করা উচিত।

আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে, রোজা রাখার পর আমরা তাকওয়ার কতটুকু কাছাকাছি পৌঁছাতে পেরেছি। পবিত্র কোরআনের সূরা আশ-শামসে ইরশাদ হয়েছে, সেই সফলকাম যে নিজের নফসকে পাপাচার থেকে পবিত্র রেখেছে। আত্মশুদ্ধির প্রথম সোপান হলো সবর ও শোকর। এই এক মাসে আমরা কতটা ধৈর্য ধরতে পেরেছি এবং কতটা আল্লাহর কৃতজ্ঞ বান্দা হতে পেরেছি, সেই হিসাব মেলানো জরুরি।

রমজান শেষে বাকি ১১ মাস শুরুর মুহূর্তে নিজেদের সাথে অঙ্গীকার করা উচিত যে, রমজান পরবর্তী বাকি জীবনও যেন আমরা শরীয়তের বিধান মেনে অতিবাহিত করতে পারি। আমাদের আচার-আচরণ ও চরিত্রেও যেন ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়। রমজানের শেষে কায়মনোবাক্যে দোয়া করা উচিত, আল্লাহ তায়ালা যেন মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ করেন এবং ইসলাম ও মুসলমানদের বিজয় দান করেন। আমিন।