মালয়েশিয়ায় অ্যান্ডি হলকে ৫ লাখ রিঙ্গিত জরিমানা আদালতের

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৩ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

চার বছর আগে মালয়েশিয়ার একটি বিদেশি কর্মী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের দায়ের করা দুটি মানহানির মামলার ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিতর্কিত অভিবাসী অধিকার কর্মী অ্যান্ডি হলকে মোট ৫ লক্ষ রিঙ্গিত (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় দেড় কোটি) জরিমানা পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়েছেন জোহর বাহরু হাইকোর্ট।

মালয়েশিয়ায় প্রায় ১৫ বছর ধরে কালো তালিকাভুক্ত বিতর্কিত এ অভিবাসী অধিকার কর্মীকে এর আগেও দেশটির একটি আদালত থেকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মালয়েশিয়ার আদালত এই জরিমানার নির্দেশ দেন।

মালয়েশিয়ার বিচার বিভাগীয় কমিশনার নোরাদুরা হামজাহ রায় দিয়েছেন যে, এমবুন কারিসমা রিসোর্সেসের পরিচালক আর মুথুসামি অ্যান্ডি হলের বিরুদ্ধে আনা তার অভিযোগ প্রমাণ করতে পেরেছেন। যদিও অ্যান্ডি হল আত্মপক্ষ সমর্থনে আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

আদালত হলকে মানহানিকর বিবৃতি প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে এবং তাকে প্রধান প্রধান প্রিন্ট মিডিয়ার পাশাপাশি ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে মুথুসামির কাছে ক্ষমা চাইতে আদেশ দিয়েছেন।

২০২২ সালের ১২ই এপ্রিল দায়ের করা প্রথম মামলায় মুথুসামি অভিযোগ করেন যে, হল ৬ জানুয়ারি বিভিন্ন কোম্পানি, সরকারি বিভাগ এবং এনজিও সহ অন্তত ৪০ জন প্রাপককে একটি ইমেল পাঠিয়েছিলেন। সেই ইমেলে তিনি মুথুসামিকে শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন পরিষেবা সংস্থা এটিএ-তে একটি পরামর্শক চাকরির প্রস্তাবের মাধ্যমে হলকে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টার জন্য অভিযুক্ত করেন।

প্রসঙ্গত, অভিবাসী অধিকারকর্মী অ্যান্ডি হলের কর্মকাণ্ড নিয়ে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের একটি অংশের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বাংলাদেশি কর্মীদের বিভিন্ন শ্রম বিরোধে যুক্ত করছেন এবং এসব ঘটনায় বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক ও দেশটির শ্রমবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ ছাড়াও অন্যান্য দেশের শ্রমিকদের নানা সমস্যা থাকলেও সেসব বিষয়ে তার ভূমিকা তুলনামূলকভাবে কম।

এ ছাড়া, সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশি কর্মীদের উচ্চ অভিবাসন ব্যয়, মধ্যপ্রাচ্যে ভিসা-সংক্রান্ত প্রতারণা এবং নারী গৃহকর্মীদের নির্যাতনের মতো বিষয়েও তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। এসব কারণে অ্যান্ডি হলের কর্মকাণ্ডকে ঘিরে তিনি শুধু অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করছেন, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে, তা নিয়েও আলোচনা রয়েছে।