ধানাইপানাই না করে দ্রুত কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন করুন : জামায়াত আমির

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ১৯৯৪ সালে যখন সিলেট বিভাগ হয়, তখন একইসাথে কুমিল্লা বিভাগের দাবি উঠেছিল। কিন্তু সেসময় সিলেট বিভাগ হয়েছিল, কুমিল্লা বিভাগ হয়নাই। কুমিল্লাবাসীর অপরাধ কী? আমরা সরকারকে পরিষ্কার বলছি, কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে আর ধানাইপানাই করবেন না। কুমিল্লা বিভাগ দেন, পাশের নোয়াখালী তারাও বিভাগ চাচ্ছেন, তাদেরকেও দেন। কিন্তু কুমিল্লা বিভাগের দাবি যেহেতু ৯৪ সাল থেকে আগে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন করেন।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা পদুয়ার বাজার এলাকায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম লংমার্চে কুমিল্লার পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, খন্দকার মোশতাক সাহেবের বাড়ি এজন্য গোস্যা করে আপা এটাকে বিভাগ দেয়নাই আগে। কুমিল্লা নামে দিবে না বলে ধানাইপানাই করল। আমরা পরিষ্কারভাবে বলি, জেলার নাম নিয়ে যদি বাড়াবাড়ি করা হয়, এটা ওই জেলা এবং বিভাগে বসবাসকারী প্রত্যেকটা মানুষকে অপমান করার সামিল। বর্তমান সরকারও বলেছেন বিভাগ দিবেন, তো দিচ্ছেন না কেন? বিভাগের প্রশাসনিক কাজ করার ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ করুন। এরপর এখানে এয়ারপোর্ট হওয়ার যে বিষয়টা রয়েছে, এখানে একটা ইপিজেড আছে, এখানে প্রশিক্ষণের জন্য একটা এয়ারপোর্টও আছে, সেই এয়ারপোর্টের সম্ভাব্যতা যাচাই করে যদি সবদিক থেকে উত্তম হয়, তাহলে জনগণের জন্য এয়ারপোর্টটাও চালু করেন। কিন্তু বিভাগটা আগে দেন। বিভাগের দাবিটা আগে। কুমিল্লার মানুষকে এখন চট্টগ্রামে দৌড়াতে হয়। এখানে বিভাগ হলে তাদের প্রশাসনিক কাজগুলো এখানেই হবে।

তিনি আরও বলেন, এ সরকার নির্বাচনের আগে যে কথাগুলো দিয়েছিল জনগণকে, তারা কি এটা রক্ষা করছে? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তো সংসদে সব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন। কিন্তু নিজের মন্ত্রণালয়ে তার কোনো খবর নাই। আমরা কী বলব, উনার দলেরই একজন সিনিয়র সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ মাদকের সয়লাবে ভাসছে। আর সবচেয়ে বড় চালান আসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়ি দিয়ে। তিনি তার নিজের বাড়ির মাদকের চালান বন্ধ করতে পারেন না, তিনি আবার সব মন্ত্রীদের দায়িত্ব নিয়ে বসে আছেন। আমরা তাকে বলব, যদি আপনি এই মন্ত্রণালয় থাকেন, আপনি সব ছেড়ে দিয়ে আগে এইটা করেন। আমাদের যুব সমাজকে রক্ষা করেন। দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজকের কর্মসূচি দিয়ে শুরু, প্রত্যেকটা বিভাগীয় শহরে আমাদের লংমার্চ যাবে। এরপরে ঢাকায় মহাসমাবেশ হবে। মহাসমাবেশ কী শুধু চিড়া মুড়ি খাওয়ার জন্য? মহাসমাবেশ হবে দাবি আদায়ের জন্য। আমরা আশাবাদী জনতার বিজয় হবে ইনশাল্লাহ। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন হবে, জুলাই সনদ শতভাগ বাস্তবায়ন হবে এবং দুর্নীতিমুক্ত ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য যতগুলো দাবি আমাদের আছে সবগুলো আদায় করব ইনশাল্লাহ।

কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদের সভাপতিত্বে পথসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলীয় উপনেতা, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপি প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ অন্য উপস্থিত ছিলেন।