স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের জীবনবৃত্তান্ত
প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:১৭ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

সালাহউদ্দিন আহমদ ১৯৬২ সালের ৩০ জুন কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার (বর্তমানে পেকুয়া উপজেলা) এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মৌলভী ছাঈদুল হক এবং মাতা বেগম আয়েশা হক। তিনি পরিবারের দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে চতুর্থ সন্তান।
তাঁর শিক্ষা জীবন ছিল কৃতিত্বপূর্ণ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ছাত্রজীবনে তিনি মেধাবী বিতার্কিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ছাত্রাবস্থায় তাঁর রাজনৈতিক জীবনও ছিল উজ্জ্বল, সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময়। তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রজীবনে আশির দশকে স্বৈরশাসন বিরোধী সংগ্রামে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্যারিয়ারের অধিকারী। তিনি কয়েকবছর ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। সপ্তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে তিনি বেশ কয়েকবছর ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৯১-৯৬ মেয়াদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে তিনি ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসন থেকে একটানা তিনবার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় তিনি যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর কার্যকালে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধিত হয়।
তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সর্বোচ্চ ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনের সময় তিনি দলের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র হিসেবে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে ভূমিকা পালন করেন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দলের হাল ধরে তিনি তৃণমূলের কর্মীদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে দলের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ২০১৫ সালের ১০ই মার্চ তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকার কর্তৃক গুমের শিকার হয়ে দীর্ঘ প্রায় সাড়ে নয় বছর নির্বাসিত জীবন যাপন করতে বাধ্য হন। ৫ আগস্ট ২০২৪ এর ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন হলে তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন করেন।
দেশে প্রত্যাবর্তনের পর তিনি জাতীয় ঐক্য ও রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত ধারাবাহিক রাজনৈতিক সংলাপে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অংশীজনের মধ্যে আস্থা ও সমঝোতা তৈরিতে অবদান রাখেন। এই সংলাপসমূহ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারায় প্রত্যাবর্তনের পথ সুগম করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যেখানে তাঁর বিচক্ষণতা, সংলাপ দক্ষতা এবং বাস্তবধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়।
তিনি বিভিন্ন সময়ে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনার, দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও কনফারেন্সে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
বর্তমান জাতীয় সংসদে তাঁর সাংবিধানিক জ্ঞান, সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনা এবং গঠনমূলক আলোচনায় সক্রিয় অংশগ্রহণ সংসদের কার্যক্রমকে আরো প্রাণবন্ত ও কার্যকর করে তুলছে। দেশের সংবিধান ও রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো সম্পর্কে তাঁর সুগভীর অনুধাবন বিভিন্ন জটিল জাতীয় ইস্যু সমাধানে অবদান রাখছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ অবসরে বই পড়তে এবং বাগান করতে পছন্দ করেন। তিনি একজন দক্ষ সংগঠক এবং স্পষ্টভাষী নেতা হিসেবে পরিচিত। তাঁর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞা তাঁকে জাতীয় রাজনীতিতে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং দুই পুত্র ও দুই কন্যা সন্তানের জনক। তাঁর স্ত্রী হাসিনা আহমেদ, যিনি নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য এবং একজন সফল নারী নেত্রী।
