শরিয়া আইন নিয়ে জামায়াত আমিরের বক্তব্যে অসংগতি দেখেন না মামুনুল হক

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:১২ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

যে তিন কারণ দেখিয়ে ১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে গেছে ইসলামী আন্দোলন, তার মধ্যে একটি হচ্ছে– জামায়াত ক্ষমতায় গেলে শরিয়া আইন প্রচলন করবে না। দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে বাংলাদেশে শরিয়া আইন বাস্তবায়ন করবেন না বলে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়কে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের দেওয়া আশ্বাসের বক্তব্যে কোনো অসংগতি দেখছেন না বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

এর আগে তিনি জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

ইসলামী আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়েছিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে শরিয়া আইন প্রচলন করবে না, এর ব্যাখ্যা কীভাবে দেবেন? জবাবে মামুনুল হক বলেন, জামায়াত আমিরের কথার মূল অর্থ হলো, যে প্রক্রিয়ায় বর্তমানে দেশ চলছে, নির্বাচন হচ্ছে, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার মধ্য দিয়ে রাজনীতির ধাপে ধাপে অগ্রসর হতে হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় এক দফার মধ্য দিয়ে হঠাৎ করে একদিনেই শরিয়া আইন বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়, সেটিই জামায়াত আমির বলেছেন। এ কথার মধ্যে কোনো অসংগতি নেই।

শেষ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলন না থাকার পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র আছে কি না– জানতে চাইলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, ষড়যন্ত্র আছে এমনটা মনে হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত সবাই মিলে একসঙ্গে নির্বাচন করতে না পারাকে নিজেদের ব্যর্থতা বলেই ধরে নেওয়া যায়।

ইসলামী আন্দোলনের সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়া আগামী নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে কি না– জানতে চাইলে তিনি বলেন, সম্মিলিতভাবে ঐক্যের প্রতি মানুষকে আহ্বান জানানো হয়েছিল। সেই অঙ্গীকার থেকে সরে যায়নি দলগুলো। তাই খুব বেশি প্রভাব পড়বে বলে মনে হয় না।

ইসলামী আন্দোলন সরে যাওয়ায় ফাঁকা থাকা ৪৭টি আসন ১০ দলের সমঝোতার আলোকেই বণ্টন হবে বলে জানান মামুনুল হক।

তিনি বলেন, শুরু থেকে যে প্রক্রিয়ায় আসন বণ্টন হয়েছে, ইসলামী আন্দোলন না আসায় সমঝোতার ভিত্তিতে একই প্রক্রিয়ায় আসন বণ্টন হবে। যে আসনে যে দলের প্রার্থীকে সবচেয়ে শক্তিশালী মনে করা হবে, তাকেই একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, সমঝোতা হওয়া আসনগুলোতে যে দলের প্রার্থী থাকবে, তিনি বাদে বাকিরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন। ঐক্যবদ্ধভাবে সেটি প্রত্যাহার করা হবে। ১৯ জানুয়ারির আগে অন্য কোনো কিছুর সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। গতকাল ইসলামী আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলনের পরে তারা ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ধরে নিয়েই ১০ দল কর্মপরিকল্পনা সাজাচ্ছে।

ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে আসন সমঝোতার আর কোনো সুযোগ আছে কি না– সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে মামুনুল হক বলেন, এই মুহূর্তে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে আসন সমঝোতার আর কোনো সুযোগ নেই। তবে রাজনৈতিক সমঝোতা হতে পারে।

ইসলামী আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলনে ১০ দলের মধ্যে থাকা ইসলামপন্থি দলগুলো ঠিক পথে আছে কি না এমন প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আপনারা ঠিক পথে আছেন কি না?

জবাবে তিনি বলেন, আমাদের দল ঠিক পথেই আছে। সবার অনুভূতি এক হয় না। অন্যের অনুভূতিকে শ্রদ্ধা জানায় আমাদের দল।


আমার বার্তা/এমই