নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কূটনীতি, আকাশে নতুন উড়োজাহাজ—প্রশ্ন এখন সেবার মান নিয়ে

প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৯ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

সুপ্রভাত। নিউইয়র্কে আজ বাংলাদেশের বড় দিন। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বমঞ্চে ভাষণ দেবেন নিজ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে —রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু, শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অগ্রাধিকার তাঁর বক্তব্যে জায়গা পাবে। নিউইয়র্কের আকাশে যখন বাংলাদেশের কূটনীতির মেঘ জমেছে, ঠিক তখনই আরেকটি মেঘ একটু আনন্দের—বোয়িংয়ের সঙ্গে আরও ১১টি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে; আগের ১৪টির সঙ্গে মিলিয়ে বিমানের বোয়িং বহরে পরিকল্পিত উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াল ২৫। মার্কিন রাষ্ট্রদূতও এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। বড় উড়োজাহাজ আসছে, এখন বড় প্রশ্নটি একটু ছোট—বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর যাত্রীকে কতটা বড় সেবা দেওয়া যাবে? ফেসবুক-এক্সে তাই অভিনন্দনের পাশাপাশি সময়ানুবর্তিতা, ব্যবস্থাপনা ও যাত্রীসেবার মান উন্নত করার দাবিও বেশ জোরালো। 

রাষ্ট্রের উন্নয়নের এই বড় ছবির নিচে অবশ্য মানুষের দৈনন্দিন ছবিটিও আছে। জ্বালানি ও গ্যাসের সংকট, বাড়তি পরিবহন ব্যয় এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের টানাপোড়েন অর্থনীতির শরীরে ছোট ছোট কাঁটার মতো বিঁধছে। পরিবেশের ক্ষেত্রেও একই গল্প—অবৈধ ইটভাটার সার্বিক পরিস্থিতির রিপোর্ট তৈরির নির্দেশ এবং কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা মনে করিয়ে দেয়, উন্নয়ন যদি ধোঁয়া হয়ে আকাশে উঠে যায়, তবে তার হিসাব একদিন মানুষকেই দিতে হয়। সম্পাদকীয় পাতায় নৌপরিবহনের আধুনিকায়নের পাশাপাশি যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে; অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব শিল্প ও ICT খাতে অর্থায়নে ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার কথাও এসেছে। অর্থাৎ উন্নয়ন চাই—তবে তার সঙ্গে একটু নিরাপত্তা, একটু সবুজ আর একটু বুদ্ধিমান অর্থনীতিও চাই।

সামাজিক মাধ্যমও আজ বড় বিমান থেকে ছোট প্রতারণা—সবকিছুর হিসাব রাখছে। বোয়িং চুক্তি নিয়ে একদল বলছে, এটি দেশের এভিয়েশন খাতের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ; আরেক দল বলছে, নতুন বিমান যতই আসুক, বিমানের ঘড়ি যদি সময়মতো না চলে, তবে যাত্রীর আনন্দটা রানওয়েতেই আটকে থাকবে। একই সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম ভাঙিয়ে ভুয়া গ্রেপ্তার, দুর্ঘটনা বা চিকিৎসার কথা বলে পরিবারকে আতঙ্কিত করে টাকা আদায়ের ‘ফেক অ্যারেস্ট স্কেয়ার’ নিয়েও সচেতনতামূলক পোস্ট ছড়াচ্ছে। প্রযুক্তি মানুষকে আকাশে তুলেছে, প্রতারককেও একটু ডানা দিয়েছে—তফাৎ শুধু, একজন টিকিট কাটে, অন্যজন ভয় দেখায়।

আন্তর্জাতিক মঞ্চেও আজ বড় খেলোয়াড়দের ছোট-বড় চাল। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রায় আট ঘণ্টার বৈঠকে AI-সংক্রান্ত ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব এসেছে; এরপর ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক নিয়ে বিশ্বজুড়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এদিকে জাতিসংঘে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি আন্তর্জাতিক সংস্থাটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, আর মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে। পৃথিবী তাই আজ বেশ ব্যস্ত—কেউ উড়োজাহাজ কিনছে, কেউ AI নিয়ন্ত্রণের নিয়ম খুঁজছে, কেউ শান্তির ভাষণ লিখছে। মুশকিল হলো, সাধারণ মানুষ এসবের শেষে শুধু একটিই জিনিস খোঁজে—জীবনটা যেন একটু নিরাপদ, যাত্রাটা যেন একটু সময়মতো, আর আগামীকালটা যেন আজকের চেয়ে সামান্য ভালো হয়।