দিকপাল চলচ্চিত্রকার ও সাংবাদিক ফজলুল হক এবং তাঁর সাংস্কৃতিক বলয়

প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬, ১৭:৪৮ | অনলাইন সংস্করণ

  হাসনাইন সাজ্জাদী:

প্রাচীন বাংলার উত্তর ও পশ্চিমাংশে অবস্থিত এক সমৃদ্ধ জনপদ ছিল পুণ্ড্রদেশ বা পুণ্ড্রবর্ধন। যার মাটি ও মানুষ ছিল সোনার মত খাটি। সেই জনপদের আরেক নাম উত্তর বঙ্গ। উত্তর বঙ্গ জনপদের  আধুনিক বাংলায় জন্ম নেন এক খাটি মানুষ। তাঁর নাম ফজলুল হক। তবে মনি চৌধুরী নামে তিনি চলচ্চিত্র সাংবাদিকতা, নির্মাণ ও  শিল্প -সংস্কৃতির অঙ্গনে ছিলেন সরব। বাংলাদেশ ও কলকাতায় এখন এই নাম সম্মানের সঙ্গে উচ্চারিত হয়। তিনি যখন সিনেমা পত্রিকা প্রকাশ করেন এবং চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন তখন বাঙালি মুসলমান কেন? বাঙালি হিন্দুদেরকেও খোঁজে পাওয়া ছিল দুষ্কর। তখনকার দিনে চলচ্চিত্র পত্রিকার সম্পাদক হওয়া এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবেন পরিচয় দেওয়াটা স্বপ্নের মতোই শোনাতো। মাটি থেকে যেমন বৃক্ষ কিংবা বৃক্ষ থেকেই যেমন ফল হয় তেমনি পুণ্ড্রবর্ধন থেকে মনি চৌধুরী বা ফজলুল হক হলেন ঐতিহাসিক ভূমিপুত্র।

গৌড়বঙ্গের উত্তর-পশ্চিমাংশে অবস্থিত এই গুরুত্বপূর্ণ জনপদ পুণ্ড্রদেশ যার রাজধানী ছিল মহাস্থানগড় (বর্তমান বগুড়া জেলায়)। মহাস্থানগড় বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগরসভ্যতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। এটি বর্তমান মহাস্থানগড়-এ অবস্থিত। প্রাচীনকালে এই নগরীর নাম ছিল পুণ্ড্রনগর বা পুণ্ড্রবর্ধন, যা পুণ্ড্রবর্ধন জনপদের রাজধানী হিসেবে পরিচিত ছিল।

ইতিহাস-ঐতিহ্য 

মহাস্থানগড়ের ইতিহাস প্রায় আড়াই হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো। ধারণা করা হয়, খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে সম্রাট অশোক-এর আমলেও এখানে জনবসতি ছিল। এটি মৌর্য, গুপ্ত, পাল ও সেন শাসনামলে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র ছিল। ১৯৩১ সালে এখানে আবিষ্কৃত মহাস্থান ব্রাহ্মী শিলালিপি বাংলার প্রাচীনতম লিখিত নিদর্শনগুলোর একটি।

স্থাপত্য ও প্রত্ননিদর্শন

মহাস্থানগড় একটি দুর্গনগরী। এর চারদিকে উঁচু প্রাচীর ও পরিখার চিহ্ন দেখা যায়। উল্লেখযোগ্য স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে—গোবিন্দ ভিটা, খোদার পাথর ভিটা,বৈরাগীর ভিটা, জিয়ৎ কুণ্ড এবং মহাস্থান প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর। সুতরাং এখানেই ফজলুল হক জন্ম নিবেন এটাই স্বাভাবিক। 

লোককথা ও কিংবদন্তি

মহাস্থানগড়কে ঘিরে বহু লোককথা প্রচলিত আছে। বিশেষ করে শাহ সুলতান মাহিসওয়ার-এর আগমন ও প্রচারকাজের কাহিনি স্থানীয়ভাবে খুবই জনপ্রিয়।
এছাড়াও রয়েছে এর সাংস্কৃতিক গুরুত্ব। মহাস্থানগড় শুধু একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান নয়; এটি বাঙালির প্রাচীন ইতিহাস, নগরসভ্যতা, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিকাশের এক মূল্যবান সাক্ষী। বাংলাদেশের ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব গবেষণায় এর গুরুত্ব অপরিসীম।

মহাস্থানগড়কে অনেকেই বাংলাদেশের “প্রাচীন রাজধানীর ধ্বংসাবশেষ” বলে অভিহিত করেন, কারণ এটি বাংলার সুপ্রাচীন নগরজীবনের এক জীবন্ত দলিল।

সেই জনপদে জন্ম নেওয়া এই প্রতিভাধর সত্তা যার আলোর রেখা বঙ্গজয়ী হয়। মৌর্য, গুপ্ত, পালসহ বিভিন্ন শাসনামলে এই অঞ্চল রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ ছিল। তার ঐতিহ্য পথে তিনি সমৃদ্ধ করেন গোটা বঙ্গ সংস্কৃতিকে।

তিনি যখন পত্রিকা সম্পাদনা করেছিলেন এ উত্তর বঙ্গ থেকে। ঢাকা তখনো সাংস্কৃতিক বলয় হয়ে উঠেনি। কলকাতার পরেই উত্তর বঙ্গ যার আওতায় কুচবিহার ও জলপাইগুড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। যার মাটি ও মানুষের প্রতিভূ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। তাঁর সম্পাদিত সিনেমা বিষয়ক পত্রিকার মান ও বিষয়বস্তু আজকের দিনের প্রযুক্তিগত আঙ্গিকেরও আগেকার সাফল্যগাথা। বাঙালি সংস্কৃতির গোড়ায় দিকটাতে কত শক্তিশালী ছিল মনি চৌধুরীর কর্মকাণ্ড যা গবেষকদের রীতিমত বিস্মিত করে। তাই তাঁকে ( ফজলুল হক) বৃহত্তর বঙ্গে একজন পথিকৃত চলচ্চিত্র সাংবাদিক ও সম্পাদক হিসেবে নমস্য ধরা হয়। তিনি শিশু চলচ্চিত্রের নির্মাতা ও পথপ্রদর্শক ছিলেন।

ফরিদুর রেজা সাগর 

ফরিদুর রেজা সাগর বাংলাদেশের শিশু সাহিত্য, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র জগতের একটি অত্যন্ত পরিচিত নাম। তিনি ১৯৫৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ছিলেন চলচ্চিত্র পরিচালক ফজলুল হক এবং মা ছিলেন খ্যাতিমান সাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন। তিনি চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। শিশুতোষ চলচ্চিত্র প্রেসিডেন্ট এর তিনি কেন্দ্রীয় চরিত্র ছিলেন।

শিশু অভিনেতা হিসেবে সূচনা

ফরিদুর রেজা সাগর মাত্র শিশু বয়সেই অভিনয়ে যুক্ত হন। ১৯৬৬ সালে তাঁর বাবা ফজলুল হক নির্মিত শিশুতোষ চলচ্চিত্র "প্রেসিডেন্ট" (কিছু সূত্রে Son of Pakistan নামেও উল্লেখিত) চলচ্চিত্রে তিনি প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। এটিকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানই নয় বরং ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম শিশুতোষ চলচ্চিত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তাঁর বোন কেকা ফেরদৌসী-ও এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন।

শিশু সাহিত্যিক হিসেবে অবদান

ফরিদুর রেজা সাগর শিশু-কিশোরদের জন্য ৫০টিরও বেশি বই রচনা করেছেন। তাঁর লেখার বিষয়বস্তু বৈচিত্র্যময়—অভিযান, রহস্য, বিজ্ঞান কল্পকাহিনি, মুক্তিযুদ্ধ, ভ্রমণ ও স্মৃতিকথা। শিশুদের কল্পনা ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে তাঁর লেখার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। 

গণমাধ্যম ও চলচ্চিত্রে ভূমিকা

তিনি বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান চ্যানেল আই এবং ইমপ্রেস টেলিফিল্ম-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর প্রযোজনায় বহু প্রশংসিত চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে আমার বন্ধু রাশেদ, দারুচিনি দ্বীপ এবং কৃষ্ণপক্ষ অন্যতম।

সম্মাননা

শিশু সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ২০০৫ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। পরে গণমাধ্যমে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৫ সালে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক অর্জন করেন। 

ফরিদুর রেজা সাগরের জীবনকে এক কথায় বলা যায়—শিশু অভিনেতা থেকে শিশু সাহিত্যিক, সেখান থেকে চলচ্চিত্র প্রযোজক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব—বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক বহুমাত্রিক যাত্রা। তাঁর অভিনীত প্রেসিডেন্ট চলচ্চিত্রটি বাংলা শিশু চলচ্চিত্রের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে স্মরণীয়। 

ফজলুল হক  নির্মিত প্রেসিডেন্ট  (President) চলচ্চিত্রটি ভারতবর্ষের প্রথম শিশু চলচ্চিত্র হিসেবে চিহ্নিত। চলচ্চিত্রটি বৃহত্তর বঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে শুট হয়েছিল, যাতে দেশ সম্পর্কে শিশুদের সচেতনতা বৃদ্ধি প্রাধান্য পেয়েছিল ।

তাঁর অবদানের প্রতি সম্মান হিসেবে ফজলুল হক স্মৃতি পদক ( Fazlul Haque Memorial Award) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যা প্রতি বছর চিত্রজগত এবং চলচ্চিত্র সাংবাদিকতায় অবদান রাখা ব্যক্তিদের মধ্যে প্রদান করা হয়। এ ছাড়াও স্মারক অডিটোরিয়াম তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে। আমরা জানি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের (BFDC) প্রধান অডিটোরিয়ামগুলোর একটিকে তাঁর নামে নামকরণ করা হয়েছে ।

পারিবারিক জীবন ও উত্তরাধিকার

ফজলুল হক এর সহধর্মিণী: প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক রাবেয়া খাতুন; তিনি বাংলাদেশের অন্যতম বিশিষ্ট সাহিত্যিক, ৫০টিরও বেশি উপন্যাস এবং ৪০০ এর অধিক ছোটগল্পের রচয়িতা তিনি। তাঁর নামে বাংলা একাডেমি থেকে কথাসাহিত্যে স্মারক সাহিত্য সম্মাননা প্রদান করা হয় ।

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রথিতযশা কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন-এর সাহিত্য প্রতিভা ছিল বিস্ময়কর। তিনি ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে সাহিত্যচর্চা করেছেন এবং ৫০টিরও বেশি উপন্যাস, ৪০০-রও বেশি ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনি, প্রবন্ধ, গবেষণাগ্রন্থ ও শিশুতোষ রচনা লিখেছেন। 

রাবেয়া খাতুনের সাহিত্য প্রতিভার প্রধান বৈশিষ্ট্য

১. মানবজীবনের সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ রাবেয়া খাতুন মধ্যবিত্ত জীবনের সুখ-দুঃখ, আশা-নিরাশা, প্রেম-বিরহ ও পারিবারিক টানাপোড়েনকে অত্যন্ত জীবন্তভাবে তুলে ধরেছেন। তাঁর চরিত্রগুলো বাস্তব জীবনের মানুষের মতোই স্বাভাবিক ও বিশ্বাসযোগ্য। 

২. নারীজীবনের শক্তিশালী উপস্থাপন তিনি এমন সময়ে লেখালেখি শুরু করেন, যখন নারী লেখকদের জন্য পথ সহজ ছিল না। তাঁর রচনায় নারীর অনুভূতি, সংগ্রাম, আত্মমর্যাদা ও সামাজিক অবস্থান গভীর মানবিকতায় ফুটে উঠেছে। 

৩. ইতিহাস ও সমাজচেতনা মুক্তিযুদ্ধ, সামাজিক পরিবর্তন, গ্রামীণ জীবন ও নগরজীবনের রূপান্তর তাঁর সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে। ব্যক্তিগত গল্পের ভেতর তিনি বৃহত্তর সমাজের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন।

৪. সহজ অথচ হৃদয়গ্রাহী ভাষা তাঁর ভাষা ছিল সাবলীল, প্রাঞ্জল ও পাঠকবান্ধব। জটিল ভাবনাকেও তিনি সহজ ভাষায় প্রকাশ করতে পারতেন, ফলে সাধারণ পাঠক থেকে সাহিত্যরসিক—সকলের কাছেই তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। 

রাবেয়া খাতুনের উল্লেখযোগ্য রচনা

তাঁর বিখ্যাত উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে— মধুমতী, একাত্তরের নয় মাস, মেঘের পরে মেঘ,কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি, বাগানের নাম মালনীছড়া এবং ই ভরা ভাদর মাহে ভাদর।

সম্মাননা

তাঁর অসামান্য সাহিত্যকীর্তির স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক এবং স্বাধীনতা পুরস্কার,ট্রাব আজীবন সম্মাননা লাভ করেন। 

রাবেয়া খাতুনের সাহিত্য প্রতিভার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল মানুষের জীবনকে গভীর মমতা ও বাস্তবতার আলোকে দেখার ক্ষমতা। তাই তাঁর রচনা আজও পাঠকের হৃদয়ে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক ও আবেদনময়।

তাদের পুত্র কন্যারা 

তাঁদের পুত্র কন্যারা বাংলাদেশের শিল্পসাহিত্য ও সাংবাদিকতায় সুপরিচিত মুখ। তার পুত্র ফরিদুর রেজা সাগর সম্পর্কে কে না জানে? তিনি চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব। শিশু সাহিত্যে তিনি বাংলা একাডেমি ও একুশে পুরস্কার প্রাপ্ত।  আগেই বলেছি তিনি বাবার নির্মিত শিশু- চলচ্চিত্র প্রেসিডেন্ট ( President)–এ ছোট বেলায় মূল ভূমিকায় অভিনয় করেন। আজ তিনি বাংলাদেশের একজন গর্বিত ও প্রভাবশালী মিডিয়া মুঘল। চ্যানেল আইয়ের প্রতিষ্ঠাতা, আনন্দ আলোর প্রকাশনা অংশীদার , ছাড়াও চলচ্চিত্র প্রযোজক, গল্পকার ও ছোটো কাকু চরিত্রের জনক তিনি। এ পর্যন্ত অনেক উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেছেন ইমপ্রেস টেলিফিল্ম থেকে বানিয়েছেন ছোটে পর্দা ও বড়ো পর্দার পরিচালক, অভিনেতা ও অভিনেত্রী। প্রয়াত কিংবদন্তি ফজলুল হকের রক্তের উত্তরাধীকার বলে কথা 

জন্ম ও বিদায়

ফজলুল হকের জন্ম: ২৬ মে ১৯৩০ খ্রিষ্ঠাব্দ বগুড়া, ব্রিটিশ ভারতের বর্তমান বাংলাদেশ অংশে । মৃত্যু: ২৬ অক্টোবর ২০০৩ (বয়স ৭৩) কলকাতায়। পেশায় সাংবাদিক, চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক। তাঁর কর্মজীবন ১৯৫০-২০০৩।
দাম্পত্য সঙ্গী কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন এবং সন্তান ১.কেকা ফেরদৌসী ২.ফরিদুর রেজা সাগর,৩ ফরহাদুর রেজা প্রবাল,৪. ফারহানা মাহমুদ কাকলী।

শেষকথা

ফজলুল হক ছিলেন চলচ্চিত্র সাংবাদিকতা ও শিশু চলচ্চিত্র–এর একজন পথিকৃত, যিনি সিমেমা (Cinema) ম্যাগাজিনের মাধ্যমে সাংবাদিকতার একটি ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন এবং তাঁর নির্মিত প্রেসিডেন্ট( President) একটি প্রগতিশীল শিশু চলচ্চিত্র। তিনি  প্রেসিডেন্ট চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে চলচ্চিত্র শিল্পে একটি গুরুত্বপূর্ণ দাগ রেখেছেন। তাঁর পরিবারেও তাঁর সংস্কৃতি ও শিল্প-প্রবণতা উত্তর প্রজন্মে বহন করছে। আগেই বলেছি- তাঁর স্ত্রী ঔপন্যাসিক রাবেয়া খাতুন এবং পুত্র ফরিদুর রেজা সাগর, যিনি নিজে আজকের দিনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।

তাঁর সম্পাদিত “সাপ্তাহিক সিনেমা” পত্রিকা তখনকার দিনে ছিল সৃজনশীলতায় বৈশিষ্ট্য। পত্রিকাটি বিনোদন ও চলচ্চিত্র বিষয়ক ম্যাগাজিন ছিল। বর্তমান সময়ে এটি বাংলাদেশের সাপ্তাহিক বিনোদন বা সিনেমা বিষয়ক পত্রিকার ইতিহাসের সবচেয়ে আধুনিক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাঁর সাংবাদিকতায় ফটোগ্রাফ, প্রিন্ট লেআউট, কম্পোজিশন, আর্টওয়ার্ক—সকল বিষয়ের গভীর জ্ঞান ছিল এবং তিনি নিজেই প্রথম ছাপা কপি হাতে নিতেন।

আলো ছড়িয়ে আড়ালে চলে যাওয়া এই মহান ব্যক্তি আজ বাঙালি সংস্কৃতির নির্মাতাদের একজন। তার বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা অবিরাম। তার পরিবারটি আলো জ্বালিয়ে রেখেছে বাংলাদেশের মিডিয়া, শিল্প-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক জগতে।

লেখক : কার্যনির্বাহী সদস্য, ফজলুল হক গবেষণা কেন্দ্র, সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য, বাচসাস।


আমার বার্তা/এমই