স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ, লক্ষ্য ৩০০ মেগাওয়াট

মীর শাহে আলম

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৫ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও হাটবাজারে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। এ কর্মসূচিতে প্রাথমিকভাবে ৩৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব ব্যবহারের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয় এক ব্রিফিংয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এসব তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের স্থানীয় সরকারের যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান আছে এলজিইডি সদর দপ্তর, সমস্ত সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, নির্বাহী প্রকৌশলী এলজিইডির দপ্তরগুলো, ওয়াসা, জনস্বাস্থ্য এবং সারা বাংলাদেশের যত হাটবাজার বা গ্রোথ সেন্টার আছে এটা সংখ্যা ৬ হাজার ৫৪৪টি।

এই ৬ হাজার ৫৪৪টি প্রতিষ্ঠানের রুফটপে বা ছাদে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, এজন্য এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমরা এডিবি বরাদ্দ থেকে টাকা ছাড় করেছি এবং আলাদা আলাদা চিঠি দিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আমরা এই কর্মসূচি আগামী জানুয়ারির ২৭ তারিখের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য এ সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে টাকা ছাড় করেছি ৩৭০ কোটি টাকা।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে কথা বলে আমরা একটা স্ট্যান্ডার্ড হিসাব নিয়েছি এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগেও তার একটা হিসাব দিয়েছে যে ৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ছাদে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে খরচ হবে প্লাস-মাইনাস ৩ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা। এই ৩ লক্ষ ২৬ হাজার টাকার হিসাবকে প্লাস-মাইনাস করেই আমরা বাংলাদেশের সমস্ত ইউনিয়ন পরিষদ যেখানে বিল্ডিং আছে ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন হাজার। সাড়ে তিন হাজার ইউনিয়ন পরিষদে আমরা টাকা ছাড় করেছি।

তিনি বলেন, আমাদের হাটবাজারের সংখ্যা সারা বাংলাদেশে ৬ হাজার ৫৪৪টি। হাটবাজারের যে অর্থ উপজেলা উন্নয়ন তহবিল থেকে ব্যয় করা হয়, এর ১৫% এবং ১০% টাকা সংশ্লিষ্ট হাটের উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট হাটের ব্যয় করার জন্য নীতিমালাতে নির্ধারিত আছে। আমরা টাকাও পাঠিয়েছি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদেরকে আলাদা চিঠি দিয়ে নির্দেশনা দেওয়া আছে যে, হাটবাজার উন্নয়নের যে টাকা, এই টাকা থেকে তারা তাদের হাটের যে রুফটপগুলো বা ছাদগুলো আছে সেই ছাদে তারা প্যানেল তৈরি করে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তারা ব্যবহার করবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের টার্গেট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিত্যক্ত ছাদকে ব্যবহার করে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চাচ্ছি প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট। এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্দেশ্য হচ্ছে, তারা যে ১৫০ মেগাওয়াট ব্যবহার করবেন, আর বাকি ১৫০ মেগাওয়াট সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্যাকেজ অনুযায়ী নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে ১০ টাকা ৫০ পয়সা হিসাবে জাতীয় গ্রিডে এই স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো বিদ্যুৎ সরকারের কাছে বিক্রি করবে।

তিনি বলেন, বিক্রি করলে আমরা হিসাব করে যেটা দেখেছি, আমরা যে টাকা ছাড় করছি এবং তারা যে টাকা ব্যয় করবে, ১০ টাকা ৫০ পয়সা হিসেবে তারা যদি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরকারের কাছে জাতীয় গ্রিডে দিয়ে বিক্রি করে বা গ্রিডে দিয়ে বিক্রি করে টাকা পায়, তাহলে ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে ব্যয়কৃত অর্থ আমাদের উঠে আসবে।