তারা ‘ফ্যাসিস্টের দালাল সাংবাদিক’ হিসেবে কারাগারে আছে: তথ্যমন্ত্রী
প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪:০২ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে যারা ফ্যাসিবাদের দালালি করেছে এবং বিভিন্ন অপরাধে সহযোগী ভূমিকা পালন করেছে, সেই দালাল সাংবাদিকরা আজ কারাগারে রয়েছে। এই মহান পেশার মান-মর্যাদা রক্ষা করতে হলে অপসাংবাদিকতা ও ব্ল্যাকমেইলিং বন্ধ করার বিকল্প নেই।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর সার্কিট হাউসের তথ্য ভবনে ‘সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশন’-এর ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, একটি আধুনিক রাষ্ট্র ও সমাজকে টিকিয়ে রাখতে গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করতে হবে।
সাংবাদিকতাকে এমন একটি পেশায় পরিণত করতে হবে, যেখানে মেধাবী ও নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ আসবে। অতীতে দেশের বড় বড় ঘটনায় সাংবাদিকদের গৌরবময় ভূমিকা ছিল, কিন্তু কতিপয় সুযোগ সন্ধানীর জন্য এই পেশা কলঙ্কিত হতে পারে না। ক্ষমতার অপব্যবহার ও তার পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, রাজনীতিবিদদের মতো সাংবাদিকদেরও ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু ক্ষমতার অপব্যবহার করে যখন ব্যাংক লুট, শেয়ারবাজার লুট, গুম ও খুনের মতো অপকর্মের সাফাই গাওয়া হয়, তখন দেশের মালিক জনগণ তা মেনে নেয় না।
যার পরিণতি আমরা দেখেছি ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনার অসম্মানজনক পতনের মধ্য দিয়ে। সাংবাদিকতার আড়ালে অপরাধের বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি তথ্যমন্ত্রী বলেন, একদল লোক প্রেস কার্ড ঝুলিয়ে চাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেইলিং ও সিন্ডিকেট তৈরির কাজে মেতে ওঠে। অন্য দল ফ্যাসিবাদের দালালি করে। তথাকথিত এই দালাল সাংবাদিকরা আজ ফ্যাসিবাদের সহযোগী হিসেবে কারাগারে অবস্থান করছে। মূলধারার পেশাদার সাংবাদিকদের স্বার্থেই এদের চিহ্নিত করতে হবে।
সরকারের উদ্যোগ ও স্বাধীন গণমাধ্যমের কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে গণমাধ্যম শতভাগ স্বাধীনতা ভোগ করছে। আমরা প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, ডিজিটাল ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য একটি আধুনিক মিডিয়া ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে কাজ করছি। তবে স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে সাংবাদিকতার নামে ব্ল্যাকমেইলিং বা ভুয়া সংবাদ ছড়ানো বরদাস্ত করা হবে না।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, সংবাদকর্মী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
