অন্তর্বর্তী সরকার তরুণদের ক্ষমতার লোভ শিখিয়েছে: হোসেন জিল্লুর
প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৬, ১৮:৫৩ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

জুলাই অভ্যুত্থানের পর বিপুল জনপ্রত্যাশা নিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার তিনটি ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছেন হোসেন জিল্লুর রহমান, যিনি ২০০৭-০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারে উপদেষ্টা ছিলেন। তাঁর মতে, এর একটি হলো, তরুণদের ক্ষমতালোভী করে তোলা। হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন, মুহাম্মদ ইউনূস সরকার তরুণদের ভুল পথে ‘গাইড’ করেছে। ‘ক্ষমতার লোভটাই’ তাদেরকে শিখিয়ে দিয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন হোসেন জিল্লুর রহমান। এর আয়োজক ছিল যুক্তরাজ্যের সোয়াস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন পরিচালিত আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী গবেষণা কনসোর্টিয়াম সোয়াস অ্যান্টি–করাপশন এভিডেন্স। সভায় সোয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুশতাক খান এবং অধ্যাপক পল্লবী রায় এক-এগারো এবং জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
বাংলাদেশে এক রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল। তখন ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুই বছর ছিল, সেই সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন হোসেন জিল্লুর রহমান।
তার প্রায় দুই দশক পরে তরুণদের নেতৃত্বে অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসন অবসানের পর নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। দেড় বছর পর গত ফেব্রুয়ারিতে সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করে বিদায় নেয় এই সরকার। ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে বিএনপি।
হোসেন জিল্লুর রহমানের মতে, এই অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার প্রধান তিনটি ক্ষেত্র হলো—সরকারে আমলাদের যুক্ত করা, তরুণদের ভুল দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং নিজেদের সংস্কারকে নিজেরাই ছুড়ে ফেলে দেওয়া।
হোসেন জিল্লুর আরও বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তরুণদের মধ্যে ক্ষমতার প্রতি একধরনের আকর্ষণ তৈরি হয়েছে।
হোসেন জিল্লুর রহমানের ভাষ্য, ইউনূস সরকার তরুণদের যথাযথ দিকনির্দেশনা দেয়নি। এর ফলে শৃঙ্খলা ও দীর্ঘমেয়াদি নেতৃত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বড় ঘাটতি রয়ে গেছে। সমাজে শিক্ষাকে কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করার একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থান রাষ্ট্রসংস্কারের যে আওয়াজ তুলেছিল, আমলাতন্ত্রের সঙ্গে সরকারের আপস তাতে বাধা হয়ে উঠেছিল বলে তাঁর পর্যবেক্ষণ।
হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার বুঝতে পারেনি কোন মুহূর্তে সাহসী ও মৌলিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তারা শুরু থেকেই রক্ষণশীল ও নিরাপদ পথ বেছে নেয়। পুরোনো আমলাতান্ত্রিক কাঠামো ভাঙার বদলে একই ধরনের আমলাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানো হয়। যার ফলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের বদলে আগের ব্যবস্থাই কার্যত বহাল থাকে।
অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের ওপর জোর দেওয়ার কথা মুখে বললেও তাতে আন্তরিকতা ছিল না বলে মনে করেন সাবেক এই উপদেষ্টা। তাঁর মতে, সে কারণেই সংস্কারের যে সুযোগ তৈরি হয়েছিল, সেটি পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি।
হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ইউনূস সরকার সংস্কার শব্দটা চালু করেছে। অথচ তাদের নিজেদের তৈরি করা সংস্কার কমিশন যেসব সুপারিশ দিয়েছে, কিছুই তারা দেখেনি। ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। তারা একটা ‘রিফর্ম গেম’ খেলেছে।
আমার বার্তা/এমই
