বন্যা মোকাবিলায় সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বয়ের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬, ১৭:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

বন্যা মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ, ক্ষতিগ্রস্তদের ডাটাবেজ তৈরির সিদ্ধান্ত

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের একটি নির্ভুল ডাটাবেজ তৈরি, বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বীজ সহায়তা এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সভার শুরুতে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সমন্বিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত সেবা ও সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে।

তিনি বলেন, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনরুদ্ধারে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকার দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে।

তিনি ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি ছাড়াই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে হবে।

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের একটি নির্ভুল ডাটাবেজ তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়। একইসঙ্গে তিনি সরবরাহ ব্যবস্থা (সাপ্লাই চেইন) এবং যোগাযোগ অবকাঠামো সচল রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ নিজ নিজ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। পানি নেমে যাওয়ার পর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে।

এ ছাড়া কৃষি খাতের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে নতুন বীজ বিতরণের ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত এবং রোগব্যাধি প্রতিরোধে স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, এলজিইডির আওতাধীন ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কার করা হবে। পাশাপাশি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার অধীন ক্ষতিগ্রস্ত মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ দ্রুত পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ছাড়া, বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে উদ্ধার, ত্রাণ, স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।


আমার বার্তা/এমই