বাজেট নিয়ে বিরোধীদলের সমালোচনা খুব একটা আমলে নিচ্ছি না: সড়কমন্ত্রী

প্রকাশ : ২৮ জুন ২০২৬, ১৭:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনাকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ঘাটতি বাজেট নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ঘাটতি বাজেটের উদাহরণ তুলে ধরেন।

রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, বাজেটে অর্থমন্ত্রী সামাজিক অবকাঠামো খাতে প্রায় ৩০ শতাংশ, ভৌত অবকাঠামো খাতে ১৮ শতাংশের বেশি এবং সাধারণ সেবা খাতে প্রায় ২৬ শতাংশ বরাদ্দ রেখেছেন। অর্থের বরাদ্দের অনুপাত যথাযথভাবে সাজানো হয়েছে।

তিনি বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় খাত। ১৮ কোটি মানুষকে দক্ষ ও যোগ্য করে গড়ে তুলতে বাজেটে যথেষ্ট ও সময়োপযোগী বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই দক্ষ মানবসম্পদ দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া মানুষের সামাজিক সুরক্ষা ও সাধারণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

রবিউল আলম বলেন, রাষ্ট্রের ব্যয় দুই ধরনের। একটি অনুন্নয়ন ব্যয় এবং অন্যটি উন্নয়ন ব্যয়। রাষ্ট্র পরিচালনার অনুন্নয়ন ব্যয় গত অর্থবছরের ৭২ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশে আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে অপচয় কমানো হয়েছে। অন্যদিকে উন্নয়ন ব্যয় ২৭ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো উন্নয়ন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) এবং অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রমে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এডিপিতে তিন লাখ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দের পাশাপাশি আরও ১৬ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন ব্যয় রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে এই বাজেটে দেশের মানুষের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

বাজেট নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সংসদে বাজেট নিয়ে তেমন নেতিবাচক সমালোচনা শোনা যায়নি। কিছু আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে, বিশেষ করে রাজস্ব আয় নিয়ে। তবে রাজস্ব ঘাটতি হবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ই-চালানের মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহ, কর অব্যাহতি কমানো, রাজস্ব ফাঁকি শনাক্ত করা এবং ভ্যাট কাঠামোয় পরিবর্তনের মাধ্যমে রাজস্ব আয় বাড়ানো হবে। বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ব্যাংক ঋণের বিষয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, গত অর্থবছরে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ছিল এক লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা, এবার তা কমিয়ে এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি কমলে জনগণের সঞ্চয় বাড়বে, ফলে ব্যাংক খাতে অর্থের সংকট হবে না।

ঘাটতি বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ বাজেটে জিডিপির ৫ দশমিক ৫ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। চীনের ক্ষেত্রেও তা প্রায় ৪ শতাংশ। তাই বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ঘাটতি বাজেট বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। যারা বাজেট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন, তারা প্রথমবার বিরোধী দলে থেকে অনেক বিষয়ে সমালোচনা করছেন। সরকারি দলের দায়িত্বে থাকলে বিষয়গুলো আরও ভালোভাবে বুঝতে পারবেন।

বিরোধীদলের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, যারা শঙ্কা প্রকাশ করছেন, তাদের জন্য বলতে চাই, প্রথম বিরোধী দল হয়েছেন, অনেক জায়গায় সমালোচনা করতে ভুল করেছেন। সরকারি দল এখনো হন নাই। আমার বিশ্বাস আর দুই-চারবার-পাঁচবার বিরোধী দল থাকলে আস্তে আস্তে তারা সমালোচনাটাও বুঝে যাবেন। আমি ওই সমালোচনাকে খুব একটা আমলে নিচ্ছি না।


আমার বার্তা/এমই